ঢাকা | বঙ্গাব্দ

রোগ ও জলবায়ু সংকটে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় কলার ভবিষ্যৎ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 24, 2026 ইং
রোগ ও জলবায়ু সংকটে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় কলার ভবিষ্যৎ ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সংকট এবং একাধিক মারাত্মক রোগবালাইয়ের কারণে বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত জনপ্রিয় এই ফলটি বর্তমানে বড় ধরনের বিপদের মুখে পড়েছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, প্রজননপ্রযুক্তির আধুনিক ও নতুন কোনো অগ্রগতির মাধ্যমেই কেবল ক্যাভেন্ডিশ জাতের এই কলার ভবিষ্যৎ অস্তিত্ব রক্ষা করা নিশ্চিত করা সম্ভব হতে পারে।

বিশ্বব্যাপী সব ধরনের উদ্ভিজ্জ পণ্যের মধ্যে টমেটোর পরেই সবচেয়ে বেশি মানুষের খাদ্যতালিকায় থাকে কলা। আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি বছর সারা পৃথিবীতে প্রায় ১৩ কোটি ৯০ লাখ টন কলার ফলন হয়ে থাকে।

বর্তমানে পৃথিবীতে কলার সহস্রাধিক বিভিন্ন প্রজাতি রয়েছে, যার মধ্যে সাধারণ মানুষের খাদ্যভাণ্ডারে মূলত ক্যাভেন্ডিশ জাতের কলাই সবচেয়ে বেশি সরবরাহ করা হয়। বিগত ১৯৫০-এর দশক থেকে ভয়ংকর পানামা রোগের আক্রমণে ‘গ্রোস মিশেল’ নামের জনপ্রিয় জাতটি চিরতরে বিলুপ্ত হওয়ার পর ক্যাভেন্ডিশ জাতটি বাজার পুরোপুরি দখল করে নেয়।

বাণিজ্যিকভাবে চাষ হওয়া ক্যাভেন্ডিশ কলা মূলত প্রজনন করতে পারে না এমন ক্লোন হিসেবে জন্ম নেয়। এই বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে প্রতিটি গাছের জিনগত গঠন একেবারে হুবহু মিলে যায়, যার ফলে গোটা জাতটি একই ধরনের রোগ সংক্রমণের মারাত্মক ও সমান ঝুঁকিতে থাকে।

বর্তমানে জনপ্রিয় এই ক্যাভেন্ডিশ জাতটিও পানামা রোগের অত্যন্ত বিপজ্জনক নতুন স্ট্রেইন বা রূপ ‘টিআর৪’ বা ট্রপিক্যাল রেস ৪-এর প্রত্যক্ষ হুমকির মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাজ্যের নরউইচ শহরের আর্লহ্যাম ইনস্টিটিউটের বিশিষ্ট ফসলের জিনোমবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ ড. হোসে দে ভেগা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, এই মারাত্মক রোগটি ইতোমধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে শুরু করে অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য এবং লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞ ভেগা আরও উল্লেখ করেন যে, সবচেয়ে আতঙ্কজনক সংবাদটি প্রকাশ্যে আসে গত ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের দিকে, যখন বিশ্বের অন্যতম প্রধান কলা রপ্তানিকারক রাষ্ট্র ইকুয়েডর এই সংকটে পড়ে। তাঁর সুনির্দিষ্ট মতে, এই আক্রমণ বিশ্বব্যাপী কলার স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে দারুণভাবে প্রশ্নবিদ্ধ ও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।

একই সঙ্গে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের কোটি কোটি দরিদ্র মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা এবং তাদের দৈনন্দিন জীবিকার বিষয়টিও গভীর সংকটের মুখে পড়েছে। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ নিজেদের বেঁচে থাকার খাদ্য এবং আয়ের একমাত্র উৎস হিসেবে পুরোপুরি কলার ওপর নির্ভর করে জীবনযাপন করেন।

চলমান জলবায়ু সংকট এবং নতুন কিছু প্রাণঘাতী রোগের ব্যাপক প্রাদুর্ভাবের কারণে বিশ্বজুড়ে কলা চাষিরা ফসলটি চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন। এমনটি সত্যি ঘটলে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের কৃষিজীবী মানুষেরা আর্থিকভাবে চরম ক্ষতির শিকার হবেন।

মধ্য আমেরিকার গুয়াতেমালা থেকে শুরু করে আফ্রিকার মালাবি পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলে এই ভয়াবহ নেতিবাচক প্রভাব সুদূরপ্রসারী হবে। এর পাশাপাশি সাধারণ মানুষ তাদের দৈনন্দিন জীবনের অন্যতম প্রধান এবং পুষ্টিকর একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য উপাদান থেকে চিরতরে বঞ্চিত হবে।

তবে এই মারাত্মক বিপর্যয় যেকোনো মূল্যে প্রতিহত করার জন্য গবেষক ও বিজ্ঞানীরা নতুন এক যুগান্তকারী সাফল্য অর্জন করেছেন বলে দাবি করেছেন।

বিশ্বখ্যাত কলা উৎপাদনকারী শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান চিকুইটা এবং উদ্ভিদ উন্নয়ন নিয়ে কাজ করা গবেষণা সংস্থা কি-জিনের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ‘ইয়েলোওয়ে’ নামের গবেষণা প্রকল্প জানিয়েছে, তারা প্রজননক্ষম ক্যাভেন্ডিশ কলার একটি নতুন জাত সফলভাবে উদ্ভাবন করেছে। এর ফলস্বরূপ এখন প্রাকৃতিকভাবে সংকরায়ণের মাধ্যমে যেকোনো রোগ প্রতিরোধী ক্ষমতা সম্পন্ন এবং বাণিজ্যিকভাবে অত্যন্ত লাভজনক নতুন জাতের কলা তৈরির অভিনব সুযোগ উন্মুক্ত হয়েছে।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ভাটারায় অতিরিক্ত ডিআইজির বাসায় ডিবির অভিযান, আটক ৮৫

ভাটারায় অতিরিক্ত ডিআইজির বাসায় ডিবির অভিযান, আটক ৮৫