ঢাকা | বঙ্গাব্দ

হরমুজ প্রণালিতে সাত তেলবাহী জাহাজে আগুন, জানাল ইরান

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 23, 2026 ইং
হরমুজ প্রণালিতে সাত তেলবাহী জাহাজে আগুন, জানাল ইরান ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ বেধে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কার মধ্যেই হরমুজ প্রণালি এলাকায় এক রাতের ব্যবধানে মোট সাতটি তেলবাহী জাহাজে আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে এবং এগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত কাল বৃহস্পতিবার খোদ ইরানের পক্ষ থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে এই চাঞ্চল্যকর তথ্যটি প্রকাশ করা হয়েছে, যা বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতিকে অত্যন্ত বিপজ্জনকভাবে আরও অনেক বেশি উত্তপ্ত করে তুলেছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরার বিস্তরিত প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে যে, ক্ষতিগ্রস্ত ওই সাতটি জলযানের মধ্যে অন্তত তিনটি সুনির্দিষ্ট সামুদ্রিক মাইন বা নৌ–মাইনের ভয়াবহ বিস্ফোরণের কবলে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাকি যে চারটি জাহাজ রয়েছে, সেগুলোতে সরাসরি সাঁড়াশি হামলা পরিচালনা করেছে ইরানের অত্যন্ত ক্ষমতাধর সামরিক বাহিনী ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি।

ইরান তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, আক্রান্ত এই সমস্ত জাহাজ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গভীরভাবে সংশ্লিষ্ট এবং ওয়াশিংটন প্রশাসনের বিশেষ উৎসাহ ও সহযোগিতার কারণেই এগুলো সংবেদনশীল হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করছিল। একদিনের ব্যবধানে এমন নজিরবিহীন ও বড় মাত্রার হামলার ঘটনা মূলত আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও রণক্ষেত্রে বড় ধরনের উত্তেজনা বৃদ্ধির জোরালো ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি ইরানের ওপর আরোপিত যেকোনো ধরনের মার্কিন আগ্রাসন কঠোরহস্তে মোকাবিলা করার লক্ষ্যে একটি সম্পূর্ণ নতুন রণকৌশল বা নীতির কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে আইআরজিসি। তাদের নতুন এই ঘোষিত নীতি অনুযায়ী, তেহরানের ওপর যেকোনো ধরনের সামুদ্রিক অবরোধ বা ব্লকড সরাসরি যুদ্ধের শামিল বলে গণ্য করা হবে এবং এর দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।

অর্থাৎ বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ইরান এখন আর কেবল যুক্তরাষ্ট্র কিংবা তাদের পরম মিত্র ইসরায়েলের প্রকাশ্য সামরিক হামলার জন্য হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না, বরং তারা নিজেরাই আগ বাড়িয়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের অবস্থান নিয়েছে।

এমনকি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে অন্য কোনো বাণিজ্যিক বা তেলবাহী জাহাজ চলাচলের সময়ও সেগুলোতে নিয়মিত হামলা চালানোর প্রকাশ্য হুমকি দিয়ে যাচ্ছে আইআরজিসি। তাদের জোরালো দাবি হলো, মার্কিন প্রশাসন নিজে থেকে এই সমস্ত জলযানের নির্বিঘ্ন চলাচলে সরাসরি উৎসাহ, রসদ ও পরোক্ষ সামরিক সমর্থন যুগিয়ে যাচ্ছে।

ভবিষ্যতের দিনগুলোতে যদি আরও অধিক সংখ্যক জাহাজ এই বিপজ্জনক হরমুজ প্রণালি পার হয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালায়, তবে তেহরান সত্যিই তাদের এই পূর্বঘোষিত হুমকিগুলো মাঠে বাস্তবায়ন করে কি না, এখন সেটাই আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের প্রধান দেখার বিষয়।

অন্যদিকে, মহাশক্তিধর যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল যৌথভাবে আশঙ্কা প্রকাশ করছে যে, এই অঞ্চলে যেকোনো মুহূর্তে হয়তো আবার নতুন করে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হয়ে যেতে পারে। এমন কি সুদূর ইরানেও এই সম্ভাব্য সংঘাতের তীব্র নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে এবং দেশটি যেকোনো ধরনের সম্ভাব্য যুদ্ধের জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।

পরিস্থিতি পর্যালোচনায় তেহরান দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছে যে, তাদের ভূখণ্ডের বিরুদ্ধে যদি কোনো ধরনের সামরিক হামলা চালানো হয়, তবে তার উপযুক্ত ও কঠোর জবাব দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত সামরিক সক্ষমতা এবং প্রস্তুতি তাদের রয়েছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
রিসোর্টে আগুন, পাওয়া যায়নি মঠবাড়িয়ার মুক্তার লাশ

রিসোর্টে আগুন, পাওয়া যায়নি মঠবাড়িয়ার মুক্তার লাশ