নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
প্রতিদিনের নিয়ম মেনে কাচের জানালার ঠিক পাশেই অবস্থিত গাছটিতে একটি ছোট্ট কাঠবিড়ালি উপস্থিত হয়। মিষ্টি ফলটির বদলে গাছটির সবুজ অংশ তার খাবার হিসেবে গ্রহণ করতে দেখে লেখক ভীষণ তাজ্জব বনে যান। এই প্রাণীটি যে এমন খাবারও খেতে পারে, সেই ধারণা লেখকের পূর্বে একেবারেই অনুপস্থিত ছিল।
প্রায় নির্দিষ্ট একটা বেলায় নিয়মিতভাবে তার আগমন ঘটত। পর্যবেক্ষক হিসেবে লেখক তাকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করলেও, একপর্যায়ে প্রাণীটির দৃষ্টিও লেখকের ওপর পড়ে যায়। অপ্রত্যাশিত এই দেখায় সে খানিকটা আতঙ্কিত হয়ে দ্রুতগতিতে পলায়ন করে।
পরবর্তী সময়ে তার অনুপস্থিতির আশঙ্কায় লেখক মনে মনে গভীর উদ্বেগে ভুগেছিলেন। মূলত এই নিয়মিত আগন্তুকটির প্রতি লেখকের মনের ভেতরে এক প্রকার গভীর ভালোবাসা ও স্নেহের সম্পর্ক জন্ম নিয়েছিল।
সকল শঙ্কাকে ভুল প্রমাণিত করে ঠিক পরের দিনই সে আবার হাজির হয়। কাঁচের ফাঁক দিয়ে ভেতরের দিকে উঁকি মেরে সে সম্ভবত লেখককে খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করছিল।
আড়াল থেকে সম্পূর্ণ বিষয়টি খেয়াল করছিলেন লেখক নিজেও। তবে আজকের দিনে সামনে চলে আসার পরও সে আর আগের মতো ভয় পেয়ে পালিয়ে যায়নি।
ক্রমশ এই দীর্ঘ মেলামেশার সুবাদে দুজনের মাঝে দারুণ একটি বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই অদ্ভুত বন্ধুত্বের কথা সম্পূর্ণ গোপন রাখা হয় এবং লেখক একা একাই তার সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন।
গোপন এই বন্ধুত্বের পরিসরে লেখক তাকে বিভিন্ন কিআ বা ছড়া আবৃত্তি করে শোনান। ছড়ার পংক্তিগুলো শুনে সে এতটাই আনন্দিত হয় যে একটি পাঠ সমাপ্ত হতেই পরবর্তীটির জন্য উদগ্রীব হয়ে বসে থাকে।
তার ছোট্ট মনে দারুণ কৌতূহল জাগে এবং সে বারবার লেখকের কাছে জানতে চায় কখন নতুন কিআ বা ছড়া শোনানো হবে।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর