নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি বা এনসিএ আদালতের মাধ্যম দেশটির রাজধানী লন্ডনে অবস্থিত প্রায় পনেরো মিলিয়ন পাউন্ড সমমূল্যের একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট অবরুদ্ধ করেছে। এই স্থাবর সম্পত্তির মালিকানা রয়েছে বাংলাদেশের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর ভাই আনিসুজ্জামান চৌধুরীর নামে।
আইনজীবীদের পক্ষ থেকে এই আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে কোনো রকম আপত্তি জানানো হয়নি। তবে গণমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের সঙ্গে আলাপকালে অভিযুক্ত আনিসুজ্জামান চৌধুরী নিজের সাফাই গেয়ে জানান যে, তিনি যথাযথ আইনি পরামর্শ নেওয়ার পরই এই জব্দের প্রক্রিয়ায় কোনো বাধা সৃষ্টি না করার সিদ্ধান্ত নেন।
নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি আরও দাবি করেন যে, তিনি কোনো ধরনের বেআইনি কিংবা অপরাধমূলক কার্যক্রমের সঙ্গে কখনোই যুক্ত ছিলেন না। যুক্তরাজ্যের এই তদন্তকারী সংস্থা যদি তার বিরুদ্ধে কোনো দেওয়ানি মামলা দায়ের করে, তবে তিনি আইনি কাঠামোর মধ্য থেকেই তীব্র লড়াই চালিয়ে যাবেন বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
গত বছরের আগস্ট মাসে গণঅভুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের আকস্মিক পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশ থেকে বিদেশে অবৈধভাবে পাচার হওয়া সমস্ত অর্থ ও সম্পদ পুনরায় দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর ও জোরালো তৎপরতা শুরু করেছে।
এর আগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং তাঁর পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের বিরুদ্ধে বিদেশে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ ও সম্পত্তি গড়ে তোলার গুরুতর অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছিল। এনসিএর সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯২ সাল থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের আগস্টে বিগত সরকারের পতন পর্যন্ত তাদের সব বৈদেশিক সম্পত্তির সম্মিলিত আর্থিক মূল্য প্রায় ২৯৫ মিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকেছে।
চলমান দেওয়ানি তদন্তের ধারাবাহিক অংশ হিসেবে চলতি বছরের জুন মাসে যুক্তরাজ্যের এনসিএ সাইফুজ্জামান চৌধুরীর ব্যক্তিগত মালিকানাধীন প্রায় ১৮৫ মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের অসংখ্য সম্পত্তি ইতিমধ্যে সফলভাবে জব্দ করেছে। যদিও আনিসুজ্জামান চৌধুরী দাবি করেছেন যে তার ভাইয়ের সঙ্গে তার কোনো ধরনের ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব বা সম্পর্ক নেই, তবুও যুক্তরাজ্যের সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থাগুলো এই প্রভাবশালী পরিবারের সামগ্রিক আর্থিক অনিয়মের বিরুদ্ধে তাদের তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর