নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
গত শনিবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। এই পরীক্ষায় প্রায় ছয় লাখ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন এবং বহু শিক্ষার্থী তাঁদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন করতে পারেননি। যেসব পরীক্ষার্থী ফল নিয়ে অসন্তুষ্ট কিংবা আশানুরূপ ফল পাননি, তাঁরা নির্ধারিত নিয়মে খাতা পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করতে পারবেন। বাংলাদেশ আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি এই আবেদনপ্রক্রিয়া ও ফি জমা দেওয়ার বিস্তারিত নির্দেশিকা ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিয়েছে।
পুনর্নিরীক্ষণের এই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণভাবে অনলাইনে সম্পন্ন করতে হবে। ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে বা সরাসরি কাগজপত্রের মাধ্যমে কোনো ধরনের আবেদন গ্রহণ করা হবে না বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রকাশিত ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীরা আজ রোববার, ১ নভেম্বর ২০২৬ থেকে ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করার সুযোগ পাচ্ছেন। আগামী ৭ নভেম্বর পর্যন্ত এই আবেদনপ্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।
আবেদন করতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের প্রথমে নির্ধারিত অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। ওয়েবসাইটের নির্দিষ্ট ফিল্ডে নিজেদের রোল নম্বর ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর সঠিকভাবে ইনপুট দিতে হবে। এরপর স্ক্রিনে প্রদর্শিত বোর্ডের ড্রপডাউন তালিকা থেকে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড সিলেক্ট করে ‘সাবমিট’ অপশনে ক্লিক করতে হবে।
পরবর্তী ধাপে পরীক্ষার্থীকে একটি সচল মোবাইল নম্বর প্রদান করতে হবে। পুনর্নিরীক্ষণের কার্যক্রম শেষে যখন ফলাফল প্রকাশিত হবে, তখন এই মোবাইল নম্বরেই এসএমএস-এর মাধ্যমে আপডেট জানিয়ে দেওয়া হবে। এরপরের স্ক্রিনটিতে শিক্ষার্থীর বিভিন্ন বিষয়ের প্রাপ্ত নম্বরের বিশদ বিবরণ ও ফলাফল দেখতে পাওয়া যাবে।
শিক্ষার্থীরা এক বা একাধিক বিষয়ের খাতা পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এ জন্য সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর ঘর সিলেক্ট করে ‘ফি প্রদান করুন’ বাটনে ক্লিক করতে হবে। প্রতিটি পত্রের পুনর্নিরীক্ষণের জন্য ১৫০ টাকা করে ফি ধার্য করা হয়েছে। যেসব বিষয়ে দুটি পত্র রয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে উভয় পত্রের জন্যই আবেদন করতে হবে।
পরবর্তী ধাপে শিক্ষার্থীর মোট প্রদেয় ফির পরিমাণ স্ক্রিনে ভেসে উঠবে। বিকাশ, নগদ, ডিবিবিএল রকেট, উপায় এবং সোনালী সেবার মতো জনপ্রিয় মাধ্যমগুলোর মাধ্যমে এই ফি পরিশোধ করা যাবে। সংশ্লিষ্ট পোর্টালের ‘পে’ বাটনে ক্লিক করলে ফি পরিশোধের প্রক্রিয়াটির বিস্তারিত ধাপগুলো পরিষ্কার দেখতে পাওয়া যাবে।
নির্ধারিত ফি সফলভাবে পরিশোধ করার পর আবেদন পোর্টালে পুনরায় প্রবেশ করে ‘জমা দিন’ বাটনে ক্লিক করতে হবে। একবার ফি দিয়ে আবেদন জমা দেওয়ার পরও যদি কেউ নতুন কোনো বিষয় যুক্ত করতে চান, তবে একই নিয়মে পুনরায় আবেদন করা যাবে। তবে এই বাড়তি বিষয়ের জন্য নতুন করে মোবাইল নম্বর ইনপুট দেওয়ার প্রয়োজন হবে না।
ফি পরিশোধের পূর্বে যদি আবেদনে কোনো ধরনের পরিবর্তন বা পরিমার্জনের প্রয়োজন হয়, তবে ‘মুছে ফেলুন’ বাটনে ক্লিক করে যে বিষয়গুলোর ফি এখনো দেওয়া হয়নি সেগুলো বাদ দেওয়া যাবে। এ ছাড়া নতুন বিষয়ও পছন্দ করা যাবে। তবে একবার ফি জমা হয়ে গেলে সেই আবেদন আর বাতিল করা সম্ভব নয় এবং জমাকৃত ফি কোনো অবস্থাতেই ফেরত দেওয়া হবে না।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর