মঙ্গলের উপগ্রহ ফোবোসের মাটি ও পৃষ্ঠের নমুনা সংগ্রহ করে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনতে মঙ্গলবার মহাকাশ অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে জাপান। সফল হলে মঙ্গলের কোনো উপগ্রহে অবতরণ করে সেখান থেকে নমুনা সংগ্রহ ও পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে এটি হবে বিশ্বের প্রথম অভিযান।
রোববার জাপানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকের বরাতে আনাদোলু এজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় কাগোশিমা প্রিফেকচার থেকে ‘মার্সিয়ান মুনস এক্সপ্লোরেশন’ বা এমএমএক্স অভিযানটি উৎক্ষেপণ করা হবে। তানেগাশিমা মহাকাশ কেন্দ্র থেকে এইচ-৩ রকেটের মাধ্যমে মহাকাশযানটি পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
জাপান অ্যারোস্পেস এক্সপ্লোরেশন এজেন্সি (জাক্সা) পরিচালিত এই অভিযানে তিনটি মডিউল থাকবে। প্রকল্পটির উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৫৩ কোটি ইয়েন, যা প্রায় ৩৫ কোটি মার্কিন ডলারের সমান।
অভিযানের অনুসন্ধান মডিউলে থাকবে নমুনা সংগ্রহের সরঞ্জাম, বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ যন্ত্র এবং দুটি অতি উচ্চ রেজল্যুশনের ক্যামেরা। এসব যন্ত্রের সাহায্যে ফোবোসের পৃষ্ঠ পর্যবেক্ষণ ও নমুনা সংগ্রহ করা হবে।
উৎক্ষেপণের প্রায় এক বছর পর মহাকাশযানটি মঙ্গল গ্রহের কাছাকাছি পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এরপর প্রায় তিন বছর ধরে মঙ্গল ও এর উপগ্রহগুলো পর্যবেক্ষণ করবে অভিযানটি।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, নমুনা নিয়ে ফেরার মডিউলটি ২০৩২ সালের মার্চে শেষ হতে যাওয়া জাপানের অর্থবছরের মধ্যে পৃথিবীতে ফিরে আসতে পারে।
ফোবোস মঙ্গলের দুটি প্রাকৃতিক উপগ্রহের একটি। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এর গঠন ও পৃষ্ঠের উপাদান বিশ্লেষণ করলে মঙ্গল গ্রহের উপগ্রহগুলোর উৎপত্তি এবং সৌরজগতের বিবর্তন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা নমুনা উন্নত পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণ করা সম্ভব হবে। এতে ফোবোসের উৎপত্তি নিয়ে প্রচলিত বৈজ্ঞানিক ধারণাগুলো যাচাই করার সুযোগ তৈরি হবে।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর