ঢাকা | বঙ্গাব্দ

হেমন্তের শেষভাগে শিশিরভেজা সকালে শীতের আভাস

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 23, 2026 ইং
হেমন্তের শেষভাগে শিশিরভেজা সকালে শীতের আভাস ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

ভোরের আকাশ তখনো সম্পূর্ণ রূপে আলোয় ভরে ওঠেনি। চারপাশজুড়ে এক অদ্ভুত স্নিগ্ধ নীরবতা বিরাজ করছে। ঘাসের ডগায় জমে থাকা শিশিরবিন্দুগুলোতে ভোরের আলো মিটমিট করে প্রতিফলিত হচ্ছে। দূরের গাছপালার চারপাশে কোথাও কোথাও হালকা কুয়াশার আস্তরণ জমা হয়েছে। জানালার ফাঁক গলে ঘরে প্রবেশ করা বাতাসে এক মৃদু শীতল অনুভূতি পাওয়া যাচ্ছে। এই আবহাওয়ায় গায়ে চাদর জড়িয়ে একটু বেশি সময় ঘুমানোর তীব্র ইচ্ছা জাগে। সকালের রাস্তাঘাট বা পথে মানুষের চলাফেরাতেও খানিকটা জড়তার ভাব লক্ষ্য করা যায়। অথচ দিনের বেলা রোদের উষ্ণতা এখনো স্পষ্টভাবে জানান দেয় যে শীত আসতে কিছুটা দেরি রয়েছে। প্রকৃতির এই মৃদু রূপবদল যেন নীরবে বার্তা দেয় যে শীত আসছে, যদিও সে এখনো ঠিক দোরগোড়ায় এসে হাজির হয়নি।

ষড়ঋতুর এই বাংলাদেশে প্রতিটি ঋতুরই নিজস্ব রূপ ও স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য রয়েছে। শরতের চিরবিদায়ের পর হেমন্তকাল হাজির হয় নতুন ধানের সুবাস, সোনালি ফসল এবং নরম রোদের মিষ্টি আবেশ নিয়ে। মূলত পৌষ ও মাঘ মাস নিয়ে শীতকাল গঠিত হলেও হেমন্তের একেবারে শেষভাগে শীতের উপস্থিতি ক্রমান্বয়ে স্পষ্ট হয়ে উঠতে থাকে। তবে শীতের সেই আগাম আভাস সবার আগে পাওয়া যায় হেমন্তকালের ভোরের দিকেই। শিশিরভেজা ঘাস, হালকা কুয়াশা আর বাতাসের কোমল শীতলতাই সেই বার্তা বয়ে আনে। প্রকৃতি যেন ধীরে ধীরে নিজেকে প্রস্তুত করে তুলছে আসন্ন নতুন ঋতুকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানোর জন্য।

গ্রামবাংলায় হেমন্ত মানেই চারদিকে পাকা ধানের সোনালি আভা, ফসলের মাঠজুড়ে কৃষকদের ব্যাপক ব্যস্ততা এবং উঠানে নতুন ফসল ঘরে তোলার উপচে পড়া আনন্দ। কোথাও পুরোদমে ধান কাটা চলছে, আবার কোথাও বাড়ির উঠানে ধান শুকানোর নানামুখী আয়োজন চলছে। বাতাসের সঙ্গে মিশে ভেসে আসে নতুন ধানের ম ম গন্ধ। এই কর্মব্যস্ততার মাঝেই শীতকালকে কেন্দ্র করে নানা পরিকল্পনা শুরু হয়ে যায়। গাছিরা শীতের জন্য খেজুরগাছ প্রস্তুত করার কথা ভাবতে শুরু করেন, আর পিঠাপুলিপ্রেমী মানুষের মনে উঁকি দিতে থাকে ভাপা পিঠা, চিতই পিঠা এবং সুস্বাদু খেজুরের রসের লোভনীয় স্বাদ। যদিও শীতের সেই চিরচেনা গ্রামীণ আয়োজন এখনো পুরোপুরি শুরু হয়নি, তবুও তার প্রতীক্ষা যেন আগেভাগেই মানুষের মনে ছড়িয়ে পড়ে।

শহর কিংবা দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও ঋতুবদলের এই চিত্র আলাদাভাবে চোখে পড়ার মতো। ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ প্রাঙ্গণে ভোরের হালকা কুয়াশা, গাছের পাতায় জমে থাকা শিশির আর শান্ত পরিবেশ সকালের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে সম্পূর্ণ অন্য এক মাত্রায় রূপ দেয়। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ব্যস্ত জীবনের মাঝেও প্রকৃতির এই অপরূপ পরিবর্তন নিয়ে আসে একটুখানি মানসিক প্রশান্তি। কারও মনে জাগে শীতের সকালের অলসতা কাটানোর ভাবনা, কারও মনে উষ্ণ পোশাক বের করার প্রস্তুতি, আবার কেউ কেউ অপেক্ষা করেন ভোরের কুয়াশায় মোড়ানো পথ ধরে একা হেঁটে বেড়ানোর জন্য।

দিনের বেলায় উজ্জ্বল রোদের তীব্রতা আর ভোরের দিকে মৃদু শীতলতার এই বৈপরীত্যই মূলত হেমন্তকালের সবচেয়ে বিশেষ সৌন্দর্য।

তবে শীতের এই আগমনী বার্তা দেশের সব মানুষের মনে সমানভাবে আনন্দের জোয়ার বয়ে আনে না। শীতের প্রকোপ কিংবা তীব্রতা বাড়লে দেশের নিম্ন আয়ের মানুষ ও ছিন্নমূল মানুষের প্রাত্যহিক জীবন চরমভাবে কঠিন হয়ে ওঠে। পর্যাপ্ত গরম কাপড়ের তীব্র অভাবে রাত কাটানো অনেক মানুষের জন্যই অত্যন্ত কষ্টকর একটি বিষয়ে পরিণত হয়। তাই শীতকাল পুরোপুরি জেঁকে বসার আগেই অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো অত্যন্ত জরুরি। এ ছাড়া তাদের জন্য শীতবস্ত্র সংগ্রহ করা এবং তা যথাযথভাবে বিতরণের উদ্যোগ নেওয়াও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমানে হেমন্তকালের দিনগুলোই অতিবাহিত হচ্ছে। শীত এখনো তার পূর্ণাঙ্গ রূপে হাজির হয়নি; বরং সে যেন অনেক দূরে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত ধীরে ধীরে আমাদের দিকে এগিয়ে আসছে। ভোরের ঘন কুয়াশা, শিশিরভেজা সবুজ ঘাস আর হিমেল বাতাসের মৃদু পরশে প্রকৃতি কেবল তার আগমনের বার্তাটিই শুনিয়ে যাচ্ছে। এখন কেবলই অপেক্ষা সেই চিরপরিচিত শীতসকালের, যেদিন কুয়াশার পুরু চাদর ভেদ করে সূর্যের আলো উঁকি দেবে, প্রতিটি ঘরের আনাচে-কানাচে পিঠার সুবাস ছড়িয়ে পড়বে এবং বাংলাদেশের প্রকৃতি এক নতুন ও সুন্দর রূপে সেজে উঠবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
বলিউডের সিনেমায় দুর্গাপূজার বাতাসের সঙ্গে বইছে বক্স অফিস ঝড়

বলিউডের সিনেমায় দুর্গাপূজার বাতাসের সঙ্গে বইছে বক্স অফিস ঝড়