নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল ২০১৭ সালের দিকে। এর প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ২১ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা এবং পরবর্তীতে ২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর নাগাদ এর আনুষ্ঠানিক নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল।
এই পুরো প্রকল্পটির আর্থিক সংস্থানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে ৫ হাজার কোটি টাকা প্রদান করেছে। আর বাকি প্রয়োজনীয় অর্থায়ন সম্পন্ন হয়েছে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার বা জাইকার ঋণ সহায়তার মাধ্যমে।
গত ৮ সেপ্টেম্বর এই থার্ড টার্মিনাল সরেজমিন পরিদর্শন শেষে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন যে, টার্মিনালের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম চালুর সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১৬ ডিসেম্বর।
তবে এই বিশাল অবকাঠামোটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হতে আগামী বছরের মে মাস পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেছিলেন। সে সময় জানানো হয়, টার্মিনালটির পরিচালন আয় থেকে বাংলাদেশ লভ্যাংশের ২৭ শতাংশ পাবে এবং গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের অর্ধেক দায়িত্ব সামলাবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, থার্ড টার্মিনালের রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার ভার অর্পণের বিষয়ে জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে আলোচনা সম্পন্ন করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এই দীর্ঘ আলোচনার একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে মোট চারটি নতুন শর্তের উদ্ভব ঘটে, যেগুলোতে উভয়পক্ষ কোনোভাবেই একমত হতে পারেনি।
বেবিচক স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে এই নির্দিষ্ট শর্তগুলো মেনে নেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয় এবং এই অপারগতার কথা জানিয়ে চলতি সপ্তাহেই মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে সম্পূর্ণ বিষয়টি নির্ভর করছে সরকারের উচ্চপর্যায়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।
সরকারের তরফ থেকে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত আসার পরই কেবল এই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি চূড়ান্ত করার পরবর্তী দাপ্তরিক পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করতে আগ্রহী রয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর