ঢাকা | বঙ্গাব্দ

পূজায় তিন দেশীয় ছবি মুক্তি পেলেও প্রেক্ষাগৃহে দর্শকের সাড়া নিয়ে প্রশ্ন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 20, 2026 ইং
পূজায় তিন দেশীয় ছবি মুক্তি পেলেও প্রেক্ষাগৃহে দর্শকের সাড়া নিয়ে প্রশ্ন ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

চলতি দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে তিনটি নতুন বাংলা সিনেমা। ছবিগুলো হলো ‘চিরকুট’, ‘কাট–পিস’ ও ‘স্নেহের বন্ধন’। পূজার উৎসবে একসঙ্গে তিনটি দেশীয় চলচ্চিত্র মুক্তি পাওয়ার ঘটনাকে অত্যন্ত ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছেন চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তবে একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে যে, এই সিনেমাগুলো শেষ পর্যন্ত প্রেক্ষাগৃহে আশানুরূপ দর্শক টানার ক্ষেত্রে ঠিক কতটা সফল হতে পারছে।

ষাটোর্ধ্ব আরিফুর নাহার নিয়মিতভাবে প্রেক্ষাগৃহে সিনেমা দেখতে যান এবং নতুন কোনো ছবি মুক্তি পেলে তা বন্ধুদের নিয়ে উপভোগ করার চেষ্টা করেন। গত রোববার তিনি তাঁর তিন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকার পান্থপথের স্টার সিনেপ্লেক্সে হলিউডের ‘স্ট্রিট ফাইটার’ সিনেমাটি দেখতে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে গিয়ে বাংলাদেশি ছবি ‘চিরকুট’ প্রদর্শিত হতে দেখে তাঁরা শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত বদল করে সেটিই দেখতে ঢুকে পড়েন।

তবে সিনেমাটি শেষ করে বের হওয়ার পর তাঁর মন সন্তুষ্ট হয়নি। নিজের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে আরিফুর নাহার গণমাধ্যমকে জানান যে, তাঁরা ছবি দেখেন ঠিকই, কিন্তু মন কোনোভাবেই ভরে না। নতুন সিনেমা মুক্তির আগে এর সঠিক প্রচারণা চালানো অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি মনে করেন এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকা উচিত বলে মত দেন।

রাজশাহীর গ্র্যান্ড রিভার ভিউ সিনেপ্লেক্সের ব্র্যান্ডিং ও ডিজিটাল বিভাগের দায়িত্বে নিয়োজিত মেহেদী হাসান জানান, তাঁদের প্রতিষ্ঠানে মূলত ‘চিরকুট’ ও ‘কাট–পিস’ প্রদর্শন করা হচ্ছিল। তবে দর্শক খরা থাকায় মুক্তির তৃতীয় দিনেই তাঁদেরকে ‘কাট–পিস’ সিনেমাটি পর্দা থেকে সরিয়ে নিতে হয়েছে।

অন্যদিকে, একই প্রেক্ষাগৃহে ‘চিরকুট’-এর দর্শক উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে মোটামুটি সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান মেহেদী হাসান। তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ দর্শক সমাগম ঘটছে এবং তাঁদের জোরালো আশা আগামী শুক্রবারের মধ্যে এই হার বেড়ে ৭০ শতাংশে উন্নীত হতে পারে।

মেহেদী হাসান আরও বলেন, যেহেতু ছবিটির মূল পটভূমি রাজশাহী অঞ্চলের গল্প নিয়ে তৈরি, তাই স্থানীয় মানুষের মধ্যে একটি আলাদা আবেগ ও আগ্রহ কাজ করছে। তবে তাঁর মতে, ছবিটির জন্য আরও ব্যাপক প্রচারণা চালানো প্রয়োজন ছিল এবং এর অনেক পরিচিত মুখ থাকা সত্ত্বেও তাঁদের ছবি ব্যবহার করে যথাযথ পোস্টার তৈরি করা হয়নি।

এদিকে ঢাকার কেরানীগঞ্জের লায়ন সিনেমাসের চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। গত মঙ্গলবার দুপুরে প্রেক্ষাগৃহটির প্রতিষ্ঠাতা মির্জা আবদুল খালেক জানান, সেখানে ‘স্নেহের বন্ধন’ ও ‘কাট–পিস’ ছবি দুটি দেখতে দর্শকের উপস্থিতি অত্যন্ত নগণ্য। সেখানে হলের মোট আসনসংখ্যার ১০ শতাংশ আসনও পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

