নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
আসন্ন ব্যালন ডি’অর পুরস্কারের সম্ভাব্য বিজয়ী ফুটবলারকে ঘিরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে নানা রকম মনগড়া ও ভুল তালিকা প্রকাশ করা হচ্ছে।
ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে তৈরি হওয়া এসব বিভ্রান্তিকর তালিকায় কোথাও কিলিয়ান এমবাপ্পেকে সেরা হিসেবে দাবি করা হচ্ছে, আবার কোথাও এগিয়ে রাখা হচ্ছে হ্যারি কেইনকে।
মূল ফলাফল প্রকাশের আগেই এ ধরনের ভিন্ন ভিন্ন ও অনুমাননির্ভর চিত্র ভক্তদের মাঝে বেশ বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দিচ্ছে বলে লক্ষ্য করা গেছে।
এ গোটা পরিস্থিতি সম্পর্কে ফরাসি সংবাদমাধ্যম 'আরএমসি'র সঙ্গে কথা বলার সময় একটি বিশ্বস্ত সূত্র স্পষ্ট ভাষায় একে সম্পূর্ণ অসম্ভব বলে অভিহিত করেছে।
সূত্রটি আরও যোগ করেছে যে, পুরস্কারটি ঘিরে আলোচনা ও উত্তেজনার যে পরিবেশ তৈরি হয়, তা আগের মতোই স্বাভাবিকভাবে বজায় রয়েছে।
এদিকে ব্যালন ডি’অরের সাবেক প্রধান পাসকাল ফেরের মতে, বর্তমানে পাঁচ জনের বেশি মানুষের পক্ষে বিজয়ীর নাম জানা সম্ভব নয়।
আয়োজক কর্তৃপক্ষ ২০২৪ সাল থেকে গালা ইভেন্ট বা মূল অনুষ্ঠানের আগে বিজয়ী খেলোয়াড়কে ফলাফল জানানোর পুরনো প্রথা পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে।
এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে সকল মনোনীত প্রার্থীকে একই সমতলে রাখা এবং গোপনীয়তা বজায় রাখা আরও সহজ হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
পাসকাল ফেরে আরএমসি মাধ্যমকে নিশ্চিত করে বলেছেন যে, চলতি বছর থেকে বিজয়ীদের আর আগে থেকে জানিয়ে দেওয়া হয় না যে তাঁরা পুরস্কারটি জিতলেন কি না।
তিনি জানান, অংশগ্রহণকারী সবার ক্ষেত্রে একই পদ্ধতি কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়ে থাকে যাতে কোনো ব্যত্যয় না ঘটে।
লন্ডনের নির্দিষ্ট অনুষ্ঠানে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত কেউই আগেভাগে উল্লাস প্রকাশ করতে পারবেন না, কারণ বিজয়ী কে তা কেউ জানেন না।
লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর স্বর্ণযুগের অবসান ঘটার পর থেকেই মূলত এই নিয়ম কানুন পরিবর্তন করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
চূড়ান্ত গোপনীয়তা আরও সুচারুভাবে রক্ষা করার স্বার্থেই বিজয়ীর নাম একেবারে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কাউকে না জানানোর নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।
বিজয়ীর নাম অত্যন্ত কঠোরভাবে গোপন রাখার এই বিশেষ কৌশলটি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অতীতের নানা স্মৃতির কথা তুলে ধরেছেন ফেরে।
তিনি জানান, অতীতে তিনি নিজে 'ফ্রান্স ফুটবল' সাময়িকীর নিজস্ব কার্যালয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুয়া র্যাঙ্কিংয়ের কাগজ ফেলে রাখতেন।
তাঁর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ওই কাগজগুলো যেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং আসল তথ্য লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকে।
তাঁর বর্তমান মূল্যায়ন অনুযায়ী, এই মুহূর্তে বিশ্বের এমন মানুষের সংখ্যা কোনোভাবেই পাঁচজনের বেশি হওয়া উচিত নয় যারা আসল বিজয়ীর নাম আগে থেকেই জানেন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর