ঢাকা | বঙ্গাব্দ

আফগানদের কাছে অসহায় হারে বাংলাদেশের ফাইনাল খেলার স্বপ্নের অপমৃত্যু

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 21, 2026 ইং
আফগানদের কাছে অসহায় হারে বাংলাদেশের ফাইনাল খেলার স্বপ্নের অপমৃত্যু ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

বিজয়ী হওয়ার পাশাপাশি হিসাব-নিকাশ মেলানোর লক্ষ্য সামনে রেখেই মাঠে নেমেছিল দল। প্রতিপক্ষ দলের মুখোমুখি হওয়ার পূর্বে নানা সমীকরণ নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। প্রথমে ব্যাটিং করলে একরকম এবং পরে ব্যাটিং করলে অন্যরকম লক্ষ্য অর্জনের যে ছক কষা হয়েছিল, তার সবই মাঠে মারা গেছে।

হিসাব মিলিয়ে জয়ের দেখা পাওয়া তো দূরের কথা, শারজার মাঠে প্রতিপক্ষের সামনে টিকতেই পারেনি বাংলাদেশ। দুর্বল ব্যাটিং প্রদর্শনের পর মলিন বোলিংয়ের কারণে কোনো প্রতিরোধই গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রেখে প্রতিপক্ষ মাত্র তিন উইকেট হারিয়ে এবং ৮৭ বল হাতে রেখেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য টপকে যায়।

টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে দলটি অলআউট হওয়ার আগে ১৬০ রান সংগ্রহ করে। ফাইনালে যাওয়ার পথ উন্মুক্ত করতে হলে প্রতিপক্ষকে ১১৯ রানের ভেতরে বেঁধে ফেলতে হতো। প্রতিপক্ষ সেই রান টপকে যাওয়ায় ফাইনাল খেলার সম্ভাবনা নিভে যায়। আগামী পরশু অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে আফগানিস্তানের মুখোমুখি হবে জিম্বাবুয়ে।

দিনটি যে দলের জন্য ভালো যাবে না, সেটি প্রথম থেকেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। ইনিংসের শুরুতেই অল্প রানে উইকেট হারিয়ে পরিস্থিতি বেশ ঘোলাটে হয়ে পড়েছিল। বড় ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেওয়ার কথা ভাবার চেয়ে তখন আত্মরক্ষা করা এবং সম্মানজনক পুঁজি গড়াই প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

একদিনের ক্রিকেটে এই সংগ্রহকে কোনোভাবেই প্রতিযোগিতামূলক বলা চলে না। বিপর্যয়ের মুখে পড়ে দলটি আরও কম রানে গুটিয়ে না যাওয়াকে হয়তো ইতিবাচকভাবে দেখা যায়, কিন্তু বাজে শট খেলে যেভাবে একে একে ব্যাটাররা সাজঘরে ফিরেছেন, তার কোনো যৌক্তিক কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না।

সংক্ষিপ্ত সংগ্রহ এক শ রানের নিচে না নামার মূল কৃতিত্ব ওপেনার সাইফ হাসান এবং দলের নতুন মুখ পারভেজ হোসেনের। পঞ্চম উইকেটে তাদের জুটিতে যোগ হয় উল্লেখযোগ্য রান, যার মধ্যে পারভেজ চমৎকার একটি ইনিংস উপহার দেন।

মধ্যভাগে সাইফ আউট হয়ে যাওয়ায় সেই প্রতিরোধ ভেঙে পড়ে। পুরো ইনিংসে ধীরগতিতে ব্যাটিং করেছেন সাইফ। বড় শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে তিনি বিদায় নেন।

তার পতনের পরও পারভেজ ইনিংস বড় করার চেষ্টা চালিয়ে যান, তবে অপর প্রান্তে স্থায়ী হতে পারেননি সতীর্থরা। মেহেদী হাসান মিরাজ শর্ট বল খেলতে গিয়ে দ্রুতই ফিরে যান।

পারভেজও শেষ পর্যন্ত টিকতে পারেননি এবং ব্যক্তিগত বড় ইনিংস খেলার পথে থামতে হয় তাকে। এরপর খুব দ্রুতই বাকি উইকেটগুলো হারিয়ে ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে। সূচনালগ্নে বিপর্যয়ের পরও পুরো চল্লিশ ওভার খেলা ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা যেতে পারে।

এই রান দিয়ে জয় পাওয়া দুরূহ ছিল, আর সমীকরণ মিলিয়ে জয় ছিনিয়ে আনা ছিল প্রায় অবাস্তব। প্রথম দিকে কয়েকটি উইকেট তুলে নিয়ে বোলাররা কিছুটা আশার আলো জ্বালালেও প্রতিপক্ষের সাবলীল ব্যাটিংয়ে সেই আশা ফিকে হয়ে যায়।

নির্দিষ্ট ওভারের আগেই লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে প্রতিপক্ষ। হতাশা সঙ্গী করে এই টুর্নামেন্ট শেষ করে দলটিকে দেশে ফিরতে হচ্ছে। কাছাকাছি মানের দলের বিপক্ষে বড় আশা নিয়ে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিল বাংলাদেশ।

চ্যাম্পিয়ন হওয়া তো দূরে থাক, শেষ পর্যন্ত সেরা দুইয়েও জায়গা পাওয়া গেল না। পাশাপাশি পুরো সিরিজে ব্যাটারদের ব্যর্থতা নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন ঝুলছে। এই দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার জন্য সময় খুবই কম রয়েছে, কারণ আগামী বছরই বিশ্ব আসরে মাঠে নামতে হবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ওয়াশিংটনে ইসরাইল-লেবানন শান্তি আলোচনা আগামী সপ্তাহে

ওয়াশিংটনে ইসরাইল-লেবানন শান্তি আলোচনা আগামী সপ্তাহে