নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের সঙ্গে গোপন বোঝাপড়ার অভিযোগ তুলে মাঠ গরম করছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। এসব অভিযোগ ও পাল্টাপাল্টি মন্তব্যে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বেশ সরগরম হয়ে উঠেছে।
জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে সম্প্রতি বিএনপি ও আওয়ামী লীগের আঁতাত নিয়ে একটি অভিযোগ তোলা হয়। এই অভিযোগের আনুষ্ঠানিক জবাব দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব। গতকাল রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, পরাজিত ফ্যাসিবাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে দেশে যদি কেউ কোনো ধরনের অরাজকতা কিংবা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালায়, তবে দেশের সচেতন জনগণ তা কখনোই বরদাশত করবে না।
বিএনপির এই শীর্ষ নেতা আরও কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, রাজনৈতিক ফায়দা লোটার উদ্দেশ্যে যারা এই পরাজিত শক্তির সঙ্গে গোপন সখ্য গড়ে তুলবে, সাধারণ মানুষের কাছে তারা একদিন স্পষ্টভাবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। জনগণের কাঠগড়ায় তাদের এই ভূমিকা উন্মোচিত হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে কেবল জামায়াত নয়, বেশ কিছুদিন ধরেই একই সুরে কথা বলছে এনসিপির নেতারাও। আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির বোঝাপড়া রয়েছে বলে তারা தொடர்ந்து অভিযোগ করে আসছেন। গত রোববার রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত একটি বিশেষ কর্মসূচিতে বক্তব্য দেওয়ার সময় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এই তীব্র অভিযোগ উত্থাপন করেন।
নাহিদ ইসলাম তাঁর বক্তৃতায় সুনির্দিষ্টভাবে দাবি করেন যে, আওয়ামী লীগের সঙ্গে সুকৌশলে আঁতাত করে ক্ষমতাচ্যুত দলটিকে রাজনৈতিক মাঠে পুনর্বাসিত করার জন্য যা যা করা প্রয়োজন, বর্তমান সরকারের ভেতরে থাকা বিএনপি সমর্থক মহল ঠিক সেভাবেই সবকিছু করে যাচ্ছে।
এই সার্বিক বিষয়ে আরও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন আজকের পত্রিকাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। তাঁর সেই বক্তব্যে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও নির্বাচনী প্রেক্ষাপট নিয়ে দলের সুনির্দিষ্ট অবস্থানের কথা তুলে ধরা হয়েছে।
আখতার হোসেন গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, নিষিদ্ধঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টি উভয়েই দেশের দীর্ঘমেয়াদী স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে কাজ করেছে। তারা বিগত দিনে দেশবাসীর ওপর বর্বর গণহত্যা চালিয়েছে এবং মানবতাবিরোধী গুরুতর অপরাধ সংঘটিত করেছে।
সদস্যসচিব আরও উল্লেখ করেন যে, এই রাজনৈতিক শক্তিগুলো দেশের ভেতরে গুম, বিচারবহির্ভূত খুন, গোপন বন্দিশালা তথা আয়নাঘর তৈরি এবং সর্বগ্রাসী ফ্যাসিবাদ কায়েম করার মতো জঘন্য অপরাধের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিল। ফলে কোনো অবস্থাতেই তারা আগামী দিনে কোনো নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বৈধ অধিকার রাখেনা।
তবে এই কঠোর অবস্থানের ভেতরেও একটি নির্দিষ্ট শর্তের কথা জানান এনসিপির এই শীর্ষ নেতা। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকা সত্ত্বেও যাঁদের বিরুদ্ধে গুম, খুন কিংবা ফ্যাসিবাদী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই, তাঁরা চাইলে এনসিপির নৈতিক সমর্থনে आगामी স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর