নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
অকল্যান্ডের ইডেন পার্কে অনুষ্ঠিত পাঁচ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটিতে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ উইকেটের দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়েছে ভারত। ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন বা ডিএলএস পদ্ধতিতে ১৬৪ বল অক্ষত রেখেই জয়ের নির্দিষ্ট ঠিকানায় পৌঁছে গেছে শুভমান গিলের নেতৃত্বাধীন দলটি। অভিজ্ঞ ব্যাটার বিরাট কোহলির বিধ্বংসী ৭৪ রানের ইনিংসের সুবাদেই সফরকারীদের জন্য এই জয়ের লক্ষ্যমাত্রা অত্যন্ত সহজ হয়ে দাঁড়ায়।
ম্যাচ শুরুর প্রাক্কালে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন ভারতীয় দলের অধিনায়ক শুভমান গিল। তার এই সিদ্ধান্তকে শতভাগ সঠিক প্রমাণ করে দেখান ভারতের পেসাররা। আর্শদীপ সিং, গুরনুর ব্রার এবং আনশুল কম্বোজের মারাত্মক বোলিং তোপে পড়ে ৪০.২ ওভারেই মাত্র ১৮৫ রান সংগ্রহ করে গুটিয়ে যায় নিউজিল্যান্ড।
পরে বৃষ্টির কারণে ম্যাচের ব্যাপ্তি কমে যাওয়ায় কার্যকর করা হয় ডিএলএস পদ্ধতি। এর ফলে কিউইদের ১৮৫ রানের জবাবে ৩২ ওভারে ভারতের সামনে নতুন লক্ষ্যমাত্রা দাঁড়ায় ১৪৩ রান। সেই পরিবর্তিত লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ২২ ওভারেই ৫ উইকেটের বিনিময়ে ১৪৩ রান তুলে নিজেদের জয় নিশ্চিত করে ফেলে ভিভাট কোহলিরা।
স্বাগতিক দলের পক্ষে গ্লেন ফিলিপস করেন ৩৮ রান এবং ব্লেয়ার টিকনারের ব্যাট থেকে আসে ৩৪ রান। ইনিংসের শেষ উইকেটে টিকনার ও জ্যাকব ডাফির মধ্যকার ৩৯ রানের প্রতিরোধমূলক জুটি না গড়লে আরও অনেক কম স্কোরেই গুটিয়ে যেতে পারত স্বাগতিকরা। ভারতের বোলিং আক্রমণে ১০ ওভারে ৭০ রান খরচ করে সর্বোচ্চ ৪টি উইকেট শিকার করেন আর্শদীপ সিং। এছাড়া গুরনুর ব্রার ঝুলتে পুরেন ৩টি উইকেট এবং আনশুল কম্বোজ নেন ২টি উইকেট।
জয়ের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ব্যাট হাতে শুরু থেকেই দারুণ আত্মবিশ্বাসী মেজাজে ছিল ভারত। দলের অধিনায়ক শুভমান গিল ৫৬টি বল মোকাবেলা করে ৩৭ রান করেন। তবে সবার নজর কেড়ে নেন বিরাট কোহলি, যিনি ব্যাট হাতে রীতিমতো ঝড় তোলেন। মাত্র ৫১টি বল খেলে ১৩টি চার ও ১টি ছক্কার সাহায্যে ৭৪ রানের এক চোখ জুড়ানো ও আক্রমণাত্মক ইনিংস খেলেন তিনি। তার এই ইনিংসের স্ট্রাইক রেট ছিল ১৪৫.১। এছাড়া দলের অন্য ব্যাটার শ্রেয়াস আইয়ারের ব্যাট থেকে আসে ১৫ রান।
এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলা সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজেও দারুণ ও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছিলেন এই তারকা ব্যাটার বিরাট কোহলি। ওই সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৮৮টি বল মোকাবিলা করে অপরাজিত ১৩৯ রানের এক অসাধারণ ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। এরপর সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে তার অবদান ছিল ২৯ রান। যদিও তৃতীয় ম্যাচে মাত্র এক বল খেলে কোনো রান করার আগেই সাজঘরে ফিরে যেতে হয়েছিল তাকে। সব মিলিয়ে ওই তিন ম্যাচে তার মোট সংগ্রহ ছিল ১৬৮ রান। সেই ক্যারিবীয় সিরিজের পারফরম্যান্সের স্বতঃস্ফূর্ত ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই নিউজিল্যান্ডের মাটিতেও ব্যাট হাতে আবারও উজ্জ্বল হয়ে উঠলেন এই অভিজ্ঞ তারকা ব্যাটার।
অকল্যান্ডের এই ইডেন পার্কে পাওয়া জয়ের সুবাদে পাঁচ ম্যাচের চলমান ওয়ানডে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে ১টি ব্যবধানে এগিয়ে গেল টিম ইন্ডিয়া।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর