নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
বেতন কাঠামোর সর্বনিম্ন অংক ৩০ হাজার টাকায় উন্নীত করার পাশাপাশি অন্যান্য জরুরি দাবি আদায়ের লক্ষ্যে রাজধানী ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ সড়ক আটকে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন তৈরি পোশাক শিল্পের কর্মীরা।
সোমবারের নির্ধারিত সময়ে ঘড়ির কাঁটায় ঠিক সাড়ে বারোটা বাজার সঙ্গে সঙ্গেই মেট্রো গার্মেন্টস ও লিবার্টিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা রাজপথে নেমে আসেন এবং তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করতে শুরু করেন।
তাদের এই হঠাৎ সড়ক অবরোধের তীব্র প্রভাবে ব্যস্ততম ওই অঞ্চলের যাতায়াত ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ে, যার ফলে চরম দুর্গতি ও অসহনীয় দুর্ভোগের শিকার হন সাধারণ পথচারী ও যাত্রীরা।
ঘটনাস্থলে স্বচক্ষে দৃশ্যমান পরিস্থিতির তথ্যানুযায়ী, শিবু মার্কেট সংলগ্ন রাজপথ দখল করে অবস্থান নেন আন্দোলনরত কর্মীরা এবং সেখানে টায়ারে অগ্নিসংযোগ করে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
অবরোধের কারণে মূল সড়কের উভয় দিকে শত শত যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী মোটরযান আটকা পড়ে থাকে, যার ফলে নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়ে অসংখ্য মানুষকে পায়ে হেঁটে রওনা হতে দেখা যায়।
অনেকেই আবার কোনো উপায় না পেয়ে সম্পূর্ণ নতুন ও বিকল্প পথ ধরে গন্তব্যে পৌঁছানোর ব্যর্থ চেষ্টা চালান, যা জনজীবনকে আরও বেশি স্থবির করে তোলে।
উত্তপ্ত এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে শিবু মার্কেট জোনে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
কর্মীদের উত্থাপিত মোট পাঁচটি প্রধান দাবির ভেতরে রয়েছে মূল বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা, সব প্রতিষ্ঠানে রেশন পদ্ধতি চালু এবং ট্রেড ইউনিয়নের পূর্ণ স্বাধীনতা।
এর পাশাপাশি, শ্রমিক আমজাদ হোসেন কামালসহ বিগত দিনে নিহত সকল শ্রমিকের মৃত্যুর নিরপেক্ষ তদন্তে বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠন এবং অন্যায়ভাবে কর্মী বরখাস্ত বন্ধ করার দাবি জানানো হয়।
সেই সঙ্গে দেশের সমস্ত প্রতিষ্ঠানে প্রচলিত শ্রম আইন সম্পূর্ণ ও যথাযথভাবে কার্যকর করার জোরালো দাবিও তুলে ধরেন আন্দোলনকারীরা।
বিক্ষোভ প্রদর্শনে অংশগ্রহণকারী লিবার্টি গার্মেন্টসের কর্মী সোহেল মিয়া সংবাদ মাধ্যমকে জানান যে, অবিলম্বে ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম বেতন ঘোষণা করতে হবে এবং সমস্ত দাবি মেনে নিতে হবে।
আরেক নারী কর্মী আনোয়ারা বেগম গণমাধ্যমকে জানান যে, নির্দিষ্ট সময়ের একটু আগে অর্থাৎ বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে মজুরি বৃদ্ধির আশায় তারা কারখানা প্রাঙ্গণ ছেড়ে বাইরে আসেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, পরবর্তী সময়ে দুপুরের দিকে তারা সকলে মিলে একত্রে মূল সড়কটি আটকে ফেলে তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের আন্দোলন শুরু করেন।
আদমজীর শিল্প পুলিশ-৪ ইউনিটের গোয়েন্দা বিভাগের পরিদর্শক আনোয়ারুল হক সংবাদ মাধ্যমকে জানান যে, বেতন বৃদ্ধি সহ বিভিন্ন দাবি আদায়ের জন্য কর্মীরা শিবু মার্কেটে অবস্থান নিয়েছেন।
তিনি আরও যোগ করেন যে, বর্তমানে সেখানে পুলিশ বাহিনী অবস্থান করছে এবং আন্দোলনরতদের শান্ত করে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার নিরন্তর প্রচেষ্টা চলছে।
দুপুর গড়িয়ে বেলা পৌনে দুইটা বাজার পরও যখন এই প্রতিবেদন তৈরি হচ্ছিল, তখনও শিবু মার্কেট এলাকায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের কর্মসূচি অব্যাহত ছিল।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর