ঢাকা | বঙ্গাব্দ

টাকার বিনিময়ে এক্স হ্যান্ডলে প্রচারের মুখে লুমার

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 8, 2026 ইং
টাকার বিনিময়ে এক্স হ্যান্ডলে প্রচারের মুখে লুমার ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অত্যন্ত আস্থাভাজন ও প্রভাবশালী কট্টর ডানপন্থী অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট লরা লুমারের বিরুদ্ধে পারিশ্রমিক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রচারণামূলক বার্তা প্রকাশের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী গণমাধ্যম ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচার শিবিরের সাবেক উপদেষ্টা অ্যালেক্স ব্রুসেউইটজ এবং বিষয়টির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত একাধিক গোপন সূত্রের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে, বিভিন্ন ব্যক্তিগত গ্রাহকের কাছ থেকে প্রচুর পরিমাণ অর্থ গ্রহণ করে লুমার তাঁর অত্যন্ত জনপ্রিয় ‘এক্স’ প্ল্যাটফর্মের অ্যাকাউন্টে রাজনৈতিক পোস্ট শেয়ার করতেন। প্রায় ১৯ লাখ অনুসারীসমৃদ্ধ এই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে চালানো প্রচারের বিষয়টি তিনি বরাবরই প্রকাশ্যে গোপন রেখেছেন।

বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মেইল এবং ব্যাংক স্থানান্তরের দাপ্তরিক নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে দেখা গেছে, গত বছরের মে মাস থেকে শুরু করে লুমার নিজে এবং তাঁর ফ্লোরিডায় নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান ‘কিং ব্রেকার মিডিয়া’র ব্যাংক হিসাবে সর্বমোট চার ধাপে ৬০ হাজার মার্কিন ডলারের বেশি জমা হয়েছে।

এই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, লুমার তাঁর এক্স হ্যান্ডলে প্রতিটি প্রচারণামূলক বার্তার বিনিময়ে ৩ হাজার থেকে শুরু করে ৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত ফি নিতেন। এমনকি অনেক সময় পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে এর চেয়েও বেশি অংকের অর্থ দাবি করতেন তিনি।

ট্রাম্পের সাবেক প্রচারণা উপদেষ্টা ব্রুসেউইটজ ওয়াশিংটন পোস্টের কাছে স্বীকার করেছেন যে, তিনি তাঁর নিজস্ব রাজনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘এক্স স্ট্র্যাটেজিস’-এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু নীতিগত বিষয়ে লেখা প্রকাশের জন্য লুমারকে অর্থ পরিশোধ করেছিলেন। তবে কোন নির্দিষ্ট গ্রাহকের স্বার্থে এই আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন হয়েছিল, সে বিষয়ে তিনি কোনো মুখ খুলতে চাননি।

ব্রুসেউইটজের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, এ ধরনের গোপনীয় রাজনৈতিক প্রচারণার ওপর কঠোর নজরদারি এবং এগুলোর উৎস সম্পর্কে পরিষ্কার ঘোষণা থাকা আবশ্যক। কারণ তাঁর মতে, এই ধরনের কর্মকাণ্ড ও সংস্কৃতি বর্তমানে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।

অন্যান্য অর্থ প্রদানকারী ব্যক্তিদের মতে, রাজনৈতিক বার্তা বা এজেন্ডা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে লুমার দারুণভাবে সফল হলেও তাঁর কর্মকাণ্ড অনেকটাই অনিয়ন্ত্রিত। অনেক গ্রাহক মূলত হোয়াইট হাউসের অলিন্দে প্রভাব বিস্তার এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করার একটি সুপ্ত মাধ্যম হিসেবে লুমারের অ্যাকাউন্টকে ব্যবহার করতেন।

সামাজিক মাধ্যমের হট-টপিক ও অনলাইন চরমপন্থী প্রবণতা নিয়ে গবেষণা করা সংস্থা ‘ওপেন মেজার্স’-এর গবেষক জ্যারেড হোল্ট এই প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছেন যে, লুমার এমন একজন নারী যাঁর মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে সরাসরি পৌঁছানোর অনন্য ক্ষমতা এবং ব্যাপক রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে।

এদিকে ৩৩ বছর বয়সী লরা লুমার তাঁর বিরুদ্ধে আনীত সমস্ত আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছেন। নিজেকে কেবল একজন স্বাধীন সাংবাদিক ও কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে লুমার দাবি করেন যে, তিনি টাকা নিয়ে পোস্ট ছড়ানোর মতো কোনো সাধারণ সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার নন।

তিনি আরও বলেন, তাঁর আসল পেশাদার ক্ষেত্র হলো পাবলিক অ্যাফেয়ার্স এবং রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের নিয়ে গভীর গবেষণা করা। মার্কিন মুলুকে নিজের মেধা ও শ্রম বিক্রি করে বৈধ পন্থায় অর্থ উপার্জন করা কোনো বেআইনি কাজ নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ব্রুসেউইটজের দেওয়া বক্তব্য ভুল প্রমাণ করতে গিয়ে লুমার পাল্টা দাবি করেন যে, তাঁকে মূলত একটি গবেষণাপত্র প্রস্তুত করার কাজের জন্যই অর্থ দেওয়া হয়েছিল, এবং সেই গবেষণাপত্র প্রচার করার সম্পূর্ণ দায়িত্ব ছিল সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর ওপরই। নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে পোস্ট করার প্রতিটি অভিযোগ তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে উড়িয়ে দেন।

তবে অত্যন্ত কৌতূহলোদ্দীপক বিষয় হলো, ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর সাংবাদিকরা লুমারের মুখোমুখি হওয়ার ঠিক এক ঘণ্টা পরেই তিনি তাঁর অনলাইন সম্প্রচার অনুষ্ঠান ‘লুমার আনলিশড’ থেকে সাময়িক বিরতি নেওয়ার ঘোষণা দেন। নিজের চমৎকার স্বাস্থ্য বজায় রাখা এবং আসন্ন বিয়ের আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়ার কারণ দেখিয়ে তিনি এই আকস্মিক বিরতিতে যান।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশাসনের দ্বিতীয় কার্যমেয়াদে লরা লুমার একাধিকবার হোয়াইট হাউসে এবং ওভ্যাল অফিসের গোপন বৈঠকে আমন্ত্রিত হয়ে যোগ দিয়েছেন। এমনকি সামাজিক মাধ্যমে লুমারের সরব উপস্থিতি ও সমালোচনার পর পেন্টাগন এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের বেশ কয়েকজন পদস্থ কর্মকর্তাকে তাঁদের পদ থেকে বরখাস্ত করার ঘটনাও ঘটেছে।

যদিও এর আগে ট্রাম্প স্বয়ং লুমারকে একজন ‘খুব ভালো মানুষ’ এবং সত্যিকারের ‘দেশপ্রেমিক’ বলে ভূয়সী প্রশংসা করেছেন এবং কিছু কর্মকর্তা ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে লুমারের পরামর্শ নেওয়ার কথা স্বীকারও করেছেন। তবে সাম্প্রতিক এই আর্থিক বিতর্ক ও অভিযোগের বিষয়ে হোয়াইট হাউসের তরফ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের গোপনীয় আর্থিক চুক্তির মাধ্যমে অনলাইনে রাজনৈতিক মতাদর্শ ও প্রোপাগান্ডা প্রচারের ফলে সাধারণ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের কাছে খবরাখবরের নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

সূত্র: আজকের পত্রিকা


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
কুড়িগ্রামে দাদার বাড়িতে বেড়াতে এসে দাদা খুন, নাতি আটক

কুড়িগ্রামে দাদার বাড়িতে বেড়াতে এসে দাদা খুন, নাতি আটক