নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
নভেম্বর এবং ডিসেম্বর মাসের শুষ্ক ও ধুলাবালিযুক্ত বাতাসে স্ক্যাল্প বা মাথার ত্বকে মৃত কোষের আস্তরণ জমে খুশকির উপদ্রব বৃদ্ধি পায়। মাথার ত্বকে খুশকি উপস্থিত থাকলে চুল কখনোই স্বাস্থ্যোজ্জ্বল বা দীপ্তিময় দেখায় না। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে বিশেষজ্ঞ শোভন সাহা প্রতি সপ্তাহে অন্তত একদিন শ্যাম্পু করার সময় তার সাথে নিমপাতার রস অথবা লেবুর রস মিশিয়ে ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন।
খুশকি দূর করার আরেকটি কার্যকর উপায় হলো সমপরিমাণ পানি ও আপেল সিডার ভিনেগার একত্রে মিশিয়ে নেওয়া। শ্যাম্পু পর্ব শেষ করার পর এই মিশ্রণটি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেললে মাথার ত্বকের পিএইচ বা অ্যাসিড-ক্ষারের প্রাকৃতিক ভারসাম্য নিখুঁত থাকে এবং খুশকিও কার্যকরভাবে দূরে থাকে।
শীতের আমেজ উপভোগ করার সময় অনেকেই চুলে অতিরিক্ত মাত্রায় গরম পানি ব্যবহার করে বসেন, যা চুলের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। মাত্রাতিরিক্ত গরম পানি চুলের নিজস্ব প্রাকৃতিক তেল বা সিবাম পুরোপুরি শুষে নিয়ে চুলকে মারাত্মকভাবে রুক্ষ ও প্রাণহীন করে তোলে।
এই ক্ষতি এড়াতে চুল পরিষ্কার করার কাজে সবসময় হালকা কুসুম গরম পানি ব্যবহার করা উচিত এবং পরিশেষে এক মগ সাধারণ তাপমাত্রার ঠান্ডা পানি ঢেলে চুল ধুয়ে নেওয়া দরকার। এই সাধারণ অভ্যাসটির ফলে চুলে এক দারুণ প্রাকৃতিক চকচকে ভাব ও উজ্জ্বলতা চলে আসে।
আগামী নতুন বছরের প্রথম দিনে চুলে আকর্ষণীয় ঝলমলে ভাব ফুটিয়ে তুলতে চাইলে নভেম্বর মাসের একদম শুরুর দিকেই চুলের নিচের অংশ ট্রিম বা ছেঁটে ফেলা প্রয়োজন। ডগা ফেটে যাওয়া চুল যেমন স্বাভাবিক গতিতে লম্বালম্বি বাড়তে পারে না, তেমনি দেখতেও যথেষ্ট অস্বাস্থ্যকর লাগে।
একই সঙ্গে নভেম্বর ও ডিসেম্বর—এই দুই মাস চুল সুন্দর রাখতে হেয়ার ড্রায়ার, স্ট্রেইটনার কিংবা কার্লারের মতো বিভিন্ন ধরনের হিটিং টুলস বা তাপ উৎপাদনকারী যন্ত্রের ব্যবহার থেকে যথাসম্ভব দূরে থাকতে হবে।
শুধু ওপর থেকে প্রসাধনী ব্যবহার করলেই চলে না, চুলের বাহ্যিক দীপ্তি অনেকাংশেই নির্ভর করে দৈনন্দিন সঠিক খাদ্যাভ্যাসের ওপর। আসন্ন শীতের মৌসুমে আমাদের বাজারে নানা রকমের রঙিন শাকসবজি ও পুষ্টিকর ফলমূল প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়।
আপনার প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় নিয়মিতভাবে ডিম, পালং শাক, গাজর, আমলকী, বাদাম এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডে ভরপুর মাছ রাখা উচিত। এই পুষ্টিকর খাবারগুলো চুলের গোড়ায় অবস্থিত ফলিকলগুলোকে শক্তিশালী করে তোলে এবং চুলকে ভেতর থেকে প্রাকৃতিকভাবে উজ্জ্বল করে।
এর পাশাপাশি প্রতিদিনের রুটিন অনুযায়ী অন্তত আট থেকে দশ গ্লাস পানি পান করার বিষয়টি কোনোভাবেই এড়িয়ে যাওয়া যাবে না।
নভেম্বর ও ডিসেম্বরের এই নির্দিষ্ট ও সঠিক পরিচর্যা আপনার মাথার চুলকে শীতের রুক্ষতা ও মলিনতা থেকে সম্পূর্ণ সুরক্ষা দেবে। নতুন বছরের প্রথম দিনে যখন আপনি আয়নার সামনে এসে দাঁড়াবেন, তখন নিজের একরাশ উজ্জ্বল, ঝলমলে এবং প্রাণবন্ত চুল দেখে আপনার মুখে তৃপ্তির হাসি ফুটে উঠবে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর