নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের ৪৮টি সংলগ্ন অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন বায়ুবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে সংগৃহীত মোট ৪৯৯টি আলাদা গবেষণা প্রতিবেদন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করেছেন গবেষক স্ট্র, লাবুজেট্টা এবং তাঁদের সহযোগীরা।
১৯৮১ থেকে শুরু করে ২০২৪ সাল দীর্ঘ এই সময়সীমার মধ্যে বায়ুকল বা টারবাইনের আঘাতে ঠিক কতসংখ্যক বাদুড় প্রাণ হারিয়েছে, তা সুনির্দিষ্টভাবে অনুমান করাই ছিল তাঁদের এই গবেষণার মূল উদ্দেশ্য।
এই গবেষণায় গবেষক দল বিশেষভাবে মোট ১০ প্রজাতির বাদুড়ের ওপর তাঁদের নজর নিবদ্ধ রেখেছিলেন এবং দীর্ঘ মেয়াদে ঘটা এই প্রাণহানির পরিসংখ্যান বের করার চেষ্টা চালান।
মৃত বাদুড়ের সঠিক সংখ্যা নিরূপণে তাঁরা একটি বিশেষ পরিসংখ্যানভিত্তিক মডেল ব্যবহার করেন, যার মাধ্যমে প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের অনুসন্ধান পদ্ধতির ভিন্নতা আমলে নেওয়া হয়।
এছাড়াও টারবাইনের নির্দিষ্ট আকার, এর বিভিন্ন ধরনের নকশা এবং ওইসব কেন্দ্রের পারিপার্শ্বিক প্রাকৃতিক পরিবেশ কেমন ছিল, তা ওই মডেলে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছিল।
তথ্য-উপাত্তের এই সামগ্রিক বিশ্লেષণ থেকে বেরিয়ে এসেছে যে, ১৯৮১ থেকে ২০২৪ সালের এই দীর্ঘ সময়ে বায়ুবিদ্যুৎ টারবাইনের ধাক্কায় আনুমানিক ১ কোটি ৮৭ লাখ বাদুড় মারা গেছে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা অনুযায়ী, কেবল ২০২১ সাল থেকে শুরু করে প্রতি বছরই বাদুড়ের মৃত্যুর এই সংখ্যাটি ১৫ লাখের গণ্ডি অনায়াসে অতিক্রম করে চলেছে।
এই ক্রমবর্ধমান মৃত্যুর একটি অন্যতম সম্ভাব্য প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে যে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশজুড়ে আরও বিপুল পরিমাণে বায়ুবিদ্যুৎ টারবাইন স্থাপন করা হয়েছে।
বিভিন্ন নির্দিষ্ট প্রজাতির ক্ষেত্রে বায়ুকলের আঘাতে প্রাণহানির এই পরিসংখ্যানেও বেশ বড় ধরনের তারতম্য বা পার্থক্য স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা গেছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, এই আকস্মিক দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এবং প্রাণ হারানো প্রজাতিটি হলো হোয়ারি বাদুড়, যার বৈজ্ঞানিক নাম লাসিউরাস সিনেরিয়াস।
একমাত্র এই হোয়ারি প্রজাতিরই আনুমানিক প্রায় ৬৭ লাখ বাদুড় বায়ুবিদ্যুৎকেন্দ্রের টারবাইনের আঘাতে মারা গেছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।
হোয়ারি বাদুড়ের ঠিক পরেই সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির শিকার হয়েছে ইস্টার্ন রেড বাদুড়, যা বৈজ্ঞানিকভাবে লাসিউরাস বোরিয়ালিস নামে পরিচিত।
এই ইস্টার্ন রেড প্রজাতির বাদুড়ের ক্ষেত্রে মৃত্যুর আনুমানিক সংখ্যা প্রায় ৫৮ লাখের কাছাকাছি বলে গবেষকেরা তাঁদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন।
তালিকায় এরপরেই রয়েছে সিলভার-হেয়ারড বাদুড় বা লাসিওনাইটেরিস নকটিভাগানস প্রজাতিটি, যাদের আনুমানিক প্রায় ৩৪ লাখ সদস্য মারা গেছে।
সবশেষে, বিগ ব্রাউন বাদুড় বা এপটেসিকাস ফাসকাস প্রজাতির ক্ষেত্রে টারবাইনের আঘাতে মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ বলে পরিসংখ্যানে জানানো হয়েছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর