ঢাকা | বঙ্গাব্দ

কলকাতায় পূজামণ্ডপের সামনে বামেদের বইয়ের স্টল ভাঙচুরের ঘটনায় হাইকোর্টে মামলা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 19, 2026 ইং
কলকাতায় পূজামণ্ডপের সামনে বামেদের বইয়ের স্টল ভাঙচুরের ঘটনায় হাইকোর্টে মামলা ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিভিন্ন মণ্ডপের কাছাকাছি এলাকায় বামপন্থী দলগুলোর পক্ষ থেকে স্থাপন করা বইয়ের স্টলগুলোতে ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সিপিএমের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে যে, ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) কর্মী ও সমর্থক পরিচয়ে একদল সন্ত্রাসী এই ধরনের হামলাগুলো পরিচালনা করছে। উদ্ভূত এই পরিস্থিতির আইনি প্রতিকার নিশ্চিত করতে সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের দারস্থ হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছে সিপিএম। আদালত মামলাটির দ্রুত শুনানির প্রার্থনা গ্রহণ করে বিচারপতি পার্থ প্রতীম রায়ের এজলাসে মঙ্গলবার শুনানির দিন নির্ধারণ করেছেন।

কলকাতা মহানগরীসহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তের পূজামণ্ডপ ও মেলা প্রাঙ্গণে বিগত প্রায় ষাট বছর ধরে নিয়মিতভাবে বইয়ের স্টল পরিচালনা করে আসছে সিপিএম, সিপিআই, ফরওয়ার্ড ব্লক ও এসইউসিআই-এর মতো বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলো। ইতিপূর্বে কংগ্রেস, বামফ্রন্ট কিংবা বর্তমান তৃণমূল কংগ্রেস—যাদেরই সরকার ক্ষমতায় থাকুক না কেন, এই দীর্ঘ ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় কখনো কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি। অথচ সিপিএমের শীর্ষ নেতৃত্বের অভিযোগ অনুযায়ী, রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে বিজেপি নেতৃত্ব আর পশ্চিমবঙ্গে কমিউনিস্টদের বইয়ের স্টল দেওয়ার বিষয়টি মেনে নিতে চাইছে না। এমনকি বিজেপির সর্বোচ্চ পর্যায় থেকেও পূর্বে বামপন্থীদের বইয়ের স্টল স্থাপন না করার ব্যাপারে প্রকাশ্য হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে বাম শিবিরের দাবি। তাদের ভাষ্যমতে, সেই পূর্বঘোষিত হুঙ্কারেই কলকাতা ও রাজ্যের অন্যান্য অঞ্চলে মণ্ডপ সংলগ্ন এলাকায় স্টল বসানোর সময় আক্রমণ চালানো হচ্ছে।

চলতি সপ্তাহের সোমবার মহা অষ্টমীর পবিত্র দিনেও হাওড়া জেলার চ্যাটার্জিহাট থানা এলাকার অন্তর্ভুক্ত স্থানে সিপিএমের একটি বইয়ের স্টল ভেঙে সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই নাশকতার ঘটনায় সিপিএমের তরফ থেকে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় থানায় একটি লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে। এর আগে কলকাতার যাদবপুর ও হরিদেবপুর অঞ্চল ছাড়াও ডোমজুড়, শালকিয়া, ফুলিয়া এবং হলদিয়াতে ঠিক একই কায়দায় হামলার ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। বিশেষ করে যাদবপুরে তো বুলডোজার পর্যন্ত নিয়ে এসে স্টল ধ্বংস করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল; যদিও সিপিএম ও সিপিআই নেতাকর্মীদের প্রবল প্রতিরোধ ও সাহসিকতার মুখে হামলাকারীরা শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হয়। কতিপয় স্থানে আক্রমণকারীরা শুধুমাত্র ভাঙচুর চালিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, বরং স্টলগুলোতে আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। বিভিন্ন জনপদে এখনো লাল শালু দিয়ে ঘেরা প্রচুর বইয়ের স্টল সচল রাখা হয়েছে। তবে যেসব নির্দিষ্ট স্থানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে, সেখানে এখন ভ্যানে করে ঘুরে ঘুরে বই বিক্রি করছেন সিপিএম কর্মীরা এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকেও ইতিবাচক সাড়া মিলছে।

বইয়ের স্টল ভাঙচুরের এই নিন্দনীয় ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। তিনি মন্তব্য করেন যে, রাজনৈতিক বা আদর্শগত দিক থেকে ভিন্ন মত থাকতেই পারে, কিন্তু কাউকে বই বিক্রি করতে বাধা দেওয়া কিংবা বইয়ের স্টল ভাঙচুর করা কোনো অবস্থাতেই সমর্থনযোগ্য নয়। তিনি আরও যোগ করেন যে, যারা এমন কাজ করছে তারা মূলত ভারতবর্ষকে বোঝেনি ও চেনেনি, তাই এই ঘটনা ক্ষমার অযোগ্য। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, তাঁরা বিগত ত্রিশ-চল্লিশ বছর ধরে দেখে আসছেন কীভাবে বামপন্থীরা পূজা এবং বিভিন্ন মেলায় বইয়ের দোকান পরিচালনা করে আসছে, আর এমন পরিস্থিতিতে বই ময়লার স্তূপে ফেলে দেওয়া কি আদৌ সঠিক কাজ?

অন্যদিকে, বিশিষ্ট হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) নেতা জিষ্ণু বসুও এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অভিমত প্রকাশ করেছেন যে, প্রত্যেকেরই নিজস্ব বুক স্টল দেওয়ার অধিকার রয়েছে। তিনি আরও বলেন যে, বর্তমান সময়ে যারা এই সমস্ত বুক স্টল ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত, তারা কেউ অতীতে প্রকৃত লড়াইয়ের মাঠে উপস্থিত ছিল না এবং বর্তমানে ক্ষমতার অন্ধ অহংকার থেকেই তারা এসব কর্মকাণ্ড ঘটিয়ে চলেছে।

এই ঘটনার কঠোর নিন্দা জ্ঞাপন করে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ও বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেছেন, আদর্শের জায়গা থেকে সিপিএমের সঙ্গে তাঁদের রাজনৈতিক সম্পর্কের গভীরতা না থাকলেও তাদের বইয়ের স্টল ভাঙচুর করার ঘটনাটি কোনোমতেই মেনে নেওয়া যায় না। তিনি একে কেবল কোনো রাজনৈতিক সংকট হিসেবে না দেখে বরং সভ্যতার এক গভীর সংকট হিসেবে অভিহিত করেছেন।

অন্যদিকে, বইয়ের স্টল নিয়ে চলমান এই বিতর্কের প্রেক্ষাপটে এবং বামপন্থীদের সরাসরি ইঙ্গিত করে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আজকের একটি ভাষণে সতর্ক করে বলেছেন যে, যাদের আদিবাস বা মনন চীনে, তাদের কাছ থেকে সর্বদা সাবধানে ও সতর্ক থাকতে হবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
নতুন সরকারের সামনে যেসব চ্যালেঞ্জ দেখছে সিপিডি

নতুন সরকারের সামনে যেসব চ্যালেঞ্জ দেখছে সিপিডি