ঢাকা | বঙ্গাব্দ

মাদারীপুরে থমকে থাকা ইকোপার্কের অবকাঠামোতে চুরি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 25, 2026 ইং
মাদারীপুরে থমকে থাকা ইকোপার্কের অবকাঠামোতে চুরি ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

মাদারীপুর বন বিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, নয়াচর এলাকার চব্বিশটি পরিবার পুনর্বাসনের আর্থিক সহায়তা পাওয়ার ভরসায় ইকোপার্ক স্থাপনের স্বার্থে নিজেদের জমি হস্তান্তর করেছিল। কিন্তু এই পরিবারগুলোর মধ্যে মাত্র একজন সদস্য অর্থ হাতে পেয়েছেন, বাকিরা এখনো কোনো বরাদ্দ পাননি। এই বঞ্চনার প্রতিবাদে ক্ষতিগ্রস্তরা কাজ আটকে দেওয়ায় প্রকল্পটির বাস্তবায়ন পুরোপুরি স্থগিত রয়েছে। এই সংকট নিরসনে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয় থেকে একটি তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে এবং পাশাপাশি আদালতে আইনি বিরোধও চলমান রয়েছে।

কিছুদিন আগে ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে দেখা মিলেছে যে, পার্কের ভেতরের অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোর ইটগুলো একে একে গায়েব হয়ে গেছে। এমনকি প্রকল্পের কাজে ব্যবহারের জন্য স্তূপাকারে জমা করে রাখা ইটের টুকরো, বালুর আস্তর কিংবা রডের মতো মূল্যবান সামগ্রীও সম্পূর্ণ উধাও।

এ প্রকল্পের সীমানার ভেতরে প্রবেশপথেই রয়েছে বাঁধানো ঘাটযুক্ত একটি সুবিশাল দিঘি, চারটি অবকাশ যাপন কেন্দ্র, পানির সংরক্ষক আধার, অর্কিড চাষের ঘর, দুটি শৌচাগার চত্বর, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন এলাকা, একটি তিনতলা প্রশাসনিক কার্যালয়, বানরদের চিকিৎসার বিশেষ কেন্দ্র এবং শিশুদের বিনোদন কর্নারসহ নানা অবকাঠামো। পর্যাপ্ত দেখাশোনার লোক না থাকায় এই সমস্ত স্থাপনাগুলো বর্তমানে ময়লা-আবর্জনায় ঢেকে গেছে এবং পুরো এলাকা ঘন জঞ্জাল ও ঝোপঝাড়ে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে।

এলাকার বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, অনেক লম্বা সময় ধরে এই বিনোদন কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ পুরোপুরি থমকে আছে। কোনো ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ কিংবা তদারকি না থাকায় পুরো চত্বরটি এখন আগাছা ও বনজঙ্গলে সয়লাব।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, তাদের প্রাপ্য কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলেই তারা বাধ্য হয়ে কাজ আটকে দিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, একবার এই প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হয়ে গেলে তারা আর কখনোই তাদের পাওনা টাকা বুঝে পাবেন না।

মাদারীপুর বন বিভাগের কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে তালিকা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রেরণের পর অর্থ বরাদ্দ হিসেবে দুই কোটি ছয় লাখ টাকা মঞ্জুর করা হয়। ওই ক্ষতিপূরণের অর্থ ২০২৩ সালের জুন মাসে তৎকালীন জেলা প্রশাসকের দপ্তরে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছিল। একজন মাত্র ব্যক্তিকে অর্থ ছাড় করা সম্ভব হলেও, তৎকালীন জেলা প্রশাসকের বদলিসহ নানা প্রশাসনিক জটিলতার কারণে বাকি মানুষেরা আজও তাদের প্রাপ্য অর্থ বুঝে পাননি। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, পুরো প্রকল্পের প্রায় আশি শতাংশ কাজ ইতিমধ্যে শেষ হলেও, জমিদাতাদের দুই দফায় সৃষ্ট বাধার কারণে অবশিষ্ট কাজ সমাপ্ত করা সম্ভব হয়নি।

সূত্র: আজকের পত্রিকা


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
দয়াগঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ১৮

দয়াগঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ১৮