মির্জা আবদুল খালেক আরও জানান যে, এই সিনেমাগুলো মুক্তির পর থেকে দিন যত গড়াচ্ছে, প্রেক্ষাগৃহে দর্শকের উপস্থিতি ততই ক্রমান্বয়ে কমতে শুরু করেছে, যা আয়োজকদের জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ঢাকার উত্তরার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তন্ময় হাসানও নিয়মিত বড় পর্দার সিনেমা দেখেন। হলিউড ও কোরীয় চলচ্চিত্রের পাশাপাশি তিনি নিয়মিতভাবে দেশীয় সিনেমাও উপভোগ করে থাকেন।

গত সোমবার তন্ময় তাঁর দুই বন্ধুকে নিয়ে সেন্টার পয়েন্টে গিয়ে ‘চিরকুট’ সিনেমাটি দেখেছেন। তিনি জানান যে, তিনি অতীতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে গিয়েছিলেন এবং সেখানে কয়েকবার বেড়াতেও গেছেন। ফেসবুকে যখন ‘রাজশাহীর গল্প এবার বড় পর্দায়’ এই প্রচারণামূলক বার্তাটি দেখেন, তখনই তিনি সিনেমাটি দেখার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।

অন্য কোনো ছবির সঙ্গে তুলনা টানতে না চাইলেও তন্ময়ের মতে, এই সিনেমাটিতে ভালো হওয়ার মতো অনেক উপাদান ও সম্ভাবনা বিদ্যমান ছিল। তাঁর কাছে মনে হয়েছে যে, ছবিটি একবার হলেও প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে দেখা যেতে পারে।

অন্যদিকে ঢাকার শ্যামলী সিনেমা হলের ব্যবস্থাপক আহসান উল্লাহ জানান, তাঁদের হলে ‘কাট–পিস’ সিনেমাটির প্রতিদিন নিয়মিতভাবে চারটি করে প্রদর্শনী চলছে। কিন্তু ৩১৬ আসনের বিশাল এই প্রেক্ষাগৃহটিতে প্রতিটি প্রদর্শনীতে এখন পর্যন্ত ছবিটির মাত্র ১০টিরও কম টিকিট বিক্রি হয়েছে।

গত মঙ্গলবার দুপুরে এই ব্যবস্থাপক বলেন যে, হাতে নতুন বা বিকল্প কোনো সিনেমা না থাকার কারণে বাধ্য হয়েই তাঁদেরকে এই ছবিটি চালিয়ে যেতে হচ্ছে। ভালো মানের সিনেমার জন্য সব সময়ই দর্শক মুখিয়ে থাকেন এবং যাঁরা চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন, তাঁদেরকেও দর্শকের সঠিক রুচি ও চাহিদার বিষয়টি গভীরভাবে উপলব্ধি করতে হবে।

শারদীয় দুর্গাপূজার এই সময়ে একসঙ্গে তিনটি সিনেমা মুক্তি পাওয়াকে সামগ্রিকভাবে ইতিবাচক হিসেবেই বিবেচনা করছেন চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এই প্রসঙ্গে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি আওলাদ হোসেন তাঁর মতামত ব্যক্ত করেছেন।

আওলাদ হোসেন বলেন, যদি সারা বছর ধরেই নিয়মিতভাবে ভালো মানের সিনেমা নির্মিত হতে থাকে, তবে দর্শকরা এমনিতেই প্রেক্ষাগৃহে ছুটে আসবেন। পূজার সময়ে সিনেমা মুক্তি পেয়েছে ঠিকই, কিন্তু বাস্তবে সেভাবে কোনো দৃশ্যমান প্রচারণা চোখে পড়েনি।

তিনি আরও যোগ করেন যে, শুধু উৎসবের ভরসায় না থেকে সিনেমার কনটেন্টের মান উন্নত করার দিকেও কঠোর নজর দিতে হবে। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন যে, এ ধরনের বড় উৎসবে যদি কোনো শীর্ষ তারকাদের বড় বাজেটের সিনেমা মুক্তি পায়, তবে তা অন্য মাঝারি বা ছোট সিনেমাগুলোর প্রতিও দর্শকদের একটি আলাদা আগ্রহ তৈরি করে, যা এই ক্ষেত্রেও কিছুটা কাজ করেছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
লেবাননে ইসরাইলের হামলা: যুদ্ধবিরতির জন্য হুমকি, ফ্রান্সের নি

লেবাননে ইসরাইলের হামলা: যুদ্ধবিরতির জন্য হুমকি, ফ্রান্সের নি