নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত গীতিমাল্য কাব্যগ্রন্থের ‘পেয়েছি ছুটি, বিদায় দেহ ভাই’ কবিতার সুর ও ছায়ার আদলে রচিত হয়েছে এই বিদায়ের প্রাঙ্গণ। যেখানে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেওয়ার একটি ভিন্নধর্মী ও কাব্যিক চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। দীর্ঘদিনের কর্মক্ষেত্রকে বিদায় জানিয়ে টেবিলের চেয়ারটিকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানানোর মধ্য দিয়ে এই ভাবনার সূচনা ঘটে।
অফিসের চাবিগুলো নিজ দায়িত্বে ফিরিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে জানানো হয় যে এই পদের ওপর আর কোনো অধিকার বা দাবি রাখা হবে না। জীবন ও কর্মের এই সন্ধিক্ষণে চারপাশ থেকে শুধু কিছু মিষ্টি ও সান্ত্বনার বাণী প্রত্যাশা করা হয়। দীর্ঘ ছুটির পর সেই বিদায়ের মুহূর্তটিকেই এভাবে কবিতার ছন্দে তুলে ধরা হয়েছে।
অতীতে দীর্ঘদিন ধরে একটি নির্দিষ্ট দায়িত্বে আসীন থাকার অভিজ্ঞতা স্মরণ করা হয়। সেই দিনগুলোতে ক্ষমতার প্রভাবে চারদিকে মানুষের ভিড় ও রথের মতো গাড়ি ঘোরার দৃশ্য আজ কেবলই অতীত স্মৃতির পাতায় জমা হয়েছে। পদের জোরে পাওয়া গাড়ি, লাল-সবুজ পতাকা আর চারপাশের মানুষের ‘স্যার’ সম্বোধন আজ হারিয়ে গেছে। আগের মতো সেই পরিচিত ডাকটি আর শুনতে না পাওয়ার বেদনাও এখানে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
হঠাৎ করেই উপরমহল থেকে নির্দেশ আসে যে এবার আসন ছেড়ে নেমে পড়ার সময় ঘনিয়ে এসেছে। সেই নির্দেশ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কক্ষের বাতি নিভে যায়, দরজার নামফলক সরে যায় এবং চেয়ারটি নতুন কারও বসার অপেক্ষায় পলকহীন তাকিয়ে থাকে।
এই বিদায়ের মুহূর্তে গণেশ সান্ত্বনা দিয়ে প্রশ্ন করেন যে ছুটি পাওয়ার পর তো সবার খুশি হওয়ার কথা, তবে কেন চোখের জল ফেলা হচ্ছে। তখন জবাবে বলা হয় যে এই ছুটি কি কখনো নিজের ইচ্ছায় চাওয়া হয়েছিল? বিনা আহ্বানেই তো সেই ছুটি এসে হাজির হয়েছে। স্বেচ্ছায় দায়িত্ব ছাড়ার সঙ্গে অন্যের নির্দেশে পদ হারানোর মাঝে যে আকাশ-পাতাল তফাত রয়েছে, সেটাই এখানে বড় হয়ে দেখা দেয়।
বিদায়ের সময় চেয়ারটি যেন নিজেই কথা বলে ওঠে এবং সান্ত্বনা দিয়ে বলে যে আবার হয়তো সবার সঙ্গে দেখা হতে পারে। এই চেয়ারটিকে নিজেদের আপন মনে করে কত মানুষই তো অতীতে এর দায়িত্বে এসেছে। কিন্তু পৃথিবীর নিয়মে কেউই তো চিরদিনের জন্য এই আসনে টিকে থাকতে পারে না।
পদ চলে গেলেও দপ্তরের খাতাগুলো এবং অমীমাংসিত প্রশ্নগুলোর পাতাগুলো ঠিকই রয়ে যায়। চাবি বুঝিয়ে দিয়ে এবং রুমের দরজা ছেড়ে যাওয়ার সময় প্রশ্ন জাগে, এতদিনের কাজের হিসাব কোথায় গিয়ে শেষ হবে। জবাবদিহিতা বা কৈফিয়ত দেওয়ার সেই কঠিন সময়ে এসে যেন ছুটির বাহানা বা কথাটি আর সামনে চলে না আসে।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর