নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ সম্প্রতি মৎস্যজীবীদের বহুমুখী ও গভীর সংকটগুলোর চিত্র তুলে ধরেছেন। তিনি অত্যন্ত অমানবিক ও কষ্টদায়ক কিছু বাস্তবতার কথা উল্লেখ করেন, যার মধ্যে রয়েছে লবণাক্ত পানিতে নারী শ্রমিকদের চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় কাজ করা, মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন কোনো উপার্জন না থাকা এবং পেটের টানে নদীতে গিয়ে জেলেদের বিভিন্ন ধরনের জেল ও জরিমানার মুখোমুখি হওয়া।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য তিনি মাছ ধরা বন্ধ রাখার বৈজ্ঞানিক সময়সীমা নতুন করে মূল্যায়ন করার জোর দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে হাওর এলাকা, নদী এবং সমুদ্রের জেলেদের প্রত্যেকের জন্য আলাদা ও স্বতন্ত্র নীতিমালা প্রণয়নের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন এই শ্রমনেতা।
অনুষ্ঠানে দেশের মৎস্যজীবী মানুষের সার্বিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট কিছু নীতি ও আইন প্রণয়নের সুপারিশমালা আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হয়। এসব প্রস্তাবের অন্যতম প্রধান দিক হলো আইনি স্বীকৃতি প্রদান, যার মাধ্যমে দেশের সকল মৎস্য শ্রমিককে শ্রম আইনের কাঠামোর ভেতরে নিয়ে আসা এবং প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ‘মৎস্য শ্রমিক’ হিসেবে তাদের নির্দিষ্ট সংজ্ঞা ও পরিচয় নিশ্চিত করা।
শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে সুপারিশে বলা হয়েছে যে, আকস্মিক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে তদারকি বা মনিটরিং আরও জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি নদীতীর ও সাগরের কাছাকাছি এলাকায় ভাসমান চিকিৎসালয় বা হাসপাতাল স্থাপন এবং নারী শ্রমিকদের সার্বিক নিরাপত্তা কঠোরভাবে নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী ও আর্থিক ক্ষতিপূরণের দাবির মধ্যে রয়েছে মৎস্যজীবীদের জাতীয় পেনশন ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসা এবং তাদের জন্য বিশেষ রেশনিং সুবিধা চালু করা। এছাড়া বজ্রপাত কিংবা যেকোনো আকস্মিক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত শ্রমিকদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং তাদের সুবিধার্থে বিশেষায়িত ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন ও আইনি অধিকার প্রসঙ্গে বলা হয় যে, শ্রমিকদের নিজেদের ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করার প্রক্রিয়া এবং দাবি আদায়ের দর–কষাকষির সুযোগ সহজ করতে হবে। সেই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে তাদের নিজ নিজ অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলার লক্ষ্যে নিয়মিত সচেতনতামূলক সভা আয়োজন বাড়াতে হবে।
সবশেষে বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং আবাসন ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। মাছ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকার মৌসুমে জেলেদের জন্য বিকল্প আয়ের সুযোগ তৈরি করা, নদীর তীরে নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করা এবং খাতের সঙ্গে জড়িত শিশুশ্রম সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করার জোরালো দাবি জানানো হয়েছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর