নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
ভোরে বিশেষ ধর্মীয় বিধান অনুসরণের মাধ্যমে পুরো উৎসবের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের শুভসূচনা করা হয়। এই পর্বের শুরুতেই সমবেত উপাসক ও পুণ্যার্থীরা পঞ্চশীল ব্রত গ্রহণ করে আত্মশুদ্ধির পথ সুগম করেন।
প্রারম্ভিক এই আনুষ্ঠানিকতা সমাপ্ত হওয়ার পরপরই বিভিন্ন পূজার সামগ্রী অর্পণ পর্বের সূচনা ঘটে। এর অংশ হিসেবে একে একে বুদ্ধমূর্তি দান, অষ্টপরিষ্কার দান, সংঘদান, কঠিন চীবর দান, কল্পতরু দান এবং ভিক্ষুদের উদ্দেশ্যে পিণ্ডদান সম্পন্ন করা হয়।
সকালের বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর দুপুরের দিকে মূল মণ্ডপে ধর্মীয় দেশনা বা পুণ্যবাণী প্রচার শুরু হয়। বৌদ্ধ ভিক্ষুরা সেখানে সমবেত ভক্তদের উদ্দেশে নানা উপদেশমূলক ও জ্ঞানগর্ভ আলোচনা উপস্থাপন করেন।
সমগ্র দিনের এই বর্ণাঢ্য ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ আয়োজনের মূল কেন্দ্রবিন্দু কিংবা প্রধান আকর্ষণ ছিল ঐতিহাসিক কঠিন চীবর দান উৎসব। সনাতন বৌদ্ধ ধর্মীয় বিধিবিধান ও কৃষ্টি অনুযায়ী এই বিশেষ চীবর তৈরির কাজটি অত্যন্ত কঠোর নিয়মের অধীনে সম্পন্ন করা হয়।
এই চীবর প্রস্তুত করার মূল শর্ত হলো সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অর্থাৎ মাত্র চব্বিশ ঘণ্টার সংক্ষিপ্ত সীমার ভেতরেই সম্পন্ন করতে হবে। কাঁচা তুলা সংগ্রহ করে তা থেকে সুতা প্রক্রিয়াজাত করা এবং সেই উৎপাদিত সুতা দিয়ে তাঁতে কাপড় বোনার কাজটি সম্পন্ন করা হয়।
কাপড় বোনার এই কঠিন ধাপ পেরিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই ভিক্ষুদের পরিধানের উপযোগী বিশেষ চীবর বা পোশাক সম্পূর্ণ প্রস্তুত করা হয়ে থাকে। পরবর্তীতে এই চীবর অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে সমবেত পুণ্যার্থীরা সম্মানিত ভিক্ষু সংঘের পবিত্রহাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্পণ করেন।
তুলা থেকে সুতা তৈরি এবং কাপড় বোনার এই পুরো কর্মযজ্ঞটি অত্যন্ত শ্রমসাধ্য ও সময়সাপেক্ষ একটি প্রক্রিয়া। এই কঠিন ও দীর্ঘ সাধনার সফল সমাপ্তির মাধ্যমেই মূলত এই বিশেষ ধর্মীয় উৎসবটির মূল তাৎপর্য ও গভীর মাহাত্ম্য সবার সামনে মূর্ত হয়ে ওঠে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর