নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
জাপানি গণমাধ্যম নিক্কেই এশিয়ার একটি সাম্প্রতিক প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে যে, দক্ষিণ এশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতির দেশ বাংলাদেশে বেসরকারি খাতের মাধ্যমে প্রায় ছয় বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে পূর্ব এশিয়ার অর্থনৈতিক পরাশক্তি জাপান। দুই সার্বভৌম রাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও সুদৃঢ় করা এবং সেইসঙ্গে এই অঞ্চলে বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ও আধিপত্য কিছুটা হলেও হ্রাস করা এই বিশালাকার বিনিয়োগ পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান কৌশলগত উদ্দেশ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বর্তমান পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আমদানি বা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে চীনই হলো বাংলাদেশের সবথেকে বৃহত্তম এবং প্রধান উৎস দেশ।
যদিও এশিয়ার এই জনবহুল দেশের আমদানির প্রধান উৎস হিসেবে এতদিন বেইজিং আধিপত্য ধরে রেখেছিল, তথাপি গত বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাটকীয়ভাবে পদত্যাগের পর থেকেই ঢাকা প্রশাসন অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ খাতে টোকিওর সঙ্গে সহযোগিতার পরিধি ও সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করার নানা আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন ও পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বহুমুখিত্তা আনয়ন এবং বিশেষ করে পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে অংশীদারিত্ব মজবুত করার ওপরে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হচ্ছে।
জাপানের এই বিশাল অংকের প্রস্তাবিত বৈদেশিক বিনিয়োগের একটি অত্যন্ত সিংহভাগ অংশ সরাসরি চলে যেতে পারে দেশের অটোমোবাইল তথা মোটরযান উৎপাদন খাত, অন্যান্য উদীয়মান নানা উৎপাদনশিল্প এবং দেশের সামগ্রিক জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়নের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে। বিভিন্ন বিশ্বমানের জাপানি করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক উদ্যোগ বর্তমানে এই জনবহুল রাষ্ট্রে নতুন করে পুঁজি বিনিয়োগের প্রতি গভীর আগ্রহ প্রকাশ করে চলেছে, যা সামগ্রিক শিল্পায়নকে ত্বরান্বিত করতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রস্তাবিত এই বৃহৎ বিনিয়োগ পরিকল্পনার আওতায় বাংলাদেশ স্পেশাল ইকোনমিক জোন বা বিএসইজেড-এ বিনিয়োগ করার সুনির্দিষ্ট সুযোগ ও প্রস্তাবও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা ইতোমধ্যেই বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। জাপানের অত্যন্ত নামী এবং বিশ্বজুড়ে সমাদৃত শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সুমিতোমো করপোরেশনসহ আরও বেশ কয়েকটি প্রভাবশালী বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে এই বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলটির সঙ্গে যুক্ত হয়ে কাজ শুরু করে দিয়েছে।
অন্যদিকে, জাপানের বিভিন্ন স্বনামধন্য কোম্পানির শীর্ষ নির্বাহীদের নিয়ে গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল খুব শীঘ্রই বাংলাদেশ সফরে আসার প্রস্তুতি গ্রহণ করছে বলে জানা গেছে। দুই বন্ধুভাবাপন্ন দেশের সরকারি নীতিনির্ধারক এবং বেসরকারি বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণে দ্বিপক্ষীয় অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিনিয়োগ বিষয়ক একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ সংলাপ আয়োজনেরও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর