নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য আগ্রহী প্রার্থীদের নামের তালিকা আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পাঠাতে নির্দেশ দিয়েছে এনসিপি। এই রাজনৈতিক দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, নির্দিষ্ট এই সময়ের ভেতরেই তাদের স্থানীয় শাখাগুলোকে প্রার্থী চূড়ান্ত করে কেন্দ্রে পাঠাতে হবে।
দলীয় নির্দেশনা অনুযায়ী, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর আহ্বায়ক হওয়ার ক্ষেত্রে বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রার্থীর বয়স অন্তত ৩৫ বছর হওয়া আবশ্যকীয় শর্ত হিসেবে রাখা হয়েছে। তবে এর পাশাপাশি ৪০ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের ব্যক্তিদের প্রার্থিতায় বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সংগঠনের সদস্যসচিব পদের জন্য বয়সসীমা কিছুটা কম নির্ধারণ করা হয়েছে। এই পদে দায়িত্ব পালন করতে ইচ্ছুক ব্যক্তির বয়স অন্তত ৩০ বছর হওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিভিন্ন স্তরের নেতৃত্বে প্রবীণ ও নবীনদের যথাযথ সমন্বয় নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই এই বয়সসীমা নির্ধারণ করেছে দলটি।
সংগঠনের শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে ছাত্ররাজনীতি ও মূল দলের কাঠامোর মধ্যে স্পষ্ট বিভাজন রেখা টেনে দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে যে, জেলা থেকে শুরু করে একেবারে ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত দলের কোনো কমিটিতেই নিয়মিত শিক্ষার্থীদের কোনোভাবেই রাখা যাবে না।
শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত রাজনৈতিক প্লাটফর্ম হিসেবে ছাত্রশক্তির কথা বলা হয়েছে এবং তারা সেই অঙ্গসংগঠনেই নিজেদের রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। নিয়মিত শিক্ষার্থী নন অথচ বয়স ৩০ বছরের নিচে, এমন ব্যক্তিদের যুবশক্তি বা স্বেচ্ছাসেবক শক্তির মতো সহযোগী সংগঠনে যুক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট নৈতিক ও সামাজিক গুণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। স্থানীয় এলাকায় সুপরিচিত, সাধারণ মানুষের মাঝে গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, সৎ চরিত্রবান, দেশপ্রেমিক, আর্থিকভাবে সচ্ছল এবং যথেষ্ট সুশিক্ষিত ব্যক্তিরাই নেতৃত্বের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবেন।
দলীয় শৃঙ্খলার অংশ হিসেবে বিভিন্ন প্রশাসনিক স্তরের পূর্ণাঙ্গ কমিটির সদস্যসংখ্যাও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় নীতিমালায় জানানো হয়েছে যে, প্রতিটি মহানগর ও জেলা কমিটি গঠিত হবে মোট ১০১ জন সদস্য নিয়ে।
এছাড়া উপজেলা, পৌরসভা এবং থানা পর্যায়ের কমিটিগুলোর আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৭১ সদস্যের। তৃণমূলের ভিত্তি আরও মজবুত করতে ইউনিয়ন কমিটি ৫১ সদস্য বিশিষ্ট এবং ওয়ার্ড কমিটি ৩১ সদস্য বিশিষ্ট হবে বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর