ঢাকা | বঙ্গাব্দ

পরমাণু ফাঁকা হলেও কেন কোনো বস্তুকে ছোঁয়া যায়

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 25, 2026 ইং
পরমাণু ফাঁকা হলেও কেন কোনো বস্তুকে ছোঁয়া যায় ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

প্রিয় পরমাণু ভাইয়ার সঙ্গে কথোপকথনে এক শিক্ষার্থী জানায়, তার ধারণা সোনার পাতের পরমাণুর নিউক্লিয়াস অত্যন্ত ক্ষুদ্র। এই কারণে অধিকাংশ আলফা কণা পরমাণুর ফাঁকা স্থান ভেদ করে চলে যায়। নির্দিষ্ট কিছু কণা নিউক্লিয়াসের নিকট দিয়ে যাওয়ার সময় বিকর্ষণের প্রভাবে দিক পরিবর্তন করে। আর প্রতি কয়েক হাজার কণার মধ্যে মাত্র একটি কণা সরাসরি নিউক্লিয়াসের দিকে ধাবিত হওয়ার সময় ধনাত্মক চার্জের বিকর্ষণে উল্টো পথে ফিরে আসে।

শিক্ষার্থীর এই ধারণার সম্পূর্ণ সত্যতা নিশ্চিত করে জানানো হয়, পরমাণুর ব্যাসের তুলনায় নিউক্লিয়াসের ব্যাস প্রায় এক লাখ ভাগের এক ভাগ মাত্র। উদাহরণস্বরূপ, পুরো পরমাণুটিকে যদি একটি বিশাল স্টেডিয়াম হিসেবে কল্পনা করা হয়, তবে এর মাঝে অবস্থিত নিউক্লিয়াসটি হবে মাঠের ঠিক মাঝখানে পড়ে থাকা মাত্র একটি সরিষার দানার সমান।

পরমাণুর ভেতরের অংশ যদি প্রায় পুরোটাই ফাঁকা হয়ে থাকে, তবে স্বাভাবিকভাবেই যেকোনো বস্তুর ভেতর হাত ঢুকে যাওয়ার কথা—এমন সংশয় প্রকাশ করে শিক্ষার্থী।

উত্তরে আসল রহস্য উন্মোচন করে বলা হয়, রাদারফোর্ডের মডেল অনুযায়ী পরমাণুর একদম কেন্দ্রে লুকিয়ে থাকে নিউক্লিয়াস এবং এর বাইরের পুরো অংশ জুড়ে অবস্থান করে শুধু ইলেকট্রন। সুতরাং, যেকোনো বস্তুর উপরিভাগ বা গা অর্থই হলো ইলেকট্রনের উপস্থিতি। যখন কেউ নিজের হাত কোনো টেবিলের ওপর রাখেন, তখন মূলত হাতের পরমাণুর ইলেকট্রনের সঙ্গে টেবিলের পরমাণুর ইলেকট্রনের সাক্ষাৎ ঘটে।

পূর্বের আলোচনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ব্যাখ্যা করা হয় যে, সমজাতীয় চার্জ সর্বদা একে অপরকে বিকর্ষণ করে থাকে। দুটি ঋণাত্মক চার্জযুক্ত কণা কাছাকাছি আসামাত্রই তারা পরস্পরকে দূরে ঠেলে সরিয়ে দেয়। ঠিক যেমন দুটি চুম্বকের সমমেরু কাছাকাছি আনলে তারা একে অপরকে প্রতিহত করে দূরে ঠেলে দেয়, এটিও তেমনই ঘটে থাকে।

শিক্ষার্থী বিষয়টি অনুধাবন করতে পেরে সম্মতি জানায় যে, তার আঙুলের পরমাণু কখনোই টেবিলের পরমাণুর মধ্যকার ফাঁকা জায়গার ভেতর প্রবেশ করতে পারে না। কারণ ভেতরে ঢোকার আগেই ইলেকট্রনগুলোর পারস্পরিক ধাক্কাধাক্কি তাকে থামিয়ে দেয়। মানুষ সারা জীবন যাকে কোনো বস্তু ‘ছোঁয়া’ বা স্পর্শ করা বলে জেনে এসেছে, সেটি মূলত এই ইলেকট্রনের ধাক্কার অনুভূতি ছাড়া আর কিছু নয়।

টেবিলে হাত রেখে যখন কেউ নিচের দিকে চাপ প্রয়োগ করেন, তখন যে বাধার অনুভূতি পাওয়া যায়, তা মূলত ইলেকট্রনের পারস্পরিক বিকর্ষণ বলের ফল। এ ছাড়াও খাতার পাতায় রাদারফোর্ডের সিদ্ধান্তগুলো লেখার সময় কোনো কিছু না বুঝে মুখস্থ না করে, কেবল ওই তিনটি প্রধান পর্যবেক্ষণ মনে করতে পারলে খুব সহজেই সঠিক উত্তর খুঁজে পাওয়া সম্ভব। সবশেষে নিয়মিত আসার আমন্ত্রণ জানিয়ে আজকের মতো কথোপকথন শেষ করা হয়।

সূত্র: আজকের পত্রিকা


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
বিশ্বকাপ নিয়ে রিভালদোর সঙ্গে তর্কে জড়ালেন নেইমার

বিশ্বকাপ নিয়ে রিভালদোর সঙ্গে তর্কে জড়ালেন নেইমার