নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
ইরান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির সরকারি কর্মকর্তাদের নিশানা করে প্রাণঘাতী অভিযান চালানোর গোপন পরিকল্পনার একেবারে শেষ ধাপে রয়েছে বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে তেহরানের এই তৎপরতা নিয়ে জোরালো সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
যদিও অপর এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, ভিনদেশি ভূখণ্ডে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড ঘটানোর ক্ষেত্রে তেহরানের বর্তমান অপারেশনাল সামর্থ্য বেশ সীমিত। তাদের ধ্বংসাত্মক উচ্চাকাঙ্ক্ষার মাত্রা অনেক বেশি হলেও তা মাটিতে বাস্তবায়ন করার মতো পর্যাপ্ত শক্তি তুলনামূলক কম রয়েছে।
সামগ্রিক এই নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে হোয়াইট হাউস কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। একইসঙ্গে জে ক্লেটনের দপ্তর এবং মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ কর্র্তৃপক্ষও এই বিষয়ে মুখ খুলতে সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন প্রতিনিধি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বিদেশি মিশনগুলোতে কূটনৈতিক কর্মী পদায়নের ক্ষেত্রে সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়টি তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করেন। নতুন পাওয়া গোয়েন্দা তথ্যগুলো নিয়মিত যাচাই-বাছাই করা হয়ে থাকে।
বিশেষ করে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সম্ভাব্য আগ্রাসী পদক্ষেপ এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের টার্গেট করে তেহরানের পরিচালিত সন্ত্রাসী হামলার ছক—এই দুই বিষয়ই কূটনৈতিক মিশনগুলোতে জনবল কাটছাঁট বা সমন্বয়ের সিদ্ধান্তে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।
ওই কর্মকর্তা আরও উল্লেখ করেন যে, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন কূটনৈতিক মিশনগুলো অনেক আগে থেকেই সীমিত কার্যক্রমের বিশেষ ব্যবস্থার অধীনে পরিচালিত হয়ে আসছে। অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও সংঘাতময় অঞ্চলে সাধারণত এই ধরনের নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়ে থাকে।
এই বিশেষ ব্যবস্থার ফলে উদ্ভূত যেকোনো পরিস্থিতির সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলোতে কর্মরত স্টাফ বা কর্মীসংখ্যা কমানো কিংবা বাড়ানো অত্যন্ত সহজ হয়।
এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েল যৌথভাবে তেহরানের বিরুদ্ধে যে সামরিক লড়াই শুরু করেছিল, তার ইতোমধ্যে আট মাস অতিক্রান্ত হয়েছে। এই দীর্ঘ সংঘাতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
সেই সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনীতি মারাত্মক অস্থিতিশীলতার মুখে পড়েছে এবং খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও জনসমর্থন উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে।
গত বুধবার প্রভাবশালী দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমস প্রকাশ করেছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পরপরই তেহরানের ওপর পুনরায় নতুন আঙ্গিকে সামরিক হামলা চালানোর একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করে রেখেছে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব।
তবে এই পরিকল্পনা প্রস্তুত থাকলেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো পর্যন্ত ওই নির্দিষ্ট সামরিক আগ্রাসন চালানোর ব্যাপারে চূড়ান্ত কোনো সবুজ সংকেত বা সিদ্ধান্ত দেননি।
বিগত কয়েক মাসের দীর্ঘ সময়জুড়ে ইরানের ভূখণ্ডে সরাসরি কোনো বড় ধরনের সামরিক অভিযানের নির্দেশ দেওয়া থেকে সচেতনভাবে বিরত রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
এর পরিবর্তে বিশ্ববাজারে ইরানের তেল রপ্তানি এবং অন্যান্য জ্বালানি পণ্য বিক্রি চিরতরে বন্ধ করে দেওয়ার লক্ষ্যে দেশটির প্রধান বন্দরগুলোতে কঠোর অবরোধ বজায় রেখেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
মার্কিন প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন এবং তাদের ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশগুলোর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত পাল্টা আঘাত হানার নানা পথ এখন মরিয়া হয়ে খুঁজছে তেহরান।
গত অক্টোবর মাসে তেহরানের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য হামলার সুনির্দিষ্ট হুমকি পাওয়ার পর যুক্তরাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর ১২টি শক্তিশালী বি-১ বোমারু বিমান তাৎক্ষণিকভাবে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়।
সামরিক নীতিনির্ধারক ও কমান্ডাররা ওই নির্দিষ্ট বিমানঘাঁটিকে নিশানা করে বড় ধরনের হামলার হুমকি আসার আগাম তথ্য হাতে পেয়েছিলেন।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, একই সঙ্গে মোট ১২টি কৌশলগত বোমারু বিমান নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়ার এই পুরো ঘটনাটি মার্কিন সামরিক ইতিহাসে সম্পূর্ণ নজিরবিহীন একটি পদক্ষেপ ছিল।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর