ঢাকা | বঙ্গাব্দ

পেরিয়ার লাইব্রেরিতে এআই বই বিতর্ক, তদন্তের দাবি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 6, 2026 ইং
পেরিয়ার লাইব্রেরিতে এআই বই বিতর্ক, তদন্তের দাবি ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

সাত একর জমির ওপরে প্রায় তিন শ কোটি রুপি খরচ করে নির্মিত হয়েছে সাততলা বিশিষ্ট বিশালাকার পেরিয়ার আরিভুলাগাম গ্রন্থাগার ও বিজ্ঞান কেন্দ্র। গত ষোলোই অক্টোবর নতুন এই আধুনিক জ্ঞানভাণ্ডারটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়। বিগত দ্রাবিড় মুন্নেত্রা কাজগড় বা ডিএমকে প্রশাসনের সময়কালে এই বৃহৎ প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে বর্তমান তামিলাগা ভেট্রি কাজগড় বা টিভিকে সরকারের শাসনকালে এই সম্পূর্ণ প্রকল্পের বাকি কাজ সফলভাবে সমাপ্ত হয়।

উদ্বোধনের পর এই প্রতিষ্ঠান ঘিরে তীব্র বিতর্ক শুরু হলে জানা যায়, অতীতে ডিএমকে সরকারের গঠিত সরকারি বই সুপারিশ কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন মুরুগান নিজেও। তবে প্রশ্ন উঠেছে যে, তালিকাভুক্ত এই বিতর্কিত গ্রন্থগুলো কি আদতে সেই কমিটির সুনির্দিষ্ট সুপারিশের ভিত্তিতেই ক্রয় করা হয়েছিল, নাকি কমিটির সম্পূর্ণ অগোচরে এগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে তা এখনো অস্পষ্ট। এই প্রেক্ষাপটে লাইব্রেরি থেকে অবিলম্বে উক্ত বইগুলো অপসারণ করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে ক্রয় এবং সরবরাহের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত সকল ব্যক্তির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে নিরপেক্ষ তদন্তেরও দাবি তুলেছেন তিনি।

উদ্বোধনের পর উদ্ভূত এই অনভিপ্রেত পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়। তিনি সরাসরি ডিএমকে প্রশাসনকে দুর্নীতির প্রধান উৎস বলে অভিহিত করে তীব্র সমালোচনায় মুখর হয়েছেন। অপরদিকে প্রধান বিরোধী দল ডিএমকের পক্ষ থেকে পাল্টা দাবি তোলা হয়েছে যে, বিতর্কিত এই গ্রন্থগুলোতে নির্দিষ্টভাবে জুন মাসের তারিখের সিলমোহর রয়েছে। অথচ সংগ্রহশালার বাকি অন্যান্য অধিকাংশ বইয়ের গায়ে মার্চের তারিখের সিলমোহর লাগানো দেখতে পাওয়া যায়। এর মাধ্যমে বিরোধী দলের দাবি অনুযায়ী সরকার পরিবর্তনের পরেও বিতর্কিত বইগুলো কেনার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা হয়ে থাকতে পারে।

পুরো ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর নিজের সুনির্দিষ্ট প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বিশিষ্ট অভিনেতা এবং একই সঙ্গে রাজ্যসভার সম্মানিত সদস্য কমল হাসান। তিনি সংবাদমাধ্যমের সামনে মন্তব্য করে জানান যে, প্রাচীন তামিল ভাষার জন্য এর চেয়ে বড় কোনো লজ্জার বিষয় আর হতেই পারে না। বইগুলোতে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভুল বিষয়বস্তু ছড়িয়ে পড়ার গুরুতর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। অবিলম্বে এই আপত্তিকর গ্রন্থগুলো সংগ্রহশালা থেকে সম্পূর্ণ সরিয়ে ফেলা এবং সমগ্র ঘটনার সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্ট প্রকাশকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন এই প্রবীণ অভিনেতা।

এই পুরো বিতর্কের রেশ ধরে টিভিকে দলের বিশ্বস্ত মিত্র এবং কংগ্রেস দলের বিশিষ্ট নেতা মানিকম ঠাকুর আরও জোরালো দাবি সামনে এনেছেন। তিনি কেবল পেরিয়ার লাইব্রেরি একাই নয়, বরং বিগত ডিএমকে সরকারের গোটা আমল জুড়ে রাজ্যের যতগুলো গ্রন্থাগারের জন্য নতুন বই কেনা হয়েছিল, তার প্রতিটির পূর্ণাঙ্গ ও সামগ্রিক নিরীক্ষা এবং নিরপেক্ষ তদন্তের জোরালো দাবি উত্থাপন করেছেন।

সূত্র: আজকের পত্রিকা


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
অন্তর্বাস পরে অ্যাকশন দৃশ্যের চাপে রাধিকা আপ্তে

অন্তর্বাস পরে অ্যাকশন দৃশ্যের চাপে রাধিকা আপ্তে