ঢাকা | বঙ্গাব্দ

দেওয়ানগঞ্জে শিশু ধর্ষণের দায়ে ইমামের যাবজ্জীবন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 25, 2026 ইং
দেওয়ানগঞ্জে শিশু ধর্ষণের দায়ে ইমামের যাবজ্জীবন ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় একটি নৃশংস শিশু ধর্ষণের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আদালতের বিচারক এক ইমামকে আমৃত্যু কারাদুল্যর সমতুল্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছেন। এই কঠোর শাস্তির পাশাপাশি আদালত দোষী ব্যক্তিকে আর্থিক জরিমানা হিসেবে পাঁচ লাখ টাকা পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন।

আজ রোববার দুপুরে জামালপুর জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত–১–এর বিচক্ষণ বিচারক মুহাম্মদ আবদুর রহিম এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন।

আইনজীবীর তথ্য অনুযায়ী, এই অপরাধের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম মো. মুছা মিয়া এবং তাঁর বর্তমান বয়স ৩৩ বছর। তাঁর মূল বাড়ি গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়ি উপজেলার হরিচণ্ডি এলাকায় অবস্থিত হলেও ২০২০ সালে সংঘটিত ওই অপরাধের সময় তিনি দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার একটি স্থানীয় মসজিদের ইমাম হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

আজকে যখন আদালতের বিচারক এই রায় ঘোষণা করেন, তখন অভিযুক্ত ব্যক্তি সশরীরে আদালতের এজলাসে উপস্থিত ছিলেন।

আদালতের নথি এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায় যে, ২০২০ সালে যখন এই অনৈতিক ঘটনা ঘটেছিল, তখন সেই ভুক্তভোগী শিশুটির বয়স ছিল মাত্র ১৫ বছর। সে নিয়মিত প্রতিদিন সকালে ওই নির্দিষ্ট মসজিদে আরবি শিক্ষা অর্জনের জন্য যাতায়াত করত।

অভিযুক্ত ইমাম প্রায়শই কৌশলে অন্য সব শিশুদের আগে ছুটি দিয়ে ছেড়ে দিলেও ওই কিশোরীকে আটকে রাখতেন। এরপর তাকে বিভিন্ন অজুহাতে মসজিদ পরিষ্কার করার মতো কাজ করাতেন।

ধীরে ধীরে সেই ইমাম কিশোরীটিকে বিয়ের ভুয়া প্রলোভন দেখাতে শুরু করেন এবং নিজের লালসা চরিতার্থ করার পথ প্রস্তুত করেন।

অবশেষে ২০২০ সালের ২৮ নভেম্বর নির্ধারিত দিনে অন্যান্য দিনের মতো সব শিশুকে ছুটি দেওয়ার পর কৌশলে ভুক্তভোগী শিশুকে নিজের কাছে রেখে দেন সেই ইমাম। পরবর্তীতে তিনি নিভৃতে শিশুটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন এবং এই ঘৃণ্য ঘটনাটি যেন সে কাউকে না জানায়, সেই মর্মে কঠোরভাবে নিষেধ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।

এত কিছুর পরও অপরাধ থামেনি, বরং একই বছরের ১ ও ২ ডিসেম্বর তারিখে অভিযুক্ত ইমাম আবারও সেই একই শিশুকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন।

ভুক্তভোগী কিশোরীটির স্বাভাবিক আচরণ ও মানসিক অবস্থার মধ্যে আমূল পরিবর্তন দেখতে পেয়ে তার পরিবারের লোকজনের সন্দেহ হয়। পরবর্তীতে পরিবারের পক্ষ থেকে চাপ সৃষ্টি করা হলে মেয়েটি তাদের কাছে ঘটে যাওয়া সমস্ত বিবরণ খুলে বলে।

পরিবারের সদস্যরা এই গুরুতর বিষয়টি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবহিত করেন এবং তাদের সুনির্দিষ্ট পরামর্শ অনুযায়ী ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে ২০২০ সালের ৮ ডিসেম্বর দেওয়ানগঞ্জ থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন।

জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত–১–এর বিজ্ঞ সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) ফজলুল হক গণমাধ্যমকে জানান যে, বিচার চলাকালীন আদালত এই মামলায় ভুক্তভোগী শিশুসহ মোট ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেছেন।

দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও শুনানি শেষে আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়। এরপর আদালত আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন।

আদালত রায়ে পরিষ্কার নির্দেশ দিয়েছেন যে, আদায়কৃত জরিমানার এই সমস্ত অর্থ যেন ক্ষতিগ্রস্ত শিশুটির পরিবারকে প্রদান করা হয়। রায়ের কার্যক্রম শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নিরাপত্তাবেষ্টনীতে আসামিকে সাজা পরোয়ানা মূলে কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
নালায় বাঁধ, সামান্য বৃষ্টিতেই ডুবল চট্টগ্রাম

নালায় বাঁধ, সামান্য বৃষ্টিতেই ডুবল চট্টগ্রাম