ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ইউক্রেনকে ৫০০ প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির অনুমোদন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 31, 2026 ইং
ইউক্রেনকে ৫০০ প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির অনুমোদন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে চলমান লড়াইয়ে ইউক্রেনকে পাঁচশটি প্যাট্রিয়ট পিএসি-৩ ক্ষেপণাস্ত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর গত শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই অস্ত্র বিক্রির প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়ার কথা প্রকাশ করেছে। কিয়েভের কাছে হস্তান্তরের উদ্দেশ্যে নির্ধারিত এই সামরিক সরঞ্জামগুলোর আনুমানিক আর্থিক মূল্য ধরা হয়েছে দুইশ দশ কোটি ডলার।

মস্কোর আগ্রাসন প্রতিহত করে ইউক্রেনকে সুরক্ষা দিতে বিগত দিনগুলোতে ওয়াশিংটন নিয়মিতভাবে বিভিন্ন ধরনের সমরাস্ত্র পাঠিয়ে আসছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রেসিডেন্সির দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর কিয়েভকে প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্র দেওয়ার ক্ষেত্রে এটিই তার প্রশাসনের সবচেয়ে বড় পদক্ষেপগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

অস্ত্র সরবরাহের কার্যক্রমে ধীরগতির কারণে বিগত কিছুদিন ধরে ওয়াশিংটন ও কিয়েভের মধ্যকার সম্পর্কে টানাপোড়েন কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছিল। ঠিক এই সময়ই ট্রাম্প মস্কোর সঙ্গে জ্বালানি তেল ও ডিজেল ক্রয়-বিক্রয়সংক্রান্ত একটি নতুন চুক্তির কথা জনসমক্ষে ঘোষণা করেছেন।

ইউক্রেনের ভূখণ্ডে রুশ সামরিক বাহিনী লাগাতারভাবে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা তীব্র করে চলেছে। অন্যদিকে, এই আক্রমণ প্রতিহত করতে এবং যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য জরুরি ভিত্তিতে আরও অতিরিক্ত ক্ষেপণাস্ত্রের প্রয়োজন রয়েছে বলে কিয়েভ দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে। অত্যন্ত দ্রুতগতিসম্পন্ন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস বা নিষ্ক্রিয় করার ক্ষেত্রে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে সবচেয়ে বেশি কার্যকরী মাধ্যম হিসেবে গণ্য করা হয়।

এদিকে রুশ তেল শোধনাগারগুলোর ওপর হামলা বন্ধের ব্যাপারে ইউক্রেনের অনীহার বিষয়টির তীব্র সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। বিশেষ করে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির এমন মনোভাবের কারণেই হামলা পুরোপুরি থামানো সম্ভব হচ্ছে না বলে ট্রাম্প মনে করেন।

গত সোমবার দেওয়া এক বক্তব্যে জেলেনস্কি উল্লেখ করেছিলেন যে, অতি গুরুত্বপূর্ণ এসব ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের মার্কিন অনুমোদনের জন্য তাদের প্রায় এক মাস প্রতীক্ষায় থাকতে হয়েছে। একই সময়সীমার মধ্যে ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি খাত ও বেসামরিক স্থাপনাগুলোতে মস্কো তাদের আক্রমণ আরও জোরদার করেছে।

যদিও কিয়েভের পক্ষ থেকে এই অস্ত্রগুলোর অত্যন্ত জরুরি প্রয়োজনের কথা বলা হচ্ছে, তবুও নির্ধারিত চালানটি খুব দ্রুত হাতে পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। সাধারণত যেকোনো অস্ত্র বিক্রির আনুষ্ঠানিক চুক্তি বাস্তবায়িত হতে দীর্ঘ সময় বা বেশ কয়েকটি বছর অতিবাহিত হয়ে যায়। মার্কিন এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে সরাসরি অবগত এমন দুজন ব্যক্তি জানিয়েছেন যে, উল্লেখিত ক্ষেপণাস্ত্রগুলো এখনো উৎপাদনই করা হয়নি এবং ২০৩০-এর দশকের শুরুর দিক ছাড়া এগুলোর ইউক্রেনে পৌঁছানোর কোনো জোরালো সম্ভাবনা নেই।

ওই দুটি সূত্রের মধ্যে একজন আরও জানান যে, অস্ত্র হাতে পাওয়ার এই দীর্ঘ সময়সীমা কমিয়ে আনার জন্য ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পেন্টাগনের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর নিজস্ব অস্ত্রভান্ডারে মজুত থাকা কিছু প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র আগেভাগে কিয়েভকে দিয়ে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে, এবং পরবর্তীতে নতুন উৎপাদিত ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে পেন্টাগনের সেই ভান্ডার পুনরায় পূর্ণ করা সম্ভব হবে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর তাদের একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে পরিষ্কার করেছে যে, ইউক্রেন সরকার এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ক্রয় করবে কানাডা, জার্মানি ও নরওয়ের প্রদান করা অর্থে। এই অর্থায়নটি ‘ইউএস জাম্পস্টার্ট’ নামক একটি বিশেষ কর্মসূচির আওতায় প্রদান করা হচ্ছে, যার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিজস্ব ‘ইউক্রেন সাপোর্ট লোন’ নামক ঋণ প্রকল্পের অর্থও।

পেন্টাগনের দাপ্তরিক ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেন যেন রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিজেদের রক্ষা করতে পারে, সেজন্য মিত্র দেশগুলোর অনুদানের অর্থে অস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম, নানা ধরনের সেবা এবং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতেই এই বিশেষ কর্মসূচিটি চালু করা হয়েছিল।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
দিলীপ কুমার আগারওয়ালা এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

দিলীপ কুমার আগারওয়ালা এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর