নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
দুই দেশের ওপর প্রচণ্ড চাপ থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধি দলগুলো কোনো পক্ষ থেকেই বড় ধরনের ছাড় দেওয়ার মানসিকতা দেখাচ্ছে না। গত সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দুই দেশের পক্ষ থেকে সরাসরি আলোচনা হয়েছিল এবং প্রস্তাবের আদান-প্রদান করা হয়েছিল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইরানি কর্মকর্তার ভাষ্যমতে, তেহরানের শীর্ষপর্যায়ের কয়েকজন নেতা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন শুরুর আগেই একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য অত্যন্ত জোরালোভাবে তাগিদ দিয়েছিলেন। তবে তারা আলোচনার একেবারে সূচনালগ্নেই পরমাণু ইস্যুতে মার্কিন পক্ষের যেকোনো ধরনের ছাড় দেওয়ার দাবি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় নাকচ করে দিয়েছিলেন।
বর্তমান সংকট নিরসনে তেহরান যেমন কূটনৈতিকভাবে দৌড়ঝাঁপ অব্যাহত রেখেছে, ঠিক তেমনি মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রাক্কালে সামরিক ও মানসিক বলপ্রয়োগের এই বিশেষ রণকৌশলটি ভবিষ্যতের মার্কিন প্রশাসনগুলোর জন্যও একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনভিত্তিক প্রগতিশীল থিঙ্ক ট্যাঙ্ক সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির বিশিষ্ট ইরানি গবেষক নিগার মোর্তাজভি এই তথ্য নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে বিস্তারিত জানিয়েছেন।
গবেشک নিগার মোর্তাজভির মূল্যায়ন অনুযায়ী, তেহরানের নীতিনির্ধকারকরা মূলত এই বার্তাটিই বিশ্বমঞ্চে জোরালোভাবে পৌঁছাতে চাচ্ছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির ওপর কোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন চালানোর পেছনে অত্যন্ত চড়া রাজনৈতিক মূল্য পরিশোধ করতে হয়।
এমনকি এই উচ্চ মূল্যের পরিণতি হিসেবে নির্বাচনে ভরাডুবি বা ক্ষমতা হারানোর বাস্তব ঝুঁকিও যুক্ত থাকে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।
ইরানি কর্তৃপক্ষ কেবল বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্টকে নিয়েই নিজেদের পরিকল্পনা সীমিত রাখছে না, বরং তাদের সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য ভিন্ন।
তারা চাচ্ছে আগামী দিনের মার্কিন রাষ্ট্রপ্রধানরাও যেন তেহরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো সশস্ত্র সংঘাতের কথা চিন্তা করার পূর্বে ট্রাম্পের আমলে ঘটে যাওয়া অতীতের ঘটনাগুলো গভীরভাবে স্মরণ রাখেন।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর