নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
কুলাউড়ার শমশেরনগর বাজারে ২৪ হাজার টাকায় একটি গরু ক্রয় করেছেন আলতাফুর রহমান। এই ক্রয়ের বিপরীতে তাঁকে ১ হাজার ২০০ টাকা হাসিল প্রদান করতে হয়েছে। আলতাফুর রহমান জানান, প্রতি হাজারে ৫০ টাকা হারে এই হাসিল গ্রহণ করা হয়েছে, যা তাঁর ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছে।
অপরদিকে, কুলাউড়ার ব্রাহ্মণবাজার পশুর হাট থেকে দেড় লাখ টাকায় একটি মহিষ কিনেছেন আনোয়ার মিয়া। তাঁর অভিযোগ, ওই মহিষটির জন্য তাঁকে ৭ হাজার ৫০০ টাকা হাসিল গুনতে হয়েছে। আনোয়ার মিয়ার ভাষ্যমতে, হাটের অন্যান্য ক্রেতাদের থেকেও ঠিক একই হারে অর্থ আদায় করা হচ্ছে।
বিক্রেতারা অভিযোগ করে বলছেন, এই মাত্রাতিরিক্ত হাসিলের কারণে তাঁরা প্রায়শই তাঁদের পশুর কাঙ্ক্ষিত মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কোনো ক্রেতা যদি এক লাখ টাকার গরু কিনে অতিরিক্ত ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা হাসিল দেন, তবে তার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পশুর দামের ওপর পড়ে।
ফলস্বরূপ, ক্রেতারা নিজেদের নির্ধারিত বাজেটের মধ্যে থাকতে পশুর দাম কমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এর ফলে শেষ পর্যন্ত খামার ও পশু বিক্রেতাদের আর্থিক লোকসানের মুখে পড়তে হয়। বিক্রেতাদের জোরালো দাবি, পশুর হাটে হাসিলের হার কমিয়ে প্রতি হাজারে যেন মাত্র ৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
এদিকে, হাটগুলোতে অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন বিভিন্ন বাজারের ইজারাদাররা। তাঁদের যুক্তি হলো, আগের তুলনায় বর্তমানে বাজারগুলোর ইজারামূল্য বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
তাঁরা আরও উল্লেখ করেন, জেলার অধিকাংশ পশুর হাটের ইজারামূল্য প্রায় এক কোটি টাকার কাছাকাছি। এই বিশাল ব্যবসায়িক ব্যয় সামাল দেওয়ার জন্যই মূলত প্রতি হাজারে ৫০ টাকা হারে হাসিল আদায় করা হচ্ছে। বর্তমান সার্বিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করলে এই হাসিলের হারকে বেশি বলা চলে না বলেই তাঁদের দাবি।
অন্যদিকে, হাসিল আদায়ের নির্দিষ্ট হার নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বক্তব্যেও কিছুটা অস্পষ্টতা লক্ষ্য করা গেছে। কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা আক্তার এই প্রসঙ্গে জানান, তাঁর জানামতে পশুর হাটগুলোতে ৫ শতাংশ হারে হাসিল আদায় করার বিধান রয়েছে। তবে কোনো ইজারাদার যদি নির্ধারিত এই হারের চেয়ে বেশি অর্থ আদায় করেন, তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তাঁদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর