নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ উপজেলার একটি পুলিশ ফাঁড়ির ভেতর থেকে একজন পুলিশ কর্মকর্তার গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সকালে আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার অ্যান্ড কেমিক্যাল কোম্পানি লিমিটেডের (এপিএসসিসিএল) আওতাধীন পুলিশ ফাঁড়িপ্রাঙ্গণ থেকে ওই মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
মারা যাওয়া পুলিশ সদস্যের নাম জাহাঙ্গীর আলম এবং তাঁর বয়স হয়েছিল বায়ান্ন বছর। পুলিশের এই উপপরিদর্শক বা এসআই পদমর্যাদার কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট ফাঁড়ির ইনচার্জের দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস ফরিদপুর জেলার কোতোয়ালি থানার পূর্ব খাবাশপুর এলাকায় অবস্থিত।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রাথমিক বক্তব্য অনুযায়ী, ওই কর্মকর্তা নিজের কাছে থাকা পিস্তল ব্যবহার করে মাথায় গুলি চালিয়ে স্বেচ্ছায় মৃত্যুকে বেছে নিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল থেকে তাঁর দাপ্তরিক কাজে ব্যবহৃত পিস্তলটি জব্দ করেছে।
পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় লোকজনের বর্ণনায় জানা যায়, প্রতিদিনের ন্যায় বুধবার ভোরে ফজরের ওয়াক্তের নামাজ শেষে প্রাতভ্রমণে বের হন এসআই জাহাঙ্গীর আলম। হাঁটার পর্ব শেষ করে তিনি নির্দিষ্ট পুলিশ ফাঁড়িতে ফিরে আসেন। এর কিছু সময় পর ওই ফাঁড়ির ভেতর থেকে একটি বিকট গুলির আওয়াজ শুনতে পান আশপাশের মানুষ। পরবর্তীতে ফাঁড়ির ভেতরে প্রবেশ করে তাঁরা মেঝেতে ওই কর্মকর্তার রক্তে মাখা দেহ পড়ে থাকতে দেখেন এবং পাশেই একটি পিস্তল দেখতে পান।
এই সংবাদ পেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) পদবির কর্মকর্তা আরাফাতুল ইসলাম, সরাইল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম এবং আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তথা ওসি মোসহম্মদ আনিসুর রহমানসহ পুলিশের উচ্চপদস্থ দল এপিএসসিসিএল পুলিশ ফাঁড়িতে উপস্থিত হন। পরবর্তীতে প্রাথমিক সুরতহাল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর তাঁর নিথর দেহ ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
আশুগঞ্জ থানার ওসি আনিসুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, জেলা পুলিশের নিয়ন্ত্রণাধীন এপিএসসিসিএল এলাকায় এই পুলিশ ফাঁড়িটি অবস্থিত। বিগত দেড় থেকে দুই মাস পূর্বে জাহাঙ্গীর আলম সেখানে কর্মভার গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর বিপরীতে একটি আগ্নেয়াস্ত্র বা পিস্তল বরাদ্দ ছিল। নিজের পিস্তল দিয়ে মাথার বাঁ দিকে নিজে গুলি চালিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও ঠিক কী কারণে তিনি এই পথ বেছে নিলেন, তা এখনো পরিষ্কার নয় এবং পুলিশ সমগ্র বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরাফাতুল ইসলামও একই সুরে দাবি করেন যে, জাহাঙ্গীর আলম নিজের পিস্তল দিয়ে গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে এর সুনির্দিষ্ট নেপথ্য কারণ সম্পর্কে তিনিও কোনো তথ্য দিতে পারেননি। তিনি উল্লেখ করেন যে, মৃত ব্যক্তির আত্মীয়স্বজন ও এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে এই আকস্মিক ঘটনার পেছনের কারণ উদ্ঘাটনের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর