নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
বিখ্যাত কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক আহমদ ছফার ব্যঙ্গাত্মক সাহিত্যকর্ম ‘গাভী বিত্তান্ত’ অবলম্বনে একটি মননশীল পাঠচক্রের আয়োজন সম্পন্ন করেছে জামালপুর বন্ধুসভা। গত ৩০ অক্টোবর বিকেলে শহরের ঐতিহ্যবাহী আশেক মাহমুদ কলেজ প্রাঙ্গণে এ সাহিত্য আসরটি সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়। এই আয়োজনে সংগঠনের বহুসংখ্যক বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ী উপস্থিত থেকে নির্ধারিত সাহিত্যকর্মটি নিয়ে নিজেদের মতামত প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানের মূল পর্বে নির্বাচিত উপন্যাসটির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বিস্তারিত আলোচনা করেন বন্ধু সাব্বির হাসান ও কামরুল ইসলাম। আলোচকবৃন্দের সাবলীল উপস্থাপনায় বইটির ভেতরের নানা তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা উপস্থিত সবার সামনে উন্মোচিত হয়।
আলোচনায় অংশ নিয়ে সাব্বির হাসান উল্লেখ করেন যে, এই উপন্যাসের মাধ্যমে দেশের উচ্চ শিক্ষালয়গুলোর ভেতরের পরিবেশ এবং তথাকথিত বুদ্ধিজীবী সমাজের মুখোস উন্মোচন করেছেন লেখক। প্রধান চরিত্র উপাচার্য ড. মিয়া মোহাম্মদ মিঞা ও তাঁর প্রশাসনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ক্ষমতার মোহে বিবেক বিসর্জনের চিত্র নিখুঁতভাবে ফুটে উঠেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তোষামোদির সংস্কৃতি এবং পদ-পদবির মোহে ব্যক্তিস্বার্থের আধিপত্য কীভাবে একটি প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে, তা রূপক অর্থে উঠে এসেছে বলে জানান তিনি। তাঁর মতে, এটি স্রেফ কোনো কাল্পনিক গল্প নয়, বরং আমাদের সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার এক গভীর দলিল।
এরপর সাহিত্যরস ও বাস্তব প্রেক্ষাপট নিয়ে নিজ বক্তব্য উপস্থাপন করেন সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, উপন্যাসের প্রতিটি চরিত্র ও ঘটনা আধুনিক সমাজের অসংগতি ও সুবিধাবাদী মানসিকতার বাস্তব রূপ ফুটিয়ে তোলে।
ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে তোষামোদকারীদের অপকৌশলের একটি চমৎকার সামাজিক রূপক হিসেবে গাভীকে কেন্দ্র করে আখ্যানটি গড়ে উঠেছে। লেখক সাহসিকতার সঙ্গে বাস্তবতার আয়না তুলে ধরেছেন এবং তরুণ প্রজন্মকে মননশীল ও সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে এমন বই পাঠের বিকল্প নেই বলে তিনি মনে করেন।
প্রধান আলোচনার পাশাপাশি এই আয়োজনে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমির হামজা ও সহসাংগঠনিক সম্পাদক বাকি বিল্লাহ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক নুসরাত শৈলী, বইমেলা সম্পাদক নাইমুল শাকিল এবং স্বাস্থ্য ও ক্রীড়া সম্পাদক আহমেদ আদিল।
অনুষ্ঠানে কার্যনির্বাহী সদস্য মহসিন মিরাজ, বায়েজিদসহ তানভীর অয়ন, কাকন, অপ্সরা, ঋতু ও আশা অংশ নেন।
যোগদানকারী অন্যান্য বন্ধুদের মধ্যে সাব্বির, সীমান্ত, তানভীর, মাগরিব, তানহা, রাফিন, অর্ক ও জোয়াদ উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া সুন্নাহ, হৃদয় এবং রানা নামের অন্য শুভানুধ্যায়ীরাও এই আয়োজনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
মূল আলোচনা পর্ব সমাপ্ত হওয়ার পরপরই নির্ধারিত বইয়ের ওপর একটি বিশেষ কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
উপন্যাসটির মূল ভাব, বিভিন্ন চরিত্র এবং ভেতরের নানা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে কুইজের প্রশ্নগুলো সাজানো হয়েছিল।
উপস্থিত বন্ধুরা অত্যন্ত উৎসাহের সঙ্গে এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে নিজেদের মেধা যাচাই করেন।
প্রতিযোগিতায় দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়ে বিজয়ের গৌরব অর্জন করেন কার্যনির্বাহী সদস্য বায়েজিদ।
বিজয়ী প্রতিযোগীর হাতে আকর্ষণীয় পুরস্কার তুলে দেন পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক নুসরাত শৈলী।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর