নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কুকুরের উপদ্রব চরম আকার ধারণ করেছে। এর ফলে প্রায় সাড়ে তিনশ কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
বিদ্যালয়টির কোনো সীমানাপ্রাচীর না থাকায় এই বিপদের ঝুঁকি আরও বেশি তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের পাঠদান কার্যক্রমে অংশ নিতে আসা ছোট শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে দারুণ দুশ্চিন্তায় থাকতে হয় অভিভাবক মহলে।
সন্তানদের বিদ্যাপীঠে পাঠিয়ে উৎকণ্ঠায় ভোগেন জোসনা বেগম নামের এক অভিভাবক। তিনি জানান, এই ভয়ের কারণে নিজের ঘরের সব কাজ বাদ দিয়ে বাধ্য হয়ে সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিদিন বিদ্যালয়ে ছুটে আসেন। এমন অনিশ্চিত পরিস্থিতি আর কত দিন চলবে, সেই প্রশ্নও উত্থাপন করেছেন তিনি।
আড়ুয়াবর্ণি এলাকার বাসিন্দা মোহন খান চোখের সামনে ঘটা একটি ভয়াবহ ঘটনার বর্ণনা দেন। তিনি জানান, সম্প্রতি তাঁর চোখের সামনেই স্কুলমাঠের ভেতর একদল কুকুর এক ছাত্রীকে ধাওয়া করে।
ভয়ে দ্রুত পালাতে গিয়ে ওই শিশুটি রাস্তার পাশে মাটিতে পড়ে যায়। তৎক্ষণাৎ কুকুরগুলো তার ওপর চড়াও হয়ে আক্রমণ চালায়। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন দ্রুত দৌড়ে গিয়ে শিশুটিকে রক্ষা করেন।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মানছুরা আক্তার জানান, পুরো উপজেলায় অবস্থিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে তাদের স্কুলেই সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী লেখাপড়া করে। কিন্তু স্কুল চত্বরে কোনো সীমানাপ্রাচীর বা বাউন্ডারি ওয়াল না থাকায় বারবার এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটছে।
প্রধান শিক্ষক মহিতুল ইসলাম বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কুকুরের আক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় অভিভাবকদের মনে ভীতি জেঁকে বসেছে। এখন অনেকেই তাঁদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে একা ছাড়তে ভয় পাচ্ছেন এবং বাধ্য হয়ে সঙ্গে করে নিয়ে আসছেন।
তিনি আরও বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার। এজন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
চিতলমারী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আহমেদ ইকবাল জানান, এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও সেই অনুপատয়ে খাবারের পর্যাপ্ত জোগান নেই।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, ইতিপূর্বে বিভিন্ন স্থান থেকে কুকুরগুলো সহজে খাবার সংগ্রহ করতে পারলেও বর্তমান সময়ে সেই সুযোগ কমে গেছে। খাদ্যের অভাবেই মূলত এই প্রাণীগুলোর আক্রমণাত্মক আচরণ বেড়ে গেছে।
এই উদ্ভূত পরিস্থিতি কার্যকরভাবে মোকাবিলা করার জন্য বন বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সব মহলের সহযোগিতা ও হস্তক্ষেপ অপরিহার্য বলে তিনি মনে করেন। এছাড়া তিনি উল্লেখ করেন যে, বিদ্যালয়ে দ্রুত সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হলে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ পরিবেশে থাকতে পারত।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর