ঢাকা | বঙ্গাব্দ

দেশের বাইরে রান খরা ও ব্যাটিং বিপর্যয় কাটাতে ব্যর্থ বাংলাদেশ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 23, 2026 ইং
দেশের বাইরে রান খরা ও ব্যাটিং বিপর্যয় কাটাতে ব্যর্থ বাংলাদেশ ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কেন বাংলাদেশ দল ভালো পারফর্ম করতে পারছে না—এমন একটি প্রশ্নের জবাবে কোনো কারণ ছাড়াই দেশের মাটিতে ভালো করার পুরনো প্রসঙ্গ টেনে আনেন তাওহীদ হৃদয়। তিনি মন্তব্য করেন যে, কেন তারা খারাপ খেলছেন, সে বিষয়ে তিনি এত গভীরভাবে চিন্তা করেননি। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন যে, দুই সিরিজ আগেও তারা নিজেদের মাঠে ভালো খেলেছেন এবং প্রশ্নকর্তার সঙ্গে একমত পোষণ করে স্বীকার করেন যে দেশের বাইরে দল ভালো খেলতে পারছে না।

জাতীয় দলের দেশের বাইরে ভালো খেলতে না পারা বিষয়টি খালি চোখেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের মাটিতে এবং দেশের বাইরে খেলা বাংলাদেশের শেষ ১০টি ওয়ানডে ম্যাচের ব্যাটারদের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করলে এই পার্থক্যের বিষয়টি খুব পরিষ্কারভাবে চোখের সামনে ভেসে ওঠে।

বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দেশের ভেতর এবং দেশের বাইরের সর্বশেষ ১০ ওয়ানডে ম্যাচের মোটের ব্যবধান হলো ৪১৪ রান। অর্থাৎ, দেশের বাইরে লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত ও তাওহীদ হৃদয়রা ইনিংসপ্রতি গড়ে ৪১.৪ রান কম সংগ্রহ করেছেন। পরিসংখ্যান হয়তো সরাসরি সব কথা প্রকাশ করে না, তবে বাস্তবতা হলো দেশের মাটিতে টানা জয় পাওয়া চারটি সিরিজেও দলের ভেতরে ব্যাটিংয়ের জায়গাটি সবসময়ই অস্বস্তির কারণ ছিল।

জয় পাওয়া ওই চার সিরিজের প্রতিটি ম্যাচেই মূলত বোলাররা ভালো পারফরম্যান্স করেছিলেন, যার মধ্যে পেসারদের ভূমিকা ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কোনো সিরিজেই ব্যাটিং বিভাগ নিয়ে শতভাগ সন্তুষ্টির সুযোগ না থাকলেও শেষ পর্যন্ত বোলারদের নৈপুণ্যের ওপর ভর করেই পার পেয়ে গিয়েছিল পুরো দল।

পরিসংখ্যান ঘাঁটলে দেখা যায়, ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত হওয়া চারটি ওয়ানডে সিরিজের মোট ১২টি ম্যাচের একটিতেও তিন শ রানের কোটা পার করতে পারেনি বাংলাদেশ দল। এর মধ্যে আড়াই শ রানের বেশি স্কোর গড়ার ঘটনা ঘটেছে মাত্র পাঁচটি ম্যাচে, আর চার ম্যাচে দলীয় সংগ্রহ ছিল ২২৫ রানেরও নিচে। এমনকি বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচগুলোতে তো বাংলাদেশের স্কোর দুই শ রানও ছুঁতে পারেনি।

জাতীয় দল খারাপ করলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে যে কেন এই ব্যর্থতা আসছে, আর তাৎক্ষণিকভাবে এই কঠিন প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় অধিনায়ককে। তবে অধিনায়কের উত্তরের চেয়েও আরও জোরালোভাবে জবাব দেওয়া প্রয়োজন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচকদের।

দল নির্বাচন সঠিক হচ্ছে কি না—এমন প্রশ্ন করা হলে নির্বাচকদের পক্ষ থেকে হয়তো উত্তর দেওয়া হবে যে তাদের হাতে পর্যাপ্ত বিকল্প খেলোয়াড় নেই। আর কেন পর্যাপ্ত বিকল্প নেই, সেই প্রশ্নটি তখন অবধারিতভাবেই চলে যায় সরাসরি ক্রিকেট বোর্ডের কাছে।

ক্রিকেট খাত থেকে কোটি কোটি টাকা আয় হওয়া সত্ত্বেও এবং বোর্ডের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে হাজার কোটি টাকা স্থিতি থাকার পরও, মানসম্মত ক্রিকেটার তৈরি করতে কিংবা তৃণমূল পর্যায় থেকে মেধাবী খেলোয়াড় তুলে আনতে বোর্ড কি যথেষ্ট কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে? নাকি তামিমের নেতৃত্বাধীন ক্রিকেট বোর্ড শুধুমাত্র বিভিন্ন ধরনের অবকাঠামোগত স্থাপনা নির্মাণের দিকেই বেশি মনোযোগ দিয়ে যাচ্ছে?

কোনো একটি নির্দিষ্ট সিরিজে খারাপ ফল করলে তখনই ঘরোয়া ক্রিকেটের পুরো কাঠামো নতুন করে সাজানোর কথা জোরালোভাবে বলা হয় এবং স্পোর্টিং উইকেটে প্রথম শ্রেণির ম্যাচ আয়োজনের দাবি ওঠে। কিন্তু দিনশেষে বাস্তব ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতির কোনো ধরনের পরিবর্তনই ঘটে না।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে ত্রিদেশীয় সিরিজে ধারাবাহিক ব্যর্থতার পর হৃদয় যখন দেশের মাটিতে ভালো খেলার পুরোনো গল্পগুলোই আবার সামনে নিয়ে আসেন, তখন হতাশা ছাড়া উপায় থাকে না। কারণ, আমিরাতের মাটিতে জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ হেরে আসার পরও দেশের মাটিতে স্বাগতিকদের তথাকথিত ‘বাঘ’ হয়ে ওঠার গল্প শুনতে হয়।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
স্বচ্ছতা ও নৈপুণ্যের ভিত্তিতে দল গঠনের দাবি ইমরুল কায়েসের

স্বচ্ছতা ও নৈপুণ্যের ভিত্তিতে দল গঠনের দাবি ইমরুল কায়েসের