ঢাকা | বঙ্গাব্দ

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন: ট্রাম্পের কম জনপ্রিয়তা ও মুদ্রাস্ফীতি প্রধান ইস্যু

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 21, 2026 ইং
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন: ট্রাম্পের কম জনপ্রিয়তা ও মুদ্রাস্ফীতি প্রধান ইস্যু ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা বর্তমানে রেকর্ড পরিমাণে কমে গেছে। একই সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চড়া মূল্য নিয়ে জনগণের মধ্যে ক্ষোভ দানা বাঁধছে। পাশাপাশি তাঁর কঠোর অভিবাসন পরিকল্পনা নিয়েও তীব্র মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মধ্যবর্তী ভোটাভুটির ফলাফলে এই কারণগুলো বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই জনমতের লড়াই থেকেই ঠিক হবে মার্কিন কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ রক্ষণশীল নাকি উদারপন্থীদের হাতে থাকবে।

বর্তমানে আইনসভার উভয় কক্ষেই অল্প ব্যবধানে আধিপত্য বজায় রেখেছে রিপাবলিকানরা। মার্কিন কংগ্রেসের দখল নিতে ডেমোক্রেটিক পার্টিকে অতিরিক্ত কয়েকটি আসনে জয়লাভ করতে হবে। যদিও সামগ্রিক ফলাফল নির্ভর করবে মূলত সারা দেশের অল্প কিছু হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আসনের ওপর। তা সত্ত্বেও এবারের গোটা নির্বাচনী প্রচারণার মূল আকর্ষণ হিসেবে খোদ ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই সামনে চলে এসেছেন।

প্রচারযুদ্ধ যখন শেষের পথে, তখনো প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের গ্রহণযোগ্যতা তলানিতে ঠেকে থাকলেও তিনিই আলোচনার মধ্যমণি। রয়টার্স ও ইপসোসের যৌথ সমীক্ষা অনুযায়ী, তাঁর প্রতি সমর্থন নেমে এসে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩১ শতাংশে। এই পরিস্থিতিতেও তিনি নাগরিকদের এমনভাবে ব্যালট প্রয়োগ করার অনুরোধ জানাচ্ছেন যেন মনে হয় সরাসরি তাঁর নামই তালিকায় রয়েছে।

ভোটারদের কেন্দ্রে টেনে আনতে রাষ্ট্রপ্রধানের এই কৌশল উল্টো বিপদের কারণও হতে পারে। এর ফলে প্রতিপক্ষ ডেমোক্র্যাটরা আরও বেশি সংহত হওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে যে, আইনসভার যেকোনো একটির নিয়ন্ত্রণ পেলে তারা খরচ কমানোর সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেবে। এমনকি বর্তমান প্রশাসনের বিরুদ্ধে ওঠা নানাবিধ দুর্নীতির অভিযোগগুলোও কঠোরভাবে খতিয়ে দেখা হবে।

জনগণের কাছে এবারের প্রচারণায় সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে জীবনযাত্রার লাগামছাড়া খরচ। জরিপে অংশগ্রহণকারী অর্ধেক নাগরিকই জানিয়েছেন যে, ব্যালট প্রয়োগের ক্ষেত্রে এটিই তাদের কাছে সর্বাধিক গুরুত্ব পাচ্ছে। ওই একই তথ্যভাণ্ডারে পরিবারের প্রধান খরচের ক্ষেত্র হিসেবে চিকিৎসাসেবা, জ্বালানি তেল, খাদ্যদ্রব্য এবং আবাসন ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

ক্ষমতাসীনদের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথমভাগে কর হ্রাসের সুযোগের সময়সীমা বাড়ানোকে বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এর পাশাপাশি গরিব মানুষের সরকারি চিকিৎসা সহায়তা এবং অন্যান্য অনুদান থেকে প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় সংকোচন করা হয়েছে। অন্যদিকে মেয়াদোত্তীর্ণ চিকিৎসা ভর্তুকি বাড়ানোর প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় বিগত দিনে প্রশাসনিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল।

মধ্যপ্রাচ্যে যৌথ হামলার ঘটনার পর থেকেই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য ঊর্ধ্বমুখী। বর্তমানে মার্কিন মুল্লুকে প্রতি গ্যালন জ্বালানির গড় মূল্য পৌঁছেছে ৪ দশমিক ২৮ ডলারে। গত বছরের তুলনামূলক চিত্রে এটি ১ দশমিক ২০ ডলার বেশি এবং সরকারি পরিসংখ্যান বলছে মুদি পণ্যের দাম বেড়েছে ১ দশমিক ৮ শতাংশ। একই সময়সীমার মধ্যে আবাসন খাতের ব্যয়ও ২ দশমিক ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

অভিবাসন বিষয়ক দপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পূর্ববর্তী প্রশাসনের আমলের তুলনায় দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্ত অঞ্চলে অভিবাসী আটকের হার কমেছে ৯৫ শতাংশ। চলতি বছরে এই প্রথম সীমান্তরক্ষীরা কোনো আটককৃতকে মুক্তি দেয়নি। তবে ইতোমধ্যে বেশ কিছু অঙ্গরাজ্যের নির্দিষ্ট এলাকায় সীমান্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে বহিরাগতদের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

চলতি বছরে প্রবাসীর অনুকূলে বাজেট বরাদ্দ নিয়ে প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের বিরোধ চরমে পৌঁছেছে। রক্ষণশীল দল এককভাবে সাত হাজার কোটি ডলারের একটি আর্থিক বিল অনুমোদন করেছে। এর মাধ্যমে নেতার মেয়াদের বাকি সময়টায় সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনীর ফান্ড নিশ্চিত করা হয়েছে। দলটির অভিযোগ, প্রতিদ্বন্দ্বী দলীয় সদস্যরা সীমান্ত উন্মুক্ত রাখার পক্ষপাতী।

চলতি মাসে রাজধানী ওয়াশিংটনে বিরোধী দলের একজন নারী সদস্যের বাসভবনে নিরাপত্তা বাহিনী হানা দেয়। এই অনভিপ্রেত ঘটনার পর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ডেমোক্র্যাট শিবির। ওই নেত্রীর বিরুদ্ধে চলমান আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে, এই তদন্তের মূল উদ্দেশ্য হতে পারে তাঁর নাগরিকত্ব কেড়ে নিয়ে দেশ থেকে বিতাড়িত করা।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
জবি শিক্ষার্থীকে হত্যা: বিশ্ববিদ্যালয় দিবস স্থগিত ও দুই দিনে

জবি শিক্ষার্থীকে হত্যা: বিশ্ববিদ্যালয় দিবস স্থগিত ও দুই দিনে