ঢাকা | বঙ্গাব্দ

যেসব সময়ে তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনার সুযোগ থাকে না

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 25, 2026 ইং
যেসব সময়ে তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনার সুযোগ থাকে না ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

পাপ কাজের পরিমাণ যতই বেশি হোক না কেন, কোনো ব্যক্তি যদি মনেপ্রাণে অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করে, তবে মহান সৃষ্টিকর্তা তাকে ক্ষমা করে দেন। পবিত্র ধর্মগ্রন্থসমূহ এবং প্রবর্তিত বাণীতে পরম করুণাময়ের ক্ষমার প্রশস্ততার কথা বারবার ঘোষণা করা হয়েছে।

তবে এমন কিছু সুনির্দিষ্ট কাল ও প্রেক্ষাপটের কথা বর্ণিত রয়েছে, যেগুলোতে ক্ষমার সুযোগ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ওই বিশেষ ক্ষণে কেউ যদি চরম অনুতাপ প্রকাশ করে এবং কান্নাকাটি করে, তবুও সর্বশক্তিমান সেই ক্ষমা প্রার্থনা আর মঞ্জুর করেন না।

কোনো ব্যক্তি যখন জীবনের শেষ প্রান্তে উপনীত হয় এবং তার প্রাণবায়ু শ্বাসনালিতে এসে ঠেকে, তখন সে পরকালের অদৃশ্য ভুবন নিজ চোখে অবলোকন করতে পারে। সেই সংকটজনক মুহূর্তে কৃত অনুশোচনা স্রষ্টা আর গ্রহণ করেন না।

পবিত্র কোরআন মজিদে এই প্রসঙ্গে ইরশাদ করা হয়েছে, সেই সমস্ত মানুষের জন্য কোনো ক্ষমা নেই, যারা সারাজীবন পাপাচারে লিপ্ত থাকে এবং পরিশেষে মৃত্যুর মুখোমুখি এসে ঘোষণা দেয় যে সে এখনই অনুতপ্ত হচ্ছে।

নবী করিম (সা.) বিষয়টি আরও প্রাঞ্জল ভাষায় বর্ণনা করে গেছেন যে, নিঃশর্ত ক্ষমা তখনই কার্যকর হয় যখন মৃত্যুর agonizing মুহূর্ত বা প্রাণবায়ু কণ্ঠনালিতে গিয়ে আটকে না যায়।

ঐতিহাসিক ঘটনার প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, ফিরাউন যখন উত্তাল সাগরে ডুবে মরার উপক্রম হয়েছিল এবং তার নিশ্চিত বিনাশ সে উপলব্ধি করেছিল, তখন সে বিশ্বাসের কথা উচ্চারণ করেছিল। কিন্তু তার সেই আকুতি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল।

মহাপ্রলয়ের পূর্বলক্ষণগুলোর মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি হলো পশ্চিম আকাশ থেকে দিবাকরের উদয় হওয়া। যেদিন এই অসাধারণ অলৌকিক ঘটনাটি ঘটবে, সেদিন তামাম পৃথিবীর মানবজাতির জন্য ক্ষমার সব পথ অবরুদ্ধ হয়ে যাবে।

পবিত্র কালামে ঘোষণা করা হয়েছে যে, যেদিন প্রতিপালকের নির্দিষ্ট কোনো নিদর্শন প্রকাশিত হবে, সেদিন কোনো মানুষের বিশ্বাস তার উপকারে আসবে না, যদি না সে ইতিপূর্বে বিশ্বাস স্থাপন করে থাকে।

প্রিয় নবী (সা.) সতর্ক করে বলেছেন যে, পশ্চিম দিক থেকে প্রভাতের আলো ফোটার আগেই যে ব্যক্তি নিজের ভুল স্বীকার করে ফিরে আসবে, কেবল তার আবেদনই মঞ্জুর করা হবে।

সৃষ্টিকর্তার হক বা অধিকার সম্পর্কিত অপরাধসমূহ যেমন নামাজ ত্যাগ করা কিংবা রোজা ভঙ্গ করা, তিনি ইচ্ছা করলে নিজ গুনে ক্ষমা করে দিতে পারেন। কিন্তু অপর কোনো মানুষের অধিকার হরণ করলে বা কাউকে যাতনা দিলে, সেই aggrieved ব্যক্তি নিজে ক্ষমা না করা পর্যন্ত তা মাফ হয় না।

বিশ্বনবী (সা.) তাগিদ দিয়ে বলেছেন যে, যে ব্যক্তি অন্য ভাইয়ের সম্মানহানি করেছে অথবা অত্যাচার চালিয়েছে, সে যেন এখনই তার কাছ থেকে মাফ করিয়ে নেয়।

ইসলাম ধর্মের বিশিষ্ট মনীষী ইমাম নববি পরিষ্কার ভাষায় উল্লেখ করেছেন যে, বান্দার হক নষ্ট করার অপরাধ কেবল স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা করলেই দূর হয় না। এর জন্য পাওনাদারের প্রাপ্য বুঝিয়ে দিতে হবে অথবা তার কাছে গিয়ে কায়মনোবাক্যে ক্ষমা নিতে হবে।

যাবতীয় অপরাধের মধ্যে সর্বাপেক্ষা গুরুতর অপরাধ হলো এক আল্লাহর সঙ্গে অন্য কাউকে অংশীদার বা শরিক সাব্যস্ত করা। জীবদ্দশায় এই শিরক থেকে খাঁটি নিয়তে ফিরে এলে ক্ষমা পাওয়া যায়, কিন্তু কেউ এই অপরাধে অটল থেকে মৃত্যুবরণ করলে তার জন্য চিরতরে মুক্তির দ্বার বন্ধ হয়ে যায়।

পবিত্র কোরআনের ঘোষণা অনুযায়ী, এক আল্লাহর সঙ্গে শরিক করার জঘন্য অপরাধ তিনি মাফ করেন না, তবে এর বাইরে যার জন্য ইচ্ছা তিনি অন্যান্য ত্রুটি ক্ষমা করতে পারেন।

অনুতাপ কেবল মুখ দিয়ে কয়েকটি শব্দ উচ্চারণের নাম নয়, বরং এটি হলো অন্যায় পথ থেকে পুরোপুরি সরে দাঁড়ানোর এক দৃঢ় ও চূড়ান্ত মানসিক সিদ্ধান্ত।

মৃত্যু কিংবা মহাপ্রলয়ের ভয়ংকর দৃশ্যপট চোখের সামনে ভেসে ওঠার পূর্বে সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় স্রষ্টার সমীপে নিজেকে সমর্পণ করাই হলো প্রকৃত মুমিনের মূল ভূষণ।

সব সময় ফুরিয়ে যাওয়ার পর যেকোনো ধরনের অনুতাপ মানুষের জীবনে আর কোনো কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না এবং তা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
আফগানিস্তানের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেল বাংলাদেশ

আফগানিস্তানের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেল বাংলাদেশ