নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
পুলিশ সদর দপ্তর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রেরিত এক পত্রে নির্দিষ্ট এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের জোরালো দাবি জানানো হয়েছিল। ওই আদেশের সূত্র ধরে এ বছরের পনেরোই এপ্রিল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একটি দাপ্তরিক মামলা দায়ের করা হয়। আনীত অভিযোগের প্রেক্ষাপটে তাঁকে একটি ব্যাখ্যা চাওয়ার নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি কোনো ধরনের লিখিত উত্তর প্রদান করা থেকে বিরত থাকেন। এমনকি লিখিত জবাব পাঠানোর জন্য নির্দিষ্ট কোনো বর্ধিত সময়ের আবেদনও তিনি করেননি।
উত্থাপিত অভিযোগগুলোর ভয়াবহতা ও গুরুত্ব বিবেচনা করে গত বাইশে জুন একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত তদন্তকারী কর্মকর্তা নিযুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে বিগত ছয় আগস্ট পেশকৃত তদন্তের নথিপত্রে সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা আঠারোর তিনের গ ধারা অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে বিনা অনুমতিতে কর্মক্ষেত্র ত্যাগের বিষয়টি সম্পূর্ণ প্রমাণিত হয়েছে মর্মে উল্লেখ করা হয়। অতঃপর বিশ আগস্ট তাঁকে দ্বিতীয় দফায় পুনরায় কারণ দর্শানোর চিঠি পাঠানো হয়। কিন্তু তিনি পূর্বের ন্যায় এই নোটিশেরও কোনো সন্তোষজনক উত্তর প্রদান করেননি।
অভিযুক্ত এই কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে চিরতরে অপসারণের মতো কঠোর শাস্তি প্রদানের প্রক্রিয়া সম্পর্কে দেশের সরকারি কর্ম কমিশনের নিকট সুনির্দিষ্ট মতামত কামনা করে প্রশাসন। গত পহেলা অক্টোবর সংশ্লিষ্ট কমিশন অভিযুক্ত ব্যক্তিকে চাকরিচ্যুত করার ব্যাপারে তাদের চূড়ান্ত সুপারিশমালা সরকারের কাছে প্রেরণ করে।
খ্রিষ্টীয় গত পঁচিশ অক্টোবর মহামান্য রাষ্ট্রপতি এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে তাঁর সানুগ্রহ অনুমোদন প্রদান করেন। প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করা হয় যে, দাপ্তরিক মামলার সমস্ত নথিপত্র, পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের প্রতিবেদন এবং পিএসসির সুচিন্তিত মতামত গভীরভাবে বিশ্লেষণ করার পরই তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এই অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে একই ধরনের অপরাধমূলক প্রবণতা অর্থাৎ নিজ নিজ কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার গুরুতর অপরাধে আরও ছয়জন উচ্চপদস্থ ও মাঝারি সারির পুলিশ কর্মকর্তাকেও সরাসরি চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত এই ব্যক্তিবর্গ হলেন রাজশাহী অঞ্চলের সাবেক উপমহাপরিদর্শক মো. আনিসুর রহমান, পর্যটন পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি শ্যামল কুমার মুখার্জী, উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুরের সাবেক পুলিশ সুপার তারেক বিন রশিদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তা এস এম জাহাঙ্গীর হাছান, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার পদাধিকারী মো. মনিরুজ্জামান সরকার এবং ট্রাফিক বিভাগের সহকারী পুলিশ সুপার ফারহানা তাসকিন।
রাষ্ট্রীয় প্রজ্ঞাপনে তাঁদের সবাইকে চাকরিচ্যুত করার সুনির্দিষ্ট কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে কর্মক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে অনুপস্থিত থাকা, চরম অসদাচরণ এবং আইনগত অনুমতি ছাড়া বিদেশ ভ্রমণ শেষে পুনরায় নিজ চাকরিতে আর যোগদান না করার সুনির্দিষ্ট বিষয়গুলো।
অন্যদিকে, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তেজগাঁও অঞ্চলের সাবেক সহকারী কমিশনার কাজী মিজানুর রহমানকে ভিন্ন এক অভিযোগে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে পরকীয়া বা বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অনৈতিক অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। জারি করা প্রজ্ঞাপনে এই কর্মকাণ্ডকে গুরুতর অসদাচরণ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর