ঢাকা | বঙ্গাব্দ

অনুমোদনহীন জনবল নিয়োগে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 29, 2026 ইং
অনুমোদনহীন জনবল নিয়োগে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নেওয়ার নামে অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অথচ ২০২৫ সালের জুনে নির্ধারিত মেয়াদ পেরিয়ে গেলেও এই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের প্রশাসনিক অনুমোদন বা আদেশ দেওয়া হয়নি। ফলে কোনো প্রতিষ্ঠানকে জনবল সংগ্রহের জন্য মেন্ডেট দেওয়া কিংবা আর্থিক লেনদেন করা পুরোপুরি অবৈধ ও নীতিবহির্ভূত বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্ট খাতের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা।

এ প্রসঙ্গে প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) মঞ্জুর-উল-আলম সংবাদমাধ্যমকে জানান, কর্মী নিয়োগের দীর্ঘসূত্রতা এড়াতে মেয়াদ বৃদ্ধির আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পূর্বেই তারা সংবাদপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে দরপত্র আহ্বান করেছিলেন। এদিকে কৃষি মন্ত্রণালয়ে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একটি বিশেষ মূল্যায়ন সভায় এই প্রকল্পের মেয়াদকাল আরও এক বছর বাড়ানোর সপক্ষে প্রস্তাব ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

দীর্ঘ ১৬ মাস ধরে এই প্রকল্পের মোট ৭৭ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী কোনো ধরনের বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না বলে জানা গেছে। গত বছরের জুলাই মাস থেকেই তাদের মাসিক বেতন পরিশোধ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। গত ১৯ অক্টোবর রাজধানীর খামারবাড়ি এলাকায় অবস্থিত কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রকল্প কার্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, ভুক্তভোগী কর্মীরা অলস ও কর্মহীন অবস্থায় সময় কাটাচ্ছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, এই কার্যক্রমে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় বর্তমানে সেখানে একটি বিশেষ নিরীক্ষা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ ছাড়া প্রকল্প পরিচালকের কক্ষটি সার্বক্ষণিক তালাবদ্ধ অবস্থায় থাকতে দেখা যায়। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি জানান, পিডি মঞ্জুর-উল-আলমের সরকারি চাকরির মেয়াদ গত ২৩ আগস্ট শেষ হয়ে গেলেও তিনি নিজের কক্ষটি তালাবদ্ধ করে জবরদখল করে রেখেছিলেন। পরবর্তীতে প্রকল্পেরই একজন উপ-প্রকল্প পরিচালকের (ডিপিডি) নেতৃত্বে সেই তালা ভেঙে সেখানে নতুন তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।

প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি পেলে সদ্য সাবেক পিডি মঞ্জুর-উল-আলম চুক্তিভিত্তিক পজিশনে পুনরায় পরিচালক পদ বাগাতে প্রশাসনের বিভিন্ন মহলে জোর লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে ডিপিডি মাজহারুল ইসলামও এই প্রকল্পের পরিচালক হওয়ার জন্য কৃষক দলের এক শীর্ষ নেতার ছত্রচ্ছায়ায় তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন বলে চারদিকে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।

অফিস কক্ষ দখলের বিষয়ে নিজের সাফাই গেয়ে মঞ্জুর-উল-আলম সংবাদমাধ্যমকে বলেন যে, তিনি দাপ্তরিকভাবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেননি এবং সেখানে তার প্রয়োজনীয় ফাইলপত্র সংরক্ষিত আছে। সাবেক এই পিডি আরও দাবি করেন, তিনি প্রকল্পের ডিপিপি সংশোধন করেছেন এবং নতুন করে অনিয়ম রোধের চেষ্টা করছেন। তার ভাষ্যমতে, কিছু দুর্নীতিপরায়ণ ব্যক্তি ও অনিয়মে অভিযুক্ত যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে এই প্রকল্পটিকে চিরতরে বন্ধ করার গভীর ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে।

পুরো বিষয়টি নিয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুর রহিম জানান, আলোচিত কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পটি নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা ধরনের দুর্নাম ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই উদ্যোগের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি এখনো সরকারের তরফ থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি। প্রকল্পের কার্যক্রমে যদি কোনো ধরনের অনিয়মের সুনির্দিষ্ট ও পাকাপোক্ত প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তাত্ক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অতীতে যেসব কর্মকর্তা বিভিন্ন দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাদের বিচারিক প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে চলমান রয়েছে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রশাসন সবসময় কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

সূত্র: আজকের পত্রিকা


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
পলাশবাড়ীতে এডিপির পৌনে ৩ কোটির প্রকল্পে দুর্নীতি, তদন্ত কমিট

পলাশবাড়ীতে এডিপির পৌনে ৩ কোটির প্রকল্পে দুর্নীতি, তদন্ত কমিট