ঢাকা | বঙ্গাব্দ

২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে শুরু জল্পনা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 8, 2026 ইং
২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে শুরু জল্পনা ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

আগামী ২০২৮ সালের ৭ নভেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে সদ্য সমাপ্ত মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক পরপরই দেশটির দুই প্রধান রাজনৈতিক দল ডেমোক্রেটিক পার্টি এবং রিপাবলিকান পার্টির পক্ষ থেকে কারা হোয়াইট হাউসের লড়াইয়ে অবতীর্ণ হতে পারেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জল্পনা-কল্পনা ও আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে এই মুহূর্তে কারা এগিয়ে রয়েছেন এবং কী কী কারণে তাঁদের নাম আলোচনায় আসছে, সেই বিষয়টি নিয়ে নানা সমীকরণ সামনে চলে আসছে।

গত মঙ্গলবার মার্কিন মুলুকে যে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, তাতে উল্লেখযোগ্য ও বড় জয় পেয়েছে ডেমোক্রেটিক পার্টি। এই ফলাফলের ফলে ওয়াশিংটনের ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এর মধ্য দিয়ে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়লাভ করার ক্ষেত্রে কোন কোন অঙ্গরাজ্যগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করবে, সেই হিসাব-নিকাশও সম্পূর্ণ বদলে যেতে পারে।

রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত একাধিক অঙ্গরাজ্যেও দুর্দান্ত ফল করেছেন ডেমোক্র্যাটরা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের জনসংখ্যার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত ইলেকটোরাল কলেজের প্রতিনিধিরা ভোট দিয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করে থাকেন। নির্বাচনে কাঙ্ক্ষিত জয় পেতে হলে যেকোনো প্রার্থীকে অন্তত ২৭০টি ইলেকটোরাল ভোট নিশ্চিত করতে হয়। সাম্প্রতিক মধ্যবর্তী নির্বাচনের এই ইতিবাচক ফল ডেমোক্রেটিক পার্টির সামনে জাদুকরি সেই সংখ্যায় পৌঁছানোর নতুন ও সম্ভাবনাময় পথ উন্মুক্ত করে দিতে পারে।

আমেরিকার সাধারণ ভোটারদের বড় একটি অংশের মধ্যে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি ও কর্মকাণ্ডের প্রতি স্পষ্ট অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ দেখা গেছে। এমন বাস্তবতায় রিপাবলিকান পার্টির সামনে সবচেয়ে বড় যে প্রশ্নটি বড় হয়ে দেখা দিয়েছে, তা হলো—মাগা বা মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন আন্দোলনের সমর্থক ভোটারদের কি দল আবার আগের মতো এক ছাতার নিচে ফিরিয়ে আনতে পারবে, নাকি দলটিকে সম্পূর্ণ নতুন কোনো পথ ও রাজনৈতিক কৌশলে পরিচালনা করতে হবে।

যদিও দুই প্রধান দলের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচার কার্যক্রম শুরু করা হয়নি, তবুও নির্ধারিত সময়ের বেশ আগেই কিছু সম্ভাব্য প্রার্থী মাঠ চষে বেড়াতে পারেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। মধ্যবর্তী নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলের পর ডেমোক্র্যাট শিবিরের সম্ভাব্য শীর্ষস্থানীয় প্রার্থীদের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান ঠিক কী অবস্থায় রয়েছে, তা একনজরে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

পেনসিলভানিয়ার গভর্নর জশ শ্যাপিরোর ক্ষেত্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল সবচেয়ে বেশি আনন্দের ও স্বস্তিদায়ক হওয়ার কথা। নিজের অঙ্গরাজ্যে প্রায় ২০ শতাংশের বেশি ভোটের ব্যবধানে তিনি পুনরায় গভর্নর নির্বাচিত হয়েছেন। শুধু তাই নয়, তাঁর এই রাজ্যে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের মোট চারটি আসন শক্তিশালী রিপাবলিকানদের হাত থেকে ছিনিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ময়দানে পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যটি ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় দলের জন্যই অত্যন্ত কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়। এই অঙ্গরাজ্যে বিশাল ব্যবধানে অর্জিত জয় ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে জশ শ্যাপিরোর অবস্থানকে নিঃসন্দেহে আরও বেশি শক্তপোক্ত করবে। এতদিন পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাবনা সম্পর্কিত প্রশ্নগুলো কৌশলে এড়িয়ে গেছেন তিনি, তবে এবারের ঘটনার পর সেই প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া তাঁর জন্য বেশ কঠিন হবে।

ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসমের ক্ষেত্রে টেক্সাস গত বছর তাদের প্রতিনিধি পরিষদের আসনগুলোর সীমানা নতুন করে নির্ধারণ করেছিল। এর একটি পাল্টা কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে নিজের অঙ্গরাজ্য ক্যালিফোর্নিয়াতেও আসনের সীমানা বদল করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন গভর্নর নিউসম। এই বিশেষ কাজটি বাস্তবায়নের জন্য পুরো ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সাধারণ ভোটারদের অনুমোদন সংগ্রহ করতে হয়েছে। তাঁর এই সময়োপযোগী পদক্ষেপ মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা বৃদ্ধি করতে অত্যন্ত কার্যকরী সাহায্য জুগিয়েছে।

সাম্প্রতিক মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাটদের ঝুলিতে অতিরিক্ত যে পাঁচটি আসন যুক্ত হয়েছে, তার সফলতার পুরো কৃতিত্বেরই দাবিদার হতে পারেন গভর্নর নিউসম। গভর্নর হিসেবে তাঁর বর্তমান মেয়াদও এখন শেষের পথে রয়েছে। এর মাঝেই তিনি একটি বড় ঘোষণা দিয়েছেন যে, ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মোট ৫৪৮ জন কয়েদির সবার সাজাই তিনি কমিয়ে দেবেন। তাঁর এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তটি মৃত্যুদণ্ডের মতো একটি জটিল বিষয়ে ডেমোক্রেটিক নেতা নিউসমের অবস্থান যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান থেকে সম্পূর্ণ আলাদা, তা আরও বেশি স্পষ্ট করে তুলেছে।

জর্জিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর রাফায়েল ওয়ার্নক একই সঙ্গে একজন সম্মানিত খ্রিষ্টান ধর্মযাজকও বটে। মার্কিন দক্ষিণাঞ্চলের কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের জোরালো সমর্থন যদি আগামী দিনে ডেমোক্রেটিক পার্টির জয়ের সম্পূর্ণ নতুন কোনো পথ খুলে দিতে পারে, তবে নিজের প্রার্থিতার পক্ষে যথেষ্ট জোরালো যুক্তি উপস্থাপন করতে পারবেন তিনি। ডেমোক্রেটিক দলের সামগ্রিক জয়ের পরিসর এবং পরিধি আরও বহুদূর বিস্তৃত করার মহৎ উদ্দেশ্যে মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারণায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চষে বেড়িয়েছেন ওয়ার্নক।

ভোটের প্রকাশিত ফলাফল পরিষ্কার বলে দিচ্ছে যে রাফায়েল ওয়ার্নকের সেই অক্লান্ত পরিশ্রম ও চেষ্টা পুরোপুরি কাজে লেগেছে। নির্বাচনের ঠিক আগে বিশিষ্ট সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে মন্তব্য করেন যে, ২০২৮ সালে তিনি একটি ‘উচ্চ পদে’ নির্বাচন করবেন। তবে তিনি পুনরায় সিনেট পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, নাকি সরাসরি হোয়াইট হাউসের প্রেসিডেন্ট পদে লড়বেন, সেই বিষয়টি তিনি তখনো পুরোপুরি স্পষ্ট করেননি।

পিট বুটিগেগ ডেমোক্রেটিক পার্টির পুরোনো ও পরীক্ষিত ভোটারদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যাঞ্চলের সেই সমস্ত অঞ্চল ও এলাকার ভোটারদের কাছেও অত্যন্ত সফলভাবে পৌঁছাতে পারেন, যেখানে বর্তমানে দুই প্রধান দলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইন্ডিয়ানার সাউথ বেন্ড শহরের সাবেক মেয়র এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের সাবেক পরিবহনমন্ত্রী হিসেবে নিজের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা তিনি জোরেশোরে সামনে নিয়ে আসতে পারেন। সাম্প্রতিক মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারণাকালে তিনি প্রায় ৩৮টি আলাদা অঙ্গরাজ্য চষে বেড়িয়ে দলীয় মনোনীত প্রার্থীদের পক্ষে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছেন। এর ফলস্বরূপ ডেমোক্র্যাটিক দলের অন্দরেও তাঁর জনপ্রিয়তার পারদ ও সমর্থন অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে।

জেবি প্রিৎসকার ইলিনয়ের গভর্নর পদে খুব সহজেই পুনরায় জয়লাভ করেছেন। তবে মার্কিন জাতীয় রাজনীতির বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে তাঁর নির্বাচনী আর্থিক অনুদান ও ফান্ডিংয়ের ভূমিকাটি ছিল অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। যেসব প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনী লড়াইয়ে টাকার সঠিক জোগান পুরো ভোটের ফলাফলকে রাতারাতি বদলে দিতে সক্ষম, তিনি অত্যন্ত সচেতনভাবে সেই ক্ষেত্রগুলোই বেছে নিয়েছেন। উদাহরণস্বরূপ, টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের গভর্নর পদে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জিনা হিনোহোসার যখন ব্যাপক আর্থিক সহায়তার চরম প্রয়োজন দেখা দিয়েছিল, তখন তিনি হাত বাড়িয়ে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত ভোটের ফলাফলেও তাঁর সেই সঠিক সিদ্ধান্তের পূর্ণ সুফল হাতেনাতে মিলেছে।

অ্যান্ডি বেশিয়ার হলেন ঐতিহ্যগতভাবে রিপাবলিকানদের নিরাপদ ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কেন্টাকির ডেমোক্র্যাট গভর্নর। তাঁর সুচারু ও দক্ষ নেতৃত্বের গুণেই ডেমোক্রেটিক গভর্নরস অ্যাসোসিয়েশন ওহাইও, আইওয়া, কানসাস এবং টেক্সাসের মতো অঙ্গরাজ্যগুলোতে দলীয় প্রার্থীদের গভর্নর পদে বিজয়ী করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা প্রদান করেছে। যদিও টেক্সাসের কয়েকজন ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য এবং জাতীয় পর্যায়ের কিছু সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করা হয়েছে যে, জিনা হিনোহোসার জন্য গভর্নর বেশিয়ার পর্যাপ্ত পরিমাণে সাহায্য করেননি।

রিপাবলিকান পার্টির প্রভাবশালী গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট ডেমোক্র্যাট নেতা অ্যান্ডি বেশিয়ারের তুলনায় নির্বাচনী প্রচারণায় অনেক বেশি পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছিলেন। বেশিয়ারের নিজের জন্মস্থান কেন্টাকি অঙ্গরাজ্যেই মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আসন নিজেদের দখলে নিতে সক্ষম হয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা। তবে সেখানকার সিনেটের আসনটি ধরে রাখতে পেরেছে রিপাবলিকান শিবির। এবারের ভোটের মাধ্যমে যদি সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক বার্তা এটিই হয়ে থাকে যে মধ্যপন্থী ডেমোক্র্যাটরাও নির্বাচনে জয় পেতে পারেন, তবে তা দিনশেষে অ্যান্ডি বেশিয়ারকেই বাড়তি সুবিধা এনে দেবে। নির্বাচনের ঠিক পরের দিন সিএনএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন যে, সবকিছুকে সবসময় ডেমোক্রেটিক বনাম রিপাবলিকান কিংবা কেবল আমরা বনাম তারা হিসেবে দেখা কোনোভাবেই উচিত নয়।

কমলা হ্যারিস আমেরিকার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে দেখলে মার্কিন ডেমোক্রেটিক পার্টির অসংখ্য নেতাকর্মীর মনে আজও ২০২৪ সালের ভরাডুবির বেদনাদায়ক হারের স্মৃতি ভেসে উঠতে পারে। যদি তিনি ভবিষ্যতে আবারও নির্বাচনে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নেন, তবে দলের ভেতরের প্রাথমিক প্রার্থী বাছাইয়ের ভোটে নিবেদিতপ্রাণ সমর্থকদের উজ্জীবিত ও উৎসাহিত করার কার্যকর উপায় তাঁকে অবশ্যই খুঁজে বের করতে হবে। তা সত্ত্বেও, সদ্য সমাপ্ত মধ্যবর্তী নির্বাচনে নিজের প্রচারণায় কোন কোন নির্দিষ্ট জায়গা বা অঙ্গরাজ্য বেছে নেবেন, সেই ব্যাপারে অত্যন্ত বিচক্ষণতা ও রাজনৈতিক দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছেন কমলা হ্যারিস।

মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যে যখন স্কট কলমের বিজয়ী হওয়ার বিন্দুমাত্র সম্ভাবনা নেই বললেই চলে, ঠিক সেই কঠিন সময়েই তাঁর নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিতে ছুটে গিয়েছিলেন কমলা হ্যারিস। একইভাবে মিশিগান অঙ্গরাজ্যেও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদের পক্ষে ব্যাপক প্রচার চালিয়েছেন তিনি। দলের অভ্যন্তরীণ প্রার্থী বাছাইয়ের ওই প্রক্রিয়ায় কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের বড় একটি অংশের মধ্যে আবদুল আল-সাইয়েদের প্রতি সমর্থনের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম ছিল। তা সত্ত্বেও, মূল নির্বাচনের দিন ঠিকই সেই কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারেরা আবদুল আল-সাইয়েদকেই নিজেদের মূল্যবান ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন।

আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ হলেন নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের এমন একজন প্রভাবশালী কংগ্রেস সদস্য, যাঁর সমকক্ষ পরিচিত মুখ ও জনপ্রিয় নেতা বর্তমান ডেমোক্রেটিক পার্টির অন্দরে খুব কমই খুঁজে পাওয়া যাবে। ডেমোক্র্যাট দলের কট্টর প্রগতিশীল ও তরুণ ভোটারদের কাছে তাঁর তুমুল জনপ্রিয়তা রয়েছে। এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে আবদুল আল-সাইয়েদের মতো উদীয়মান প্রার্থীদের সাথে একই মঞ্চে দাঁড়িয়ে নির্বাচনী জনসভা ও সমাবেশে অংশ নিয়েছেন তিনি।

গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী হিসেবে মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত মুখ ওকাসিও-কর্টেজ বেশ কিছু নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ে তাঁর আগের কঠোর অবস্থান থেকে কিছুটা নমনীয় হয়েছেন। এবারের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটিগুলোতেও মধ্যপন্থী প্রার্থীদের অভাবনীয় জয় ডেমোক্র্যাটদের প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে দারুণভাবে সাহায্য করেছে। সেই সুবাদেই তাঁর নিজের রাজনৈতিক অবস্থানের এই ইতিবাচক পরিবর্তনটিও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে গণ্য হচ্ছে।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
জীবন পেয়েও প্রাথমিক চাপে আফগানিস্তান

জীবন পেয়েও প্রাথমিক চাপে আফগানিস্তান