ঢাকা | বঙ্গাব্দ

যানজটে প্রতিদিন অপচয় ৮২ লাখ কর্মঘণ্টা, ক্ষতি ১৩৯ কোটি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 31, 2026 ইং
যানজটে প্রতিদিন অপচয় ৮২ লাখ কর্মঘণ্টা, ক্ষতি ১৩৯ কোটি ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

দেশজুড়ে চলমান অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে সৃষ্ট অন্যতম প্রধান ও প্রকট সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে তীব্র যানজট। রাজধানী ঢাকায় অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপ এবং বিপুল পরিমাণ যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধির ফলেই মূলত এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা বাবাসস-এর একটি বিশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, যাতায়াত ব্যবস্থার এই অচলাবস্থার কারণে প্রতিদিন রাজধানীতে অপচয় হচ্ছে প্রায় ৮২ লাখ মূল্যবান কর্মঘণ্টা।

যানজটের এই নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি আঘাত হানছে জাতীয় অর্থনীতিতে, যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দৈনিক প্রায় ১৩৯ কোটি টাকার কাছাকাছি। আর যদি বার্ষিক হিসাব কষা হয়, তবে এই লোকসানের পরিমাণ ছাড়িয়ে যাচ্ছে ৫০ হাজার কোটি টাকারও বেশি। সংশ্লিষ্ট ওই একই প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশ করেছে যে, ২০০৭ সালের দিকে ঢাকার রাস্তায় চলা যানবাহনগুলোর গড় গতিবেগ ছিল প্রতি ঘণ্টায় ২১ কিলোমিটার। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে সেই গতি মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়ে বর্তমানে এসে ঠেকেছে মাত্র ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটারে।

শুধু রাজধানী ঢাকাতেই নয়, বরং এর বাইরে বাংলাদেশের অন্যান্য বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোর ক্ষেত্রেও অপরিকল্পিত নগরায়ণের এই নেতিবাচক প্রভাব এখন অত্যন্ত স্পষ্ট। উদাহরণস্বরূপ, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহর খুলনার কথা ধরা হলে সেখানে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব, পানির লবণাক্ততা বৃদ্ধি, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ বা নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং নগর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অপরপক্ষে, উত্তরাঞ্চলের পরিচ্ছন্ন শহর রাজশাহীতে অতিরিক্ত তাপপ্রবাহ মোকাবেলা এবং অবশিষ্ট সবুজ অঞ্চলগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

অন্যদিকে, দক্ষিণাঞ্চলের জনবহুল শহর বরিশালের চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সেখানে অপরিকল্পিত নগর সম্প্রসারণের কারণে স্থানীয় জলাভূমি এবং প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার ওপর ক্রমাগত প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। অর্থাৎ পরিষ্কারভাবেই বলা যায় যে, ভৌগোলিক অবস্থানভেদে বিভিন্ন শহরের নির্দিষ্ট সমস্যার ধরনগুলো একে অপরের থেকে আলাদা বা ভিন্ন প্রকৃতির। তবে এই বহুমুখী সংকটের একেবারে মূল শেড়ে বা কেন্দ্রে রয়েছে যথাযথ পরিকল্পনার মারাত্মক অভাব, দুর্বল প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করার ক্ষেত্রে চরম অবহেলা।

বর্তমান এই বিপজ্জনক পরিস্থিতি থেকে স্থায়ীভাবে উত্তরণ ঘটানোর জন্য সবার আগে প্রয়োজন সুদূরপ্রসারী দীর্ঘমেয়াদি এবং অত্যন্ত বাস্তবসম্মত একটি সুনির্দিষ্ট নগর পরিকল্পনা প্রণয়ন করা। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রতিটি বিভাগীয় ও জেলা শহরে মহাপরিকল্পনা এবং এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিস্তারিত অঞ্চল পরিকল্পনার কঠোর ও সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

শহরগুলোর টিকে থাকার স্বার্থে যেকোনো মূল્યે জলাধার, প্রাকৃতিক খাল, নদনদী, উর্বর কৃষিজমি এবং সংরক্ষিত সবুজ অঞ্চল অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে রক্ষা করতে কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে। কেবল নতুন নতুন সড়ক বা ব্যয়বহুল উড়ালসড়ক নির্মাণ করার মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। এর পরিবর্তে গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন, পথচারীদের জন্য প্রশস্ত ফুটপাত তৈরি, বাইসাইকেল চলাচলের জন্য বিশেষ পথ এবং একটি আধুনিক সমন্বিত পরিবহনব্যবস্থার প্রসার ঘটানোকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।

সূত্র: আজকের পত্রিকা


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
একতরফা সমঝোতা ও বোঝাপড়ার ঘাটতি সম্পর্কের অবনতির লক্ষণ

একতরফা সমঝোতা ও বোঝাপড়ার ঘাটতি সম্পর্কের অবনতির লক্ষণ