নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় পূর্বশত্রুতার জের ধরে কাওসার নামের এক যুবদল কর্মীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই স্থানীয় জনপদে তীব্র আতঙ্ক ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইতোমধ্যে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সাতলা ইউনিয়ন যুবদলের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি কাইয়ুম ভাট্টি এই ঘটনার নেপথ্য কারণ ও প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২০২৪ সালে সাতলা এলাকায় একটি চাঞ্চল্যকর জোড়া খুনের ঘটনা ঘটেছিল। ওই ডাবল মার্ডারের পর থেকেই সজল মোল্লার অনুসারী পক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন উসকানিমূলক তথ্য প্রচার করে আসছিল।
কাইয়ুম ভাট্টির জোরালো দাবি, সজল মোল্লার পক্ষের ছড়ানো সেসব অনলাইন তথ্য মূলত নিহত কাওসার এবং তাঁর বংশের লোকজনকে উদ্দেশ্য করেই ছড়ানো হতো। এই অপপ্রচারের প্রতিবাদ জানাতে গিয়েই গত কাল সকালে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
ওই প্রাথমিক বিরোধের জের ধরেই পরবর্তীতে রাজধানী ঢাকা থেকে পেশাদার ভাড়াটে লোকজন নিয়ে এসে কাওসারকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কাইয়ুম ভাট্টি। তিনি আরও জানান, ২০২৪ সালের সেই জোড়া খুন মামলায় নিহত হয়েছিলেন ইদ্রিস হাওলাদার ও সাগর হাওলাদার।
নিহত ইদ্রিস ও সাগরের অনুসারী হিসেবে পরিচিত সজল মোল্লার লোকজন। অন্যদিকে, কাওসারের বংশের লোকেরা ওই আলোচিত হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন। পারিবারিক ও রাজনৈতিক সমীকরণে কাওসার তাঁদের সাথেই যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং দলীয় বিভিন্ন কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতেন।
হত্যাকাণ্ডের পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী দ্রুত তৎপরতা শুরু করে এবং সাতলা এলাকায় পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। বর্তমানে এই প্রাণহানির ঘটনা কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বর্বরোচিত এই হত্যাকাণ্ডের পর তাৎক্ষণিকভাবে জোরালো অভিযান শুরু করা হয়। এই ধারাবাহিক অভিযানে ঘটনার রাতেই পদ্মা সেতুর টোল প্লাজা এলাকা থেকে একটি সন্দেহভাজন মাইক্রোবাসসহ মোট নয়জনকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রকিবুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, নিহত কাওসার হত্যার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যে মোট নয়জনকে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে বরিশালের পুলিশ সুপার এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে জানান, চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের মাত্র ছয় ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্ত নয়জনকে সফলভাবে আটক করা গেছে। এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরবর্তী সময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর