ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ইসরায়েলে সরকার গঠনের ডাক পেলেন গাদি আইজেনকট

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 8, 2026 ইং
ইসরায়েলে সরকার গঠনের ডাক পেলেন গাদি আইজেনকট ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

ইসরায়েলে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক স্থবিরতা ও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে সরকার গঠনের নতুন বন্দোবস্ত করা হয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পরিবর্তে সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে তাঁর প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকটকে মন্ত্রিসভা গঠনের এই গুরুদায়িত্ব অর্পণ করেছেন।

নির্বাচিত এই নতুন মুখ ইসরায়েলি সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক প্রধান এবং ইয়াশার পার্টির শীর্ষ নেতা হিসেবে পরিচিত। দেশের ভেতর চলমান রাজনৈতিক ঝামেলার মাঝেই বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে এড়িয়ে প্রেসিডেন্ট হারজগের পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

রাষ্ট্রপ্রধানের কার্যালয় থেকে পাঠানো একটি নির্দিষ্ট বিবৃতির মাধ্যমে বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রেসিডেন্টের একজন প্রতিনিধি জানিয়েছেন যে গত শনিবার সন্ধ্যার দিকে গাদি আইজেনকটকে এই সিদ্ধান্তের কথা ফোনে বা সরাসরি জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

এরই ধারাবাহিকতায় আজ অর্থাৎ রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব তাঁর হাতে হস্তান্তর করার কথা রয়েছে প্রেসিডেন্টের। গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হওয়া ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেট নির্বাচনে কোনো দলই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে সক্ষম হয়নি।

নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই কে হবেন পরবর্তী সরকারপ্রধান, তা নিয়ে শুরু হয় নানা হিসাব-নিকাশ। এই অচলাবস্থা নিরসনে চলতি সপ্তাহের পুরোটা সময়জুড়ে বিভিন্ন দলগুলোর সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন প্রেসিডেন্ট হারজগ।

এদিকে নিজের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে এবং জোটবদ্ধ সরকার গঠন করতে পর্দার আড়ালে ব্যাপক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও। তবে শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তে বড় ধরনের ধাক্কা খেলেন এই দীর্ঘমেয়াদী প্রধানমন্ত্রী।

ইসরায়েলি নিয়মানুযায়ী পার্লামেন্টে সরকার গঠন করতে হলে যেকোনো প্রার্থীকে ন্যূনতম একষট্টি জন আইনপ্রণেতার সমর্থনের প্রয়োজন হয়। বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মনোনীত প্রার্থী আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন ইয়াশার পার্টির পক্ষে সাতাশ জন সংসদ সদস্যের সমর্থন রয়েছে।

অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষে মাত্র ছেচল্লিশ জন আইনপ্রণেতার সমর্থনের কথা জানা গেছে। এছাড়া দেশের আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোও শেষ পর্যন্ত আইজেনকটের পক্ষেই নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে।

সব মিলিয়ে আরব দলগুলোর সমর্থন যুক্ত হওয়ার ফলে গাদি আইজেনকটের পক্ষে মোট সমর্থন গিয়ে ঠেকেছে সাতষট্টিটিতে। অথচ এর আগে আরব দলগুলোকে জোটে না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি।

সংবিধানের নির্ধারিত বিধান অনুযায়ী, নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা হিসেবে আইজেনকট মন্ত্রিসভা গঠনের জন্য পুরো আঠাশ দিন সময় পাবেন। যদি বিশেষ কোনো প্রয়োজনে এই সময়সীমা বাড়ানোর প্রয়োজন পড়ে, তবে তা আরও চৌদ্দ দিন পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে।

এই নির্দিষ্ট সময়সীমার ভেতর বিভিন্ন দল নিজেদের নীতিগত দাবি দাওয়া আদায় এবং নিজেদের পছন্দের মন্ত্রিত্ব পাওয়ার জন্য নানামুখী দরকষাকষিতে ব্যস্ত থাকবে। প্রধানমন্ত্রী পদে মনোনীত এই নেতা সবার সমর্থন নিয়ে সরকার টিকিয়ে রাখার চেষ্টা চালাবেন।

যদি দুর্ভাগ্যবশত এই ধাপগুলোতে গাদি আইজেনকট সরকার গঠনে ব্যর্থতার পরিচয় দেন, তবে দৃশ্যপট পাল্টে যাবে। সে ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট নেসেটের অন্য যেকোনো সদস্যকে ডেকে নতুন করে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন।

পরবর্তী সেই মনোনীত প্রার্থীও নিয়মের বেড়াজালে আঠাশ দিন সময় পাবেন সরকার গঠনের জন্য। তিনিও যদি নিজের মিশন সফল করতে ব্যর্থ হন, তবে নেসেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যরা মিলে তৃতীয় আরেকজন ব্যক্তির নাম প্রস্তাব করতে পারবেন।

সেই তৃতীয় ব্যক্তিকে সরকার গঠনের জন্য অতিরিক্ত চৌদ্দ দিনের একটি সংক্ষিপ্ত সময় দেওয়া হবে। এর পরেও যদি রাজনৈতিক জটিলতা বা অচলাবস্থা কাটানো সম্ভব না হয়, তবে বাধ্য হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নেসেট ভেঙে দেওয়া হবে।

এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলে পুনরায় নতুন করে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। সংবিধান অনুযায়ী এই নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে পরবর্তী নব্বই দিনের মধ্যে।

নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার আগপরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার। নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে বহাল থাকবেন নেতানিয়াহুই।

উল্লেখ্য, ইসরায়েলের আইনসভার মোট আসন সংখ্যা হলো একশ বিশটি। সরকার গঠন নিশ্চিত করতে হলে জয়ের জন্য অন্তত একষট্টিটি আসনে নিজেদের পজিশন নিশ্চিত করতে হয়।

গত অক্টোবরের শেষের দিকে অনুষ্ঠিত সেই নির্বাচনে আইজেনকটের চার দলের জোট মোট আটচল্লিশটি আসন পেয়েছিল। বিপরীতে ডানপন্থী ও ধর্মীয় দলগুলোর সমন্বয়ে গঠিত নেতানিয়াহুর জোট অর্জন করেছিল তিপ্পান্নটি আসন।

এছাড়া আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো এবারের নির্বাচনে রেকর্ড সংখ্যক উনিশটি আসনে জয়লাভ করে দারুণ চমক দেখিয়েছিল। যদিও আরব দলগুলোর সমর্থন ছাড়াই সরকার গড়ার পরিকল্পনা ছিল আইজেনকটের।

লিকুদ পার্টির প্রধান হিসেবে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রায় উনিশ বছর ধরে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আছেন। গত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বহু রাজনৈতিক সংকট সাফল্যের সঙ্গে মোকাবিলা করে ক্ষমতার মূল কেন্দ্রে টিকে আছেন তিনি।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ইয়েমেনে ড্রোন হামলা ও সংঘর্ষে ২ শতাধিক হুতি সদস্য নিহত, দাব

ইয়েমেনে ড্রোন হামলা ও সংঘর্ষে ২ শতাধিক হুতি সদস্য নিহত, দাব