ঢাকা | বঙ্গাব্দ

প্রথম দেখায় কোহলিকে কেন দাম্ভিক ঠেকেছিল ডি ভিলিয়ার্সের কাছে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 19, 2026 ইং
প্রথম দেখায় কোহলিকে কেন দাম্ভিক ঠেকেছিল ডি ভিলিয়ার্সের কাছে ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

ভারতীয় ক্রিকেটের উজ্জ্বল নক্ষত্র বিরাট কোহলি এবং দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি ক্রিকেটার এবি ডি ভিলিয়ার্সের মধ্যকার পারস্পরিক বোঝাপড়া ও মাঠের বাইরের বন্ধুত্বের কথা সবারই জানা। অথচ এই প্রোটিয়া সাবেক অধিনায়কই কিনা অতীতে কোহলিকে প্রথম দেখায় বেশ অহংকারী এবং দাম্ভিক হিসেবে গণ্য করেছিলেন।

বিষয়টি শুনে যে কারও মনে বিস্ময় জাগতে পারে, তবে এই তথ্যটি খোদ ডি ভিলিয়ার্স নিজেই প্রকাশ করেছেন। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস, বর্তমান ভারতীয় তারকাও তাঁর এই অতীতের মূল্যায়নের সঙ্গে একমত পোষণ করবেন।

সম্প্রতি প্রখর গুপ্তর একটি পডকাস্ট অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে কোহলির সঙ্গে প্রাথমিক পরিচয়ের পুরোনো স্মৃতি রোমন্থন করেন ডি ভিলিয়ার্স। সেখানে ভারতীয় ব্যাটারকে নিয়ে তাঁর মনে জন্ম নেওয়া প্রথম ধারণার বিষয়টি সাবলীলভাবে উঠে আসে।

সঞ্চালকের তরফ থেকে ডি ভিলিয়ার্সকে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে, সত্যিই কি তাঁর কাছে কোহলিকে প্রথম দেখায় অহংকারী বলে মনে হয়েছিল কি না। এর জবাবে বিন্দুমাত্র রাখঢাক না রেখে প্রোটিয়া কিংবদন্তি সোজাসাপ্টা স্বীকার করে নেন যে, হ্যাঁ, তাঁর তেমনই মনে হয়েছিল এবং কোহলি নিজেও এ বিষয়ে দ্বিমত করবেন না।

কিন্তু ঠিক কী কারণে কোহলির আচরণ ডি ভিলিয়ার্সের কাছে এমন লেগেছিল, সেই প্রশ্নও স্বাভাবিকভাবেই চলে আসে।

মূলত অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস এবং অহংকারের মধ্যে যে অত্যন্ত সূক্ষ্ম একটি বিভাজনরেখা রয়েছে, অনেক সময় প্রবল আত্মবিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশকেও মানুষ ভুলবশত অহংকার হিসেবে ধরে নেয়। কোহলির ক্ষেত্রেও ডি ভিলিয়ার্সের মনে ঠিক এমন ধারণাই জন্ম নিয়েছিল।

সেকালের কোহলির ব্যক্তিত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ডি ভিলিয়ার্স উল্লেখ করেন যে, সেই সময় তরুণ কোহলির ভেতরে ভরপুর আত্মবিশ্বাস ছিল এবং সে সবসময়ই নিজস্ব মেজাজে ক্রিকেট খেলে এসেছে। আর এই ধরনের আচরণকে মানুষ মাঝেমধ্যেই ভুলভাবে মূল্যায়ন করে, যা তাঁর নিজের ক্ষেত্রেও ঘটেছিল বলে জানান তিনি।

কোহলির সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতের সেই স্মৃতিচারণায় অবশ্য বর্তমানে একধরনের রসিকতার সুর টেনেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার এই সাবেক ব্যাটিং maestro।

তিনি মজার ছলেই বলেন যে, ওটা তাঁর প্রারম্ভিক ধারণা ছিল এবং যখন তিনি এই কথাগুলো উচ্চারণ করেন, তখন এর পেছনে কিছুটা লঘুভাবও থাকে। ১৯, ২০ কিংবা ২১ বছর বয়সের তরুণ কোহলি যে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী এক যুবা ছিলেন, ক্যারিয়ারের সূচনালগ্নের সেই পরিস্থিতি স্মরণ করেন তিনি।

তবে কোহলির সেই বয়সের অতি-আত্মবিশ্বাসের মাঝে কোনো নেতিবাচক দিক দেখতে নারাজ ডি ভিলিয়ার্স। তাঁর সুনির্দিষ্ট মত হলো, একজন বড় মাপের ক্রিকেটার বা সফল হতে হলে খেলোয়াড়ের মধ্যে এই মাত্রার আত্মবিশ্বাস থাকাটা জরুরি।

দক্ষিণ আফ্রিকার এই সাবেক তারকা ব্যাটার আরও ব্যাখ্যা করেন যে, নিজের দক্ষতার ওপর গভীর আস্থা রাখা আবশ্যক এবং বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মানুষ কেবল এটাই শেখে যে কীভাবে ওই অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসকে সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়।

বিরাট কোহলির ক্ষেত্রেও অবিকল এই ঘটনাটিই ঘটেছে বলে বিশ্বাস করেন ডি ভিলিয়ার্স। বয়স এবং অভিজ্ঞতা বাড়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সফলতার সিঁড়ি বেয়ে তিনি অনেক উঁচুতে পৌঁছেছেন, আর এর হাত ধরেই তাঁর ব্যক্তিত্বে রূপান্তর এসেছে।

ডি ভিলিয়ার্সের ভাষায়, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কোহলির ভেতরের সেই অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের প্রবণতা হ্রাস পেয়েছে এবং একজন মানুষ ও ক্রিকেটার হিসেবে তিনি আরও বেশি পরিণত ও ভারসাম্যপূর্ণ হয়ে উঠেছেন।

তরুণ বয়সে কোহলির হয়তো চারিপাশের দুনিয়াকে নিজের সামর্থ্য প্রমাণ করার তাগিদ বেশি ছিল, কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় সেই তাড়নাও স্তিমিত হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। অন্যদের সামনে নিজেকে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী জাহির করার প্রয়োজনও তিনি পরবর্তীতে আর অনুভব করেননি, আর এভাবেই তাঁর ভেতরের পরিবর্তনটি এসেছে।

উল্লেখ্য, ক্রিকেট মাঠের প্রথম পরিচয়ের পর থেকেই কোহলি ও ডি ভিলিয়ার্সের বন্ধুত্বের সূত্রপাত ঘটেছিল। তবে তাদের এই সম্পর্কটি সত্যিকার অর্থে গভীরতার রূপ নেয় যখন তারা আইপিএলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে একই ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি করতে শুরু করেন।

দীর্ঘ বছর ধরে একই দলের জার্সিতে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করতে করতে তারা একে অপরকে আরও গভীরভাবে অনুধাবন করার সুযোগ পান। এর ফলেই মাঠের ভেতরে দুর্দান্ত বোঝাপড়া এবং মাঠের বাইরে গাঢ় বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে।

সময়ের বিবর্তনে কোহলির অসাধারণ ক্রিকেটীয় প্রতিভার পাশাপাশি একজন মানুষ হিসেবেও তাঁর প্রতি ডি ভিলিয়ার্সের শ্রদ্ধা ও মুগ্ধতার মাত্রা কেবল ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

যাঁকে প্রারম্ভিক দেখায় দাম্ভিক ঠেকেছিল, সেই কোহলিই আজ দক্ষিণ আফ্রিকান তারকার অন্যতম অন্তরঙ্গ বন্ধু। প্রারম্ভিক ধারণা যে সবসময় চূড়ান্ত সত্য হয় না, তাদের দুই তারকার এই দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বই তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
পঞ্চগড়ের মহানন্দার নুড়িপাথরে ভাগ্য বদলায় হাজারো মানুষের

পঞ্চগড়ের মহানন্দার নুড়িপাথরে ভাগ্য বদলায় হাজারো মানুষের