ঢাকা | বঙ্গাব্দ

মেটার ফুল-টাইম অফার পেলেন বাংলাদেশি গবেষক কাওছার

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 24, 2026 ইং
মেটার ফুল-টাইম অফার পেলেন বাংলাদেশি গবেষক কাওছার ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

বিখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটা প্ল্যাটফর্মস, ইনকরপোরেটেডের ক্যালিফোর্নিয়ার মেনলো পার্ক শাখায় মাল্টিমোডাল লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল ইন্টার্ন হিসেবে ২০২৫ সালে যোগদানের সুযোগ পান বাংলাদেশি গবেষক কাওছার। মেটাতে তাঁর মূল গবেষণার বিষয় ছিল মাল্টিমোডাল লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল। চিরাচরিত ভাষাভিত্তিক মডেলগুলোর বিপরীতে এই উন্নত প্রযুক্তি একই সঙ্গে লেখা, দৃশ্যমান ছবিসহ নানা ধরনের তথ্য একসঙ্গে অনুধাবন ও পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করতে সক্ষম। কাওছারের সুনির্দিষ্ট মতানুসারে, ভবিষ্যতের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের অগ্রগতির ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রযুক্তির ভূমিকা অপরিসীম।

মেটা প্রতিষ্ঠানে অত্যন্ত মেধাবী ও দক্ষ গবেষকদের সান্নিধ্যে কাজ করার অনন্য সুযোগ লাভ করেন তিনি। বিশেষ করে ওই প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করার সময় পরিচালিত গবেষণা থেকে স্বনামধন্য ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন মেশিন লার্নিংয়ে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশের সুযোগ পাওয়া তাঁর জীবনের অন্যতম বড় একটি অর্জন। তাঁর সামগ্রিক কাজের মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে মেটা কর্তৃপক্ষ তাঁকে সরাসরি ‘রিটার্ন ফুল-টাইম’ অফার প্রদান করে।

এই বিশেষ ‘রিটার্ন অফার’ পাওয়ার কারণে তাঁকে নতুন করে কোনো পূর্ণকালীন পদের জন্য আলাদাভাবে ইন্টারভিউ প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হয়নি। তবে মেটাতে প্রাথমিক পর্যায়ে রিসার্চ ইন্টার্ন হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার জন্য কঠোর বাছাই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নির্দিষ্ট ইন্টারভিউ দিতে হয়েছিল তাঁকে। এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের গবেষণাভিত্তিক ইন্টারভিউগুলোতে মূলত মেশিন লার্নিং ও ডিপ লার্নিংয়ের মৌলিক জ্ঞান, অতীতের গবেষণার কাজের পরিধি, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এবং নিজের কাজের গভীর ব্যাখ্যা দেওয়ার সক্ষমতা যাচাই করা হয়।

অফিসিয়াল অফার লেটার প্রাপ্তির আনন্দঘন অনুভূতির কথা প্রকাশ করতে গিয়ে কাওছার জানান যে, তাঁর আজকের এই সাফল্যের অবস্থানে পৌঁছানোর পেছনে সবচেয়ে বেশি অবদান রয়েছে তাঁর পরিবারের। এই অর্জনের মাধ্যমে প্রিয় পরিবারকে কিছুটা হলেও গর্বিত করতে পারার মধ্যেই তাঁর সবচেয়ে বড় আনন্দ নিহিত রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সব প্রক্রিয়া শেষে গত ৫ অক্টোবর থেকে মেটা প্রতিষ্ঠানে নিজের নতুন কর্মজীবন ও পথচলা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছেন কাওছার।

এর আগে কাওছার ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির স্বনামধন্য ‘নকিয়া বেল ল্যাবস’ প্রতিষ্ঠানে এলএলএম রিসার্চ ইন্টার্ন হিসেবে কাজের সুযোগ লাভ করেছিলেন। চ্যাটজিপিটির মতো আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সিস্টেমের নেপথ্যে সক্রিয় প্রযুক্তির অন্যতম হলো এই লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল, যা ছিল তাঁর বেল ল্যাবসের গবেষণার মূল ক্ষেত্র। সেখানে কাজ করার সুবাদে গবেষণার জটিল সমস্যাগুলোকে আরও গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা, নতুন আইডিয়া নিয়ে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো এবং গবেষণার ফলাফল বৈজ্ঞানিকভাবে মূল্যায়ন করার বহুমুখী অভিজ্ঞতা তিনি অর্জন করেন।

বেল ল্যাবসের পর তিনি ২০২৬ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ‘অ্যাপল ইনকরপোরেটেডে’ রিসার্চ ইন্টার্ন হিসেবে যোগ দেওয়ার সুযোগ পান। একেকটি আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে গবেষণার ধরন, প্রাতিষ্ঠানিক কাজের সংস্কৃতি এবং সমস্যা সমাধানের কৌশলে নানামুখী ভিন্নতা বিদ্যমান থাকে। অ্যাপল প্রতিষ্ঠানে কাজ করার মধ্য দিয়ে সেই ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ও কার্যপদ্ধতিগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত শেখার ও জানার দারুণ সুযোগ হয়েছিল তাঁর।

সূত্র: আজকের পত্রিকা


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
অর্থনৈতিক সংকটে নতুন করে কোটি মানুষ দরিদ্র, উত্তরণে বিশেষ কা

অর্থনৈতিক সংকটে নতুন করে কোটি মানুষ দরিদ্র, উত্তরণে বিশেষ কা