নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
সার্বিয়ার ক্ষমতাধর নেতাকে হটাতে প্রচলিত রাজনৈতিক প্রচার বা সভা-সমাবেশের গতানুগতিক ধারার ওপর ভরসা রাখেননি প্রতিবাদী শিক্ষার্থীরা। সাধারণ মানুষের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে সরাসরি কথা বলার কৌশল বেছে নেন তারা। এমনকি দেশের দূরের ও প্রান্তিক গ্রামের সাধারণ মানুষের কাছেও নিজেদের রাজনৈতিক বার্তা সফলভাবে পৌঁছে দেন আন্দোলনকারীরা।
এই পুরো আন্দোলনটি কোনো একটি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল ছিল না। এর পরিবর্তে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শক্তিশালী স্থানীয় কমিটি ও সংগঠন গড়ে তোলা হয়েছিল। এই বিকেন্দ্রীভূত কাঠামোর কারণে স্বেচ্ছাসেবক ও কর্মীরা নিজেরা উদ্যোগী হয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে আন্দোলনের বার্তা প্রচারের সুযোগ পেয়েছিলেন।
এভাবে তৃণমূল পর্যায়ে নিরলস প্রচার চালানোর ফলে দেশের লাখ লাখ সাধারণ মানুষের কাছে সরাসরি পৌঁছানো সম্ভব হয়েছিল। সার্বিয়ার অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ গণমাধ্যম সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণে থাকায় বিরোধীদের নিজেদের বক্তব্য প্রচারের সুযোগ অত্যন্ত সীমিত ছিল।
সংবাদমাধ্যম নিয়ন্ত্রিত থাকার এই বৈরী পরিস্থিতির কারণেই সরাসরি মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন এবং শক্তিশালী তৃণমূল সংগঠন গড়ে তোলা শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। চলতি বছরের বসন্ত ঋতুতে অনুষ্ঠিত হাঙ্গেরির সংসদীয় নির্বাচনেও অবিকল এই ধরনের প্রচারের কার্যকারিতা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছিল।
হাঙ্গেরির দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান সেই নির্বাচনে আকস্মিকভাবে ক্ষমতাচ্যুত হন। তাঁর এই শোচনীয় পরাজয় আবারও বিশ্ববাসীকে মনে করিয়ে দিয়েছে যে, ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা এবং ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট চাওয়ার পুরোনো নির্বাচনী কৌশল আজও কতটা কার্যকর।
বিশ্বজুড়ে চলমান গণতন্ত্র রক্ষার বিভিন্ন আন্দোলনের জন্য সার্বিয়ার এই ঘটনা থেকে আরেকটি বড় শিক্ষা মিলছে। নির্বাচনী প্রতিযোগিতার মাঠ শাসকদলের অনুকূলে যতই অসম হোক না কেন, বিরোধী পক্ষের দলগুলোকে সর্বাবস্থায় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে হবে।
সার্বিয়ার তরুণ শিক্ষার্থীরা অতীতে দেশটির অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিক দলের করা ভুলগুলো থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছে। তারা গভীরভাবে অনুধাবন করতে পেরেছিল যে, নির্বাচন বর্জন করার মতো ভুল পদক্ষেপ নিলে সার্বিয়ার শীর্ষ নেতা ভুচিচের ক্ষমতা আরও বেশি পাকাপোক্ত ও শক্তিশালী হয়।
এই সার্বিক বাস্তব উপলব্ধি থেকেই তারা শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়। আর এই সাহসিকতাপূর্ণ ও বাস্তবসম্মত রাজনৈতিক সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত তাদের কাঙ্ক্ষিত বিজয়ের প্রশস্ত পথ তৈরি করতে দারুণভাবে সহায়তা করেছিল।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর