নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
পবিত্র আল-কুরআনে মহান রাব্বুল আলামিন ঘোষণা করেছেন যে, মানুষের অর্থকড়ি ও সন্তানাদি মূলত এক একটি পরীক্ষা এবং এর সঠিক প্রতিদান হিসেবে আল্লাহর দরবার থেকে বিশাল পুরস্কারের ব্যবস্থা রয়েছে। (সুরা তাগাবুন: ১৫)
একটি শিশুকে সঠিক ও পুণ্যবান পথে বড় করে তোলা প্রতিটি মা-বাবার অন্যতম প্রধান ধর্মীয় ও সামাজিক কর্তব্য। গর্ভে সন্তান আসার পর থেকেই অভিভাবকদের সকল ধরনের পাপকাজ থেকে দূরে থাকতে হবে এবং পরম করুণাময়ের দরবারে সন্তানের সার্বিক কল্যাণ ও সঠিক পথের জন্য প্রার্থনা করতে হবে। পবিত্র কুরআনের বর্ণনায় জানা যায়, অতীতের নবী ও রাসুলগণও তাঁদের সন্তানদের মঙ্গলের জন্য বিশেষ প্রার্থনা করেছিলেন।
নবজাতকের জন্মের পর প্রথম দিকেই একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ আলেমের সঙ্গে পরামর্শ করে শিশুর একটি চমৎকার ও অর্থবহ নাম নির্বাচন করা উচিত, যাতে পরবর্তীতে শিশুটির মনস্তত্ত্বে ওই নামের কোনো নেতিবাচক প্রভাব না পড়তে পারে।
সন্তানের জীবনের সার্বিক মঙ্গল কামনা এবং যেকোনো সম্ভাব্য বিপদ-আপদ থেকে তাকে নিরাপদ রাখতে শিশুর জন্মের সপ্তম দিনে আকিকা সম্পন্ন করার বিধান রয়েছে। হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে যে, প্রতিটি নবজাতক তার আকিকার বিষয়ের সঙ্গে বন্ধক হিসেবে থাকে, তাই জন্মের সপ্তম দিনে তার নামে পশু কোরবানি করতে হবে এবং তার সুন্দর নাম ঠিক করতে হবে। (জামে তিরমিজি: ১৫২২)
ইসলামি শরিয়তের নিয়ম অনুসারে প্রতিটি শিশুকে অবধারিতভাবে পূর্ণ দুই বছর পর্যন্ত মায়ের বুকের দুধ খাওয়াতে হবে, যা তার শারীরিক বৃদ্ধি ও মানসিক পুষ্টির ক্ষেত্রে অত্যন্ত অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে।
কিশোর বা শিশুর মানসিক গঠন ও বিকাশের ক্ষেত্রে পিতা-মাতার স্নেহ, ভালোবাসা এবং সান্নিধ্যের কোনো বিকল্প নেই। জীবনের হাজারো ব্যস্ততার ভিড় ঠেলে সন্তানকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া, তাকে স্নেহ করা এবং তার সঙ্গে অন্তরঙ্গ বন্ধুসুলভ সম্পর্ক বজায় রাখা অত্যন্ত বাঞ্ছনীয়।
ছোটবেলা থেকেই শিশুদের কোমল মনে ইসলামি জ্ঞান ও নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা পেড়ে দিতে হবে। অভিভাবকগণ যদি পূর্ণ সচেতনতার সঙ্গে নিজেদের সন্তানদের প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হন, তবে এই সন্তানরাই একদিন পরকালে তাদের পিতা-মাতার মুক্তির উসিলা এবং সদকায়ে জারিয়া হিসেবে আল্লাহর দরবারে গৃহীত হবে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর