ঢাকা | বঙ্গাব্দ

আমেরিকা থেকে গম ও সার আমদানিতে নতুন অনুমোদন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 28, 2026 ইং
আমেরিকা থেকে গম ও সার আমদানিতে নতুন অনুমোদন ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে সরকারি পর্যায়ে বা জিটুজি কাঠামোর আওতায় দেশটির অনুমোদিত দুটি পক্ষ থেকে খাদ্যশস্য ক্রয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই শস্য আমদানির প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে কম দরপ্রস্তব পেশকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মূল্য আলোচনার প্রক্রিয়া পরিচালনার জন্য নীতিগত সম্মতি দিয়েছে সরকারি অর্থনৈতিক বিষয় দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত নীতিনির্ধারক কমিটি।

বুধবার এই সংক্রান্ত ভার্চুয়াল সভাটি অনুষ্ঠিত হয় যার সভাপতিত্ব করেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৈঠক সম্পন্ন হওয়ার পর সরকারের অর্থ বিভাগ থেকে সংবাদমাধ্যমকে এই সিদ্ধান্তের বিস্তারিত বিবরণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।

আমেরিকান রাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক ঘাটতির পরিমাণ কমানোর পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় সুসম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার উদ্দেশ্যে শস্য আমদানির পরিমাণ বৃদ্ধি করেছে দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশ। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিগত বছরের জুলাই মাসে আমেরিকার শস্য রপ্তানিকারকদের প্রধান সংগঠন ইউএস হুইট অ্যাসোসিয়েটসের সঙ্গে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি বিশেষ সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ওই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী প্রতি বছর সর্বমোট সাত লক্ষ টন খাদ্যশস্য সংগ্রহের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছিল।

খাদ্য বিভাগ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন খাদ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান সংগঠন কর্তৃক অনুমোদিত দুটি ভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠান থেকে এবার দরপ্রস্তাব সংগ্রহ করা হবে। নির্বাচিত হওয়া ওই প্রতিষ্ঠান দুটি হলো অ্যাগ্রোকর্প ইন্টারন্যাশনাল এবং লুই ড্রেফাস কোম্পানি।

এত দীর্ঘ সময় ধরে একমাত্র অ্যাগ্রোকর্প ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমেই দীর্ঘমেয়াদি সরকারি কাঠামোর অধীনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে খাদ্যশস্য আমদানি অব্যাহত রাখা হয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে লুই ড্রেফাস কোম্পানিকেও এই কার্যক্রমে যুক্ত করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যার ফলে শস্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে একটির পরিবর্তে দুটিতে উন্নীত হয়েছে। এই শস্য ক্রয়ের যাবতীয় আর্থিক ব্যয়ভার বহন করা হবে সরাসরি সরকারি কোষাগার থেকেই।

যদিও এই শস্যের মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়া নিয়ে কিছুটা প্রশ্ন ও সমালোচনার অবকাশ রয়ে গেছে। চলতি বছরের জুলাই মাসে সরকারি কাঠামোর আওতায় দুই লক্ষ কুড়ি হাজার টন খাদ্যশস্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে প্রতি টনের মূল্য নির্ধারিত হয়েছিল তিনশো বাইশ মার্কিন ডলার। একই সময়ে উন্মুক্ত দরপত্রের স্বচ্ছ পদ্ধতির মাধ্যমে অন্য কোনো রাষ্ট্র থেকে আরও পঞ্চাশ হাজার টন খাদ্যশস্য কেনা হয়েছিল, যার প্রতি টনের দাম পড়েছিল দুইশো সাতান্ন দশমিক বিরানব্বই ডলার। এর ফলে প্রতি টন শস্যের মূল্যের ক্ষেত্রে প্রায় চব্বিশ ডলারের ব্যবধান তৈরি হয়েছে এবং এই পার্থক্যের কারণে নির্ধারিত পরিমাণ খাদ্যশস্য ক্রয়ে সম্ভাব্য অতিরিক্ত ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় তিপ্পান্ন লক্ষ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে।

অন্যদিকে, আসন্ন অভ্যন্তরীণ আমন সংগ্রহ অভিযান সফল করার লক্ষ্যে খাদ্যশস্য যথাযথভাবে সংরক্ষণ এবং তা বস্তাবন্দি করার জন্য নতুন করে এক কোটি পিস পাটের বস্তা কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। এই কাজের জন্য মোট চৌষট্টি কোটি বায়ান্ন লক্ষ টাকা ব্যয় নির্ধারিত হয়েছে এবং প্রতিটি বস্তার গড় খরচ পড়বে তেষট্টি টাকা বায়ান্ন পয়সা। অর্থমন্ত্রীর সঞ্চালনায় আয়োজিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত নীতিনির্ধারক পর্ষদের বৈঠকে এই সংক্রান্ত প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করে।

এ ছাড়া ওই একই ক্রঁয় পর্ষদের বৈঠকে উত্তর আমেরিকার দেশ কানাডা এবং ইউরোপের রাষ্ট্র রাশিয়া থেকে সর্বমোট এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টন মিউরেট অব পটাশ বা এমওপি সার আমদানির প্রস্তাবও সসম্মানে অনুমোদিত হয়েছে। এই সার ক্রয়ের জন্য সরকারি কোষাগার থেকে মোট সাতশো আট কোটি পঁচাত্তর লক্ষ চার হাজার চারশো নব্বই টাকা খরচ করা হবে। সরকারের নির্ধারিত কৃষি ভর্তুকি খাতের বরাদ্দকৃত বাজেট থেকেই এই বিপুল পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করা হবে।

বৈঠকে অনুমোদিত প্রস্তাবগুলোর হিসাব পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, কানাডা থেকে সমান দুই চালানে মোট আশি হাজার টন এবং রাশিয়া থেকেও অনুরূপভাবে দুই চালানে মোট সত্তর হাজার টন সার সংগ্রহ করা হবে। উল্লেখ্য যে, কানাডা ও রাশিয়া উভয় রাষ্ট্র থেকেই প্রতি টন সারের ক্রয়মূল্য তিনশো বিরাশি দশমিক আটত্রিশ মার্কিন ডলার হিসেবে নির্ধারণ করার প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে।

পরিশেষে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান কাতার এনার্জি ট্রেডিং এলএলসি থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিপত্রের শর্তাবলির আওতায় অতিরিক্ত আরও এক কার্গো বা জাহাজ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি ক্রয়ের প্রস্তাবটি পর্যালোচনার পর অনুমোদনের জন্য বিশেষভাবে সুপারিশ করেছে সংশ্লিষ্ট ক্রয় সংক্রান্ত কমিটি।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
কর ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নে নীতি ও প্রশাসন বিভাজনের দ্বৈরথ

কর ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নে নীতি ও প্রশাসন বিভাজনের দ্বৈরথ