ঢাকা | বঙ্গাব্দ

প্রধান শিক্ষক নিয়োগের জটিলতা দূর করল আপিল বিভাগের রায়

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 25, 2026 ইং
প্রধান শিক্ষক নিয়োগের জটিলতা দূর করল আপিল বিভাগের রায় ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

রাষ্ট্রীয়করণ করা প্রাথমিক শিক্ষালয়ের শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি নির্ধারণসংক্রান্ত আইনি লড়াইয়ের পরিসমাপ্তি ঘটিয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ্যে এসেছে। প্রধান বিচারপতির আসন অলংকৃতকারী চার সদস্যের বিচারিক বেঞ্চ গত জুলাই মাসের দ্বিতীয় দিবসে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল আবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেন।

প্রায় উনত্রিশ পৃষ্ঠাসম্বলিত এই পূর্ণাঙ্গ রায়টি সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে আদালতের নিজস্ব ডিজিটাল ঠিকানায় আপলোড করা হয়। এর ফলে সারা দেশের প্রায় বত্রিশ হাজার সরকারি প্রাথমিক শিক্ষালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগপ্রক্রিয়া পরিচালনার ক্ষেত্রে বিদ্যমান সকল জটিলতা দূরীভূত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নিয়োজিত আইনপ্রতিনিধি মুনতাসির উদ্দিন আহমেদ।

রাষ্ট্রীয় এই আইনপরামর্শক সংবাদমাধ্যমকে অবহিত করেন যে, সর্বোচ্চ আদালতের এই রায়ের বাস্তবায়নের ফলে ২০১২ সালের শেষ দিন পর্যন্ত যারা সরাসরি পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন, তারা ২০১৩ সালে সরকারি হওয়া শিক্ষকদের তুলনায় জ্যেষ্ঠতার তালিকায় ওপরের অবস্থানে থাকবেন। অর্থাৎ বিগত ২০১২ সাল পর্যন্ত সরাসরি নিযুক্ত শিক্ষকেরা জ্যেষ্ঠতার দিক থেকে সবার আগে থাকবেন।

আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালের প্রথম দিন থেকে সরকারি হওয়া শিক্ষকদের পারস্পরিক জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে তাদের পূর্ববর্তী চাকরির মোট মেয়াদের অর্ধেক সময়কে কার্যকর চাকরিকাল হিসেবে বিবেচনায় নেওয়া হবে। একই সঙ্গে এই নিয়ম সরাসরি নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য হবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

আইনজীবীদের সরবরাহকৃত বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসের শেষভাগে তৎকালীন সময়ে অধিগ্রহণকৃত বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষালয়ের শিক্ষকদের চাকরির শর্তাবলি সংবলিত বিশেষ বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছিল। যা ওই বছরেরই জানুয়ারি মাসের প্রথম দিন থেকে পূর্ববর্তী কার্যকর তারিখ হিসেবে বলবৎ করা হয়।

এই বিশেষ বিধিমালা জারির মাধ্যমেই মূলত দেশের বিভিন্ন এলাকার প্রায় ছাব্বিশ হাজার একানব্বইটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কর্মরত সহকারী শিক্ষকদের চাকরি সরকারি খাতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।

প্রণীত বিধিমালার নয় নম্বর ধারার প্রথম উপধারায় জ্যেষ্ঠতা এবং পদোন্নতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে এই উপধারার একটি নির্দিষ্ট অংশ চ্যালেঞ্জ করে ২০১৭ সালে উচ্চ আদালতে রিট মামলা দায়ের করা হয়।

আইনি লড়াইয়ের অংশ হিসেবে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সরকারি হওয়া শিক্ষকদের একটি অংশ এই রিট আবেদনটি দায়ের করেছিলেন। মামলার চূড়ান্ত শুনানি পর্ব শেষ হওয়ার পর ২০১৯ সালের মার্চ মাসের একাদশ দিবসে হাইকোর্ট বিভাগ তাদের রায় ঘোষণা করেছিলেন।

হাইকোর্টের সেই রায়ে সংশ্লিষ্ট বিধিমালার একটি নির্দিষ্ট অংশ দেশের সংবিধানের বিধানাবলীর সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে ঘোষণা করা হয়েছিল। একই সঙ্গে কার্যকর চাকরিকালকে ভিত্তি ধরে রিটকারীদের জ্যেষ্ঠতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

হাইকোর্টের রায়ের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রাষ্ট্রপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে আপিলের অনুমতির জন্য আবেদন করে, যা পরবর্তীতে ২০২২ সালের নভেম্বর মাসের বিশ তারিখে সর্বোচ্চ আদালত মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে হাইকোর্ট প্রদত্ত রায়ের কার্যকারিতাও স্থগিত করা হয়েছিল।

উভয় পক্ষের আইনজীবীদের দীর্ঘ শুনানির কার্যক্রম শেষে আদালত আপিল আবেদনটি সম্পূর্ণরূপে মঞ্জুর করে এই চূড়ান্ত রায় প্রদান করেন। শুনানির সময় রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে দেশের অ্যাটর্নি জেনারেলসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় আইন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা আইনি লড়াই পরিচালনা করেন এবং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের স্বার্থরক্ষায় অন্য এক জ্যেষ্ঠ আইনজীবীও আদালতে সওয়াল-জওয়াবে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

সর্বোচ্চ আদালতের প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বেসরকারি বিদ্যালয়ে কর্মরত থাকার কালীন জাতীয়করণকৃত শিক্ষকদের অতীত চাকরিকে কার্যকর হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান সম্পূর্ণ সরকারের নিজস্ব নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত ছিল। এর পেছনে কোনো ধরনের আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল না।

আদালত আরও ব্যাখ্যা করেন যে, ২০১৩ সালের নির্ধারিত বিধি অনুযায়ী নিয়োগের তারিখ থেকে সরকারি কর্মচারীর মর্যাদা দেওয়ার সময় সরকার চাইলে ওই শিক্ষকদের অতীত চাকরি সম্পূর্ণ উপেক্ষা করতে পারত।

কারণ হিসেবে রায়ে উল্লেখ করা হয় যে, জ্যেষ্ঠতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা নির্ধারণের ক্ষেত্রে অতীত চাকরি গণনা করায় রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে অতিরিক্ত আর্থিক ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা ছিল।

তবে সরকার সম্পূর্ণ শিক্ষার সামগ্রিক স্বার্থ বিবেচনা করে এবং শিক্ষকদের অতীত অভিজ্ঞতাকে মূল্যায়ন করে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতির আলোকেই তাদের আগের চাকরিকে কার্যকর হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

রায়ের শেষাংশে আদালত স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন যে, সংশ্লিষ্ট বিধিমালার বিতর্কিত অংশটি কোনোভাবেই অযৌক্তিক বা সাংঘর্ষিক নয়। অথচ এর আগে হাইকোর্ট বিভাগ ওই অংশটিকে অবৈধ ও স্ববিরোধী বলে আখ্যায়িত করেছিলেন।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ঢাকায় সংক্ষিপ্ত সফরে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো

ঢাকায় সংক্ষিপ্ত সফরে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো