নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
শীতের আগমনী বার্তার সঙ্গে সঙ্গেই দেশের সর্ব উত্তরের জনপদ তেঁতুলিয়ায় পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সমতল ভূমির বুকজুড়ে বিছানো সবুজ চা-বাগান, এখানকার চমৎকার প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং দূর দিগন্তে হিমালয়ের বরফাবৃত শৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘার টানে ভ্রমণপিপাসুরা ছুটে আসছেন। মূলত শীতকালকেই এই অঞ্চলের প্রধান পর্যটন মৌসুম হিসেবে বিবেচনা করা হয়, কারণ এই বিশেষ ঋতুতেই তেঁতুলিয়ার আকাশ থেকে খালি চোখে কাঞ্চনজঙ্ঘার রূপ উপভোগ করা যায়।
যদিও বছরের অন্য সময়গুলোতেও কমবেশি পর্যটকদের আগমন ঘটে, তবে অক্টোবর মাস থেকে শুরু করে পুরো শীতকালজুড়ে তেঁতুলিয়ায় ভ্রমণকারী মানুষের সংখ্যা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। এই ব্যস্ত মৌসুমে স্থানীয় হোটেল ও রিসোর্টগুলোর নিজস্ব যে ধারণক্ষমতা রয়েছে, তার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি পর্যটক সমাগম ঘটে। পর্যটকদের এই অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতেই উত্তর জনপদে দিন দিন অত্যন্ত জনপ্রিয়তা লাভ করছে অভিনব আবাসন ব্যবস্থা হোমস্টে।
বর্তমানে তেঁতুলিয়ার বিখ্যাত ডাকবাংলো এলাকা এবং এর আশেপাশের স্থানীয় বাসিন্দাদের বসতবাড়ির অব্যবহৃত ও খালি ঘরগুলো ভ্রমণকারীদের রাত্রিযাপনের জন্য হোমস্টে হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ঐতিহ্যবাহী হোটেল বা মোটেলের পরিবর্তে মানুষ এখন এই বিকল্প ও ঘরোয়া পরিবেশের আবাসন ব্যবস্থাকে বেছে নিচ্ছেন।
মূলত তেঁতুলিয়ার মাটি থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরূপ সৌন্দর্য চাক্ষুষ করা, সমতলের নজরকাড়া সবুজ চা-বাগানের মোহময় দৃশ্য উপভোগ করা এবং শীতের ঠান্ডা আবহাওয়াকে পুরোপুরি আলিঙ্গন করতেই পর্যটকরা এই সীমান্ত থানায় আসেন।
তেঁতুলিয়ায় বেড়াতে আসা গাজীপুর থেকে আগত পর্যটক শাকিল হোসেনের সঙ্গে কথা বলে এখানকার পর্যটন পরিস্থিতির বাস্তব চিত্র জানা গেছে। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, কাঙ্ক্ষিত সময়ে কোনো প্রতিষ্ঠিত আবাসিক হোটেল কিংবা রিসোর্টে তারা কোনো খালি কক্ষ বা সিট পাননি।
হোটেল বুকিং না পাওয়ায় শাকিল হোসেন ও তার বন্ধুরা বিপাকে না পড়ে স্থানীয় একটি হোমস্টে বেছে নেন এবং সেখানে নিরাপদে রাত কাটান।
কোনো প্রকার কোলাহল ছাড়াই অত্যন্ত শান্ত ও নিরিবিলি পরিবেশে শাকিল হোসেন ও তার পুরো দলের মোট আটজন সদস্য মিলে দুটি আলাদা রুম ভাড়া নিয়েছিলেন।
ঐতিহ্যবাহী হোটেলের বাইরে এমন একটি ঘরোয়া পরিবেশে থাকতে পেরে তাদের এই ভ্রমণ দারুণ রোমাঞ্চকর এক স্মৃতি হয়ে থাকবে বলে শাকিল হোসেন সন্তুষ্টি প্রকাশ করে জানিয়েছেন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